বাবরি মসজিদের পাশাপাশি তৈরি হবে হাসপাতাল ও বিশ্ববিদ্যালয়, ঘোষণা হুমায়ুনের
জন উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীর ঘোষণা করে দিলেন বাবরি মসজিদের পাশাপাশি হাসপাতাল ও বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করা হবে।
"মুসলিম সম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে" আয়োজিত তিন দিনের এক অনুষ্ঠানে তিনি এই কথা জানান, যা ৫ জানুয়ারি অবধি চলবে।

হুমায়ুন কবীর জোর দিয়ে বলেন, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য জনগণের সেবা। তাঁর কথায়, "এখানে একটি বাবরি মসজিদ নির্মাণ করা হবে, একটি হাসপাতাল হবে, একটি বিশ্ববিদ্যালয় হবে, এবং জনগণের উপকারের জন্য সুবিধা তৈরি করা হবে।" মসজিদের নির্মাণে বিভিন্ন জাতি-ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, "সব জাতের মানুষ এখানে তাঁদের জিনিসপত্র নিয়ে এসেছেন এবং ব্যবসা করছেন। আমি কাউকে বাধা দিইনি।"
কবীর আরও নিশ্চিত করেন যে, মসজিদটি তৈরি হলে প্রতি শুক্রবার সেখানে নির্বিঘ্নে নামাজ পড়া যাবে। তিনি জানান, "মসজিদের নির্মাণ কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে, এবং এটি শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রতি শুক্রবার এখানে নামাজ পড়া হবে... এখানে আমাদের নামাজ পড়া থেকে আটকানোর সাহস কারো নেই।" এই ঘোষণার দিন প্রচুর সংখ্যক মানুষ নামাজ আদায় করতে সমবেত হয়েছিলেন।
এদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় হুমায়ুন কবীরের এই ঘোষণা নিয়ে কড়া কটাক্ষ করেছেন। এর আগে, বাবরের নামে মুর্শিদাবাদে মসজিদ বানানোর পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করায় টিএমসি হুমায়ুন কবীরকে দল থেকে বরখাস্ত করে।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন তোলেন, "এই (বাবরি মসজিদ) কোথায় তৈরি হচ্ছে? আমি কোনও নির্মাণ কাজ শুরু হতে দেখছি না।" তিনি যোগ করেন, "যদি মন্দির-মসজিদ ইস্যুতে রাজনীতি করতে চায়, তাহলে তাদের আর বিজেপির মধ্যে পার্থক্য কী? বিজেপি মন্দির নির্মাণের বিষয়ে রাজনীতি করেছে, আর তারা মসজিদ নির্মাণের বিষয়ে রাজনীতি করছে।"
তৃণমূল নেতা স্মরণ করিয়ে দেন, হুমায়ুন কবীর এক সময় বিজেপির প্রার্থী ছিলেন, যে দলটি "মসজিদ ভেঙেছিল"। তিনি বলেন, "হুমায়ুন কবীর একজন প্রাক্তন বিজেপি প্রার্থী। বাবরি মসজিদের ঘটনা ১৯৯২ সালে ঘটেছিল, কিন্তু তিনি ২৭ বছর ধরে এটা বোঝেননি এবং সেই বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন, যারা মসজিদটি ভেঙেছিল।"
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মত দেন, সবার ধর্মীয় স্থান তৈরির অধিকার থাকলেও, এর মধ্যে রাজনীতি আনা ঠিক নয়। তিনি পরামর্শ দেন, "যদি আপনি রাজনীতিতে থাকেন, তবে এর বদলে হাসপাতাল ও স্কুল তৈরি করুন," ধর্মীয় বিতর্কের পরিবর্তে উন্নয়নমূলক কাজকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান। তারপরই এদিন ঘোষণা হুমায়ুনের।












Click it and Unblock the Notifications