Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

ঘরছাড়াদের ক্যাম্পে রাজ্যপাল, ঢুকতে বাধা সংবাদমাধ্যমকে, রণক্ষেত্র বৈষ্ণবনগর!

মুর্শিদাবাদে ওয়াকফ সংক্রান্ত অশান্তির জেরে ঘরছাড়া একাধিক পরিবার বর্তমানে আশ্রয় নিয়েছেন মালদহ জেলার বৈষ্ণবনগরের পারলালপুর হাইস্কুল ক্যাম্পে। শুক্রবার বিকেলে রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস ওই ক্যাম্পে ঘরছাড়াদের সঙ্গে দেখা করতে গেলে পরিস্থিতি উত্তাল হয়ে ওঠে। ক্যাম্পের বাইরে ভিড় করেন বহু গ্রামবাসী, যাঁরা রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করতে চাইলেও পুলিশ বাধা দেয়, যার ফলে শুরু হয় তুমুল বিক্ষোভ।

গ্রামবাসীদের অভিযোগ, ক্যাম্পে থাকা ঘরছাড়া মানুষদের বন্দির মতো রাখা হয়েছে। তাঁদের বাইরে বেরোতে দেওয়া হচ্ছে না, এমনকি এলাকার মানুষদের সঙ্গেও কথা বলতে দেওয়া হচ্ছে না। শিবির চত্বর ঘিরে দেওয়া হয়েছে ব্যারিকেড দিয়ে। রাজ্যপালের কাছ থেকে কী আশ্বাস মিলছে, তা জানতে চাওয়ার অধিকারও তাঁদের নেই বলে ক্ষোভ উগরে দেন স্থানীয়রা।

school

পুলিশকে লক্ষ্য করে স্লোগান ওঠে, চলে ধাক্কাধাক্কি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে কার্যত হিমশিম খেতে হয়। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, ওখানে কী এমন কথা হচ্ছে, যে সাংবাদিকদেরকেও ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। আর তা নিয়েই রীতিমতো উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি।

এদিন মুখ্যমন্ত্রীর 'না' সত্ত্বেও রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস মালদহের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। দুপুরে মালদহ টাউন স্টেশনে পৌঁছে সোজা চলে যান পারলালপুর হাইস্কুলে। তিনি সাংবাদিকদের জানান, "মুর্শিদাবাদ যাচ্ছি না, আগে শিবিরে থাকা ঘরছাড়াদের সঙ্গে দেখা করব"।

এদিন তাঁদের সাথে দেখা করার পরও সেই অর্থে কিছু প্রতিক্রিয়া দেননি রাজ্যপাল। শুধু বলেন, "সবার কথা শুনেছি। তাঁদের অভিজ্ঞতার কথা শুনেছি"। এর থেকে বেশি এদিন আর কিছু বলতে চাননি রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস।

শুক্রবার শিবিরে যখন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের প্রতিনিধি দল উপস্থিত হয়, তখনও অশান্তি চরমে ওঠে। ঘরছাড়ারা জানান, সারারাত তাঁরা ঘুমোতে পারেননি। তাঁদের সন্দেহ, জোর করে কোথাও তুলে নিয়ে যাওয়া হতে পারে। এক বৃদ্ধা কাঁদতে কাঁদতে বলেন, "ভিটেমাটি হারিয়েছি। এখন যদি তুলে নিয়ে যায়, কোথায় যাবো?"

তাঁদের অভিযোগ, সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যাতে কথা বলতে না পারেন, সে কারণে ক্যাম্পের চারদিক ত্রিপল দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। প্রতিবাদে ঘরছাড়ারা সেই ত্রিপল ছিঁড়ে দেন। এমনকি তাঁদের নিজেদের আত্মীয়দের পর্যন্ত তাঁদের সাথে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। এমনকি সাংবাদিকদেরও তাঁদের সাথে কথা বলতে দিচ্ছে না।

বৈষ্ণবনগরের স্থানীয়রা যারা ঘরছাড়া মানুষদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাঁদেরও বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এক স্থানীয় মহিলা বলেন, "ওদের যাতে তুলে নিয়ে না যায়, তার জন্য সারারাত পাহারা দিয়েছি"। অন্য এক নারী বলেন, "আমাদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে, কিছু বললে ফল ভালো হবে না"।

মুর্শিদাবাদে ধর্মীয় অশান্তির রেশ গড়িয়ে পড়েছে মালদহ পর্যন্ত। ঘরছাড়া পরিবারগুলোর নিরাপত্তা, মানবাধিকার ও মৌলিক অধিকার ঘিরে যে প্রশ্ন উঠেছে, তা এবার রাজ্য-রাজনীতির কেন্দ্রে। রাজ্যপালের সফর পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করেছে। প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপের মাঝেও মানবিক সঙ্কট আরও প্রকট হয়ে উঠছে। এখন দেখার, কীভাবে এই সঙ্কটের সমাধানে এগোয় রাজ্য ও কেন্দ্রীয় প্রশাসন।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+