Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

কোন ভাবনা থেকে বঙ্কিমচন্দ্রের কলমে ঝরেছিল 'বন্দেমাতরম', জেনে নিন সেই ইতিহাস

কোন ভাবনা থেকে বঙ্কিমচন্দ্রের কলম থেকে ঝরেছিল 'বন্দেমাতরম', জেনে নিন সেই ইতিহাস

ভারতের স্বাধীনতার দিন তেরঙা উত্তোলন যতটা প্রাসঙ্গিক, ঠিক ততটাই দরকারি বন্দেমাতরমের সুর-ঝংকার। পরাধীনতার নাগপাশ থেকে মুক্ত হওয়ার রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ, স্বাধীনতা লাভ ও দেশের অগ্রগতির ক্ষেত্রে এ গানের মহাত্ম্য কতটা, তা কেবল ভারতীয়রাই জানেন। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা এই গান এখনও যতটা প্রাসঙ্গিক, আগামী দিনেও তা থাকবে বলে আশা করা যায়। কিন্তু জানেন কি কোন ভাবনা থেকে এই কালজয়ী গান লিখেছিলেন বাঙালি ঔপন্যাসিক।

বন্দেমাতরমের ইতিহাস

বন্দেমাতরমের ইতিহাস

গানটি কবে লিখেছেন বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, তা জানা না গেলেও, ১৮৮২ সালে লেখকের রচিত বিখ্যাত আনন্দমঠ উপন্যাসের বড় অংশ জুড়ে সেটি স্থান পায়। যাকে শ্রীঅরবিন্দ বঙ্গদেশের জাতীয় সংগীত বলে উল্লেখ করেছিলেন। ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে বন্দেমাতরমের গুরুত্ব ছিল ব্যাপক। ১৮৯৬ সালে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের অধিবেশনে সর্বপ্রথম রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গাওয়া হয়েছিল গানটি। যা পরিবেশন করেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। ১৯৫০ সালে সেই তাঁরই লেখা 'জন-গণ-মন' ভারতের জাতীয় সংগীতের মর্যাদা লাভ করেছিল। বন্দে মাতরম গানটিকে ভারতীয় প্রজাতন্ত্রের জাতীয় স্তোত্রের মর্যাদা দেওয়া হয়েছিল।

গান রচনার প্রেক্ষাপট

গান রচনার প্রেক্ষাপট

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় যে জীবনের শুরু থেকেই দেশের প্রতি নিবেদিত প্রাণ ছিলেন, তা বলা ভুল হবে। ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহের সময় কলেজে পাঠরত বাঙালি ঔপন্যাসিক বরং ব্রিটিশদের উন্নয়নমূলক ভাবনার প্রতি আকৃষ্ট হয়েছিলেন এবং বিএ পাসের পর বাবার দেখানো পথে হেঁটে সরকারি চাকরিতে যোগ দিয়েছিলেন। ১৮৭৩ সালে ব্রিটিশ শাসিত মুর্শিদাবাদের বহরমপুরে ডেপুটি কালেক্টরের পদে নিযুক্ত ছিলেন বঙ্কিমচন্দ্র। ব্রিটিশ মিলিটারি অফিসার কর্নেল ডাফিনের সঙ্গে ছিল তাঁর শত্রুতা। একদিন সপারিষদ ওই বাঙালি লেখক সরকারি গাড়িতে যে মাঠের ওপর দিয়ে দফতর থেকে বাড়ি ফিরছিলেন, সেখানে ক্রিকেট খেলছিলেন ডাফিন। বঙ্কিমচন্দ্রের গাড়ি প্রবেশের পর কিছুক্ষণের জন্য স্থগিত রাখতে হয়েছিল ম্যাচ। তাতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ব্রিটিশ মিলিটারি অফিসার বাঙালি ঔপন্যাসিককে (তৎকালীন সরকারি অফিসার) গাড়ি থেকে নামিয়ে মারধর করেছিলেন। ক্ষিপ্ত বঙ্কিমচন্দ্র অপমানিত হয়ে আদালতের দরজায় কড়া নেড়েছিলেন। ১৮৭৪ সালে বিচারকের নির্দেশে নিজের ঔদ্ধত্যের জন্য প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়েছিলেন ডাফিন। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়িয়েছিল গোটা জেলা।

রাজবাড়িতে গান

রাজবাড়িতে গান

ইতিমধ্যে ক্ষিপ্ত ডাফিন বঙ্কিমচন্দ্রের বিরুদ্ধে চক্রান্ত শুরু করেছিল। তা জানার পরেই বাঙালি লেখককে (তৎকালীন সরকারি অফিসার) বহরমপুর ছেড়ে লালগোলায় নিজের প্রসাদে থাকার পরামর্শ দিয়েছিলেন রাজা যোগীন্দ্র নারায়ণ। সেখানে থাকাকালীন ধার্মিক চিন্তায় মগ্ন হয়েছিলেন বঙ্কিমচন্দ্র। শোনা যায়, এক কালী মূর্তি প্রত্যক্ষ করে দেশের মানুষের দুঃখ ও দুর্দশা তিনি অনুভব করেছিলেন। সেখান থেকেই বন্দেমাতরম গানটি লেখার চিন্তা বঙ্কিমচন্দ্রের মাথায় আসে বলেও শোনা যায়। গানটি প্রথমে সংস্কৃতে লেখা হয়েছিল এবং পরে তার বাংলা অনুবাদ করা হয়েছিল। সুরারোপ করছিলেন যদুভট্ট।

স্বাধীনতা সংগ্রামে বন্দেমাতরম

স্বাধীনতা সংগ্রামে বন্দেমাতরম

বন্দেমাতরম ব্রিটিশ শাসনের হাত থেকে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের জাতীয় ধ্বনিতে পরিণত হয়েছিল। ব্রিটিশ সরকার জনসমক্ষে এই গান গাওয়া নিষিদ্ধ করে দিয়েছিল। ১৯০১ সালের কংগ্রেসের কলকাতা অধিবেশনে গানটি পরিবেশন করেছিলেন দক্ষিণাচরণ সেন। চার বছর পর কংগ্রেসের বারাণসী অধিবেশনে গানটি পরিবেশন করেছিলেন সরলা দেবী চৌধুরাণী। লাহোর থেকে বন্দে মাতরম নামক একটি সাময়িকপত্র প্রকাশ করতেন লালা লাজপত রায়। ১৯০৫ সালে হীরালাল সেন ভারতের বুকে যে প্রথম রাজনৈতিক চলচ্চিত্রটি নির্মাণ করেছিলেন, তার সমাপ্তি হয়েছিল বন্দেমাতরম দিয়ে। ১৯০৭ সালে ভিখাজি কামা ভারতের প্রথম জাতীয় পতাকার যে রূপদান করেছিলেন, তার মাঝের ব্যান্ডে দেবনাগরী হরফে বন্দেমাতরম শব্দটি লেখা ছিল বলে জানাচ্ছে ইতিহাস।

খবরের ডেইলি ডোজ, কলকাতা, বাংলা, দেশ-বিদেশ, বিনোদন থেকে শুরু করে খেলা, ব্যবসা, জ্যোতিষ - সব আপডেট দেখুন বাংলায়। ডাউনলোড Bengali Oneindia

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+