আপাতত বাংলায় কিষাণ সম্মান নিধির টাকা দেওয়া বন্ধ হোক, মোদীকে বিস্ফোরক চিঠি দিলীপের
দীর্ঘ জটিলতা! টাকা পাওয়া নিয়ে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত। রাজ্যের গাফিলতিতেই প্রধানমন্ত্রী কিসান সম্মান নিধির টাকা রাজ্যের কৃষকরা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ তুলেছে বিজেপি। এমকি বাংলার ভোটেও এই বিষয়টিকেই ইস্যু করেন প্রধানমন্ত্রী।
দীর্ঘ জটিলতা! টাকা পাওয়া নিয়ে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত। রাজ্যের গাফিলতিতেই প্রধানমন্ত্রী কিসান সম্মান নিধির টাকা রাজ্যের কৃষকরা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ তুলেছে বিজেপি। এমকি বাংলার ভোটেও এই বিষয়টিকেই ইস্যু করেন প্রধানমন্ত্রী।

ক্ষমতায় আসলে বকেয়া টাকা সহ ১৮ হাজার টাকা দেওয়ার কথা বলা হয়। কিন্তু ভোটের ফলাফলে কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে বিজেপি। যদিও দীর্ঘ টালমাটালের পর অবশেষে বাংলার কৃষকদের এই টাকা দিয়েছে কেন্দ্র। আর সে টাকা আপাতত বন্ধ রাখার আবেদন রাজ্য বিজেপির।
এই মর্মে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। যে চিঠিতে দিলীপ ঘোষ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, প্রধানমন্ত্রী কিসান সম্মান নিধি প্রকল্পের আওতায় কৃষকদের যে আর্থিক সাহায্য দেওয়ার ক্ষেত্রে রাজ্যে দুর্নীতি হতে পারে বলে।
আর সে কারনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে বাংলার কৃষকদের আপাতত পরবর্তী কিস্তির টাকা দেওয়া বন্ধ করার আর্জি জানালেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ।
উপভোক্তাদের সঠিক তালিকা তৈরির জন্য রাজ্যে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের একটি দল পাঠানোর দাবিও জানিয়েছেন দিলীপ। আর এই চিঠি ঘিরেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। শাসকদলের দাবি, বিজেপি বাংলায় হেরে যাওয়ার পর থেকে প্রতিহিংসার রাজনীতি করছে।
এবার বাংলার কৃষকদের টাকা বন্ধ করে দিতে চাইছে। যোগ্য জবাব কৃষকরা ফের বিজেপিকে দেবে বলে দাবি তৃণমুলের। তবে দিলীপ ঘোষ যে চিঠি প্রধানমন্ত্রীকে দিয়েছেন তাতে কী কী ধরনের দুর্নীতি হতে পারে তা জানিয়েছেন। বিশেষভাবে ৪টি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।
পাশাপাশি নরেন্দ্র মোদীকে ৬টি পরামর্শও দিয়েছেন দিলীপ। সেই পরামর্শেই বলা হয়েছে, রাজ্যের পাঠানো কৃষকদের তালিকা যেন ভাল করে পরীক্ষা করা হয় কেন্দ্রের তরফে। আর সেটা না হওয়া পর্যন্ত বাংলায় পরের দফার টাকা পাঠানো বন্ধ থাকুক। বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার পর্বে বিভিন্ন কেন্দ্রীয় প্রকল্প কার্যকরের ক্ষেত্রে রাজ্যে নানা দুর্নীতি হয় বলে অভিযোগ তুলেছিল।
একই সঙ্গে বিজেপির রাজ্য সভাপতির দাবি, রাজ্যে এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে ২৩ লাখ কৃষক নির্দিষ্ট পোর্টালে আবেদন করলেও প্রথম দফার টাকা পেয়েছেন ৭ লাখ চাষি। বাকি কৃষকদের ক্ষেত্রে রাজ্য সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়নি বলে দাবি দিলীপের।
এ ছাড়াও নিজের চিঠিতে 'সিন্ডিকেট রাজ', 'কাটমানি' প্রসঙ্গের উল্লেখ করেছেন দিলীপ। তাঁর দাবি, বাংলায় সুবিধা পাওয়ার যোগ্য অনেক কৃষককে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হতে পারে। এই প্রকল্পের ক্ষেত্রে তৃণমূল সরকার তোষণের পথে হাঁটতে পারে বলেও চিঠিতে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন দিলীপ।
একই সঙ্গে দিলীপ লিখেছেন, এই প্রকল্পের ক্ষেত্রে আধার কার্ড বাধ্যতামূলক হলেও তা বাংলার ক্ষেত্রে সঠিক হবে না। কারণ, এই রাজ্যে তৃণমূল নেতাদের সহযোগিতায় অনেক অনুপ্রবেশকারীর কাছেও আধার কার্ড রয়েছে।
এই সব আশঙ্কা জানানোর পরেই দিলীপ লিখেছেন, আপাতত টাকা পাঠানো বন্ধ করে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে রাজ্যের পাঠানো তালিকা পরীক্ষা করে দেখা হোক। সেই সঙ্গে গোটা তালিকা 'পিএম কিসান' পোর্টালে দেওয়া হোক।
এছাড়াও আরও বেশ কিছু পরামর্শ দেওয়া হয়েছে দিলীপ ঘোষের তরফে।












Click it and Unblock the Notifications