মুকুলের সঙ্গে বিভাজন ও সন্দেহ বাতাবরণ তৈরি করছে তৃণমূল! দিলীপের মন্তব্যে জল্পনা
মুকুলের সঙ্গে বিভাজন ও সন্দেহ বাতাবরণ তৈরি করছে তৃণমূল! দিলীপের মন্তব্যে জল্পনা
আগেও তৃণমূলের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছিল বিজেপি। প্রশান্ত কিশোরকেও একই অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছিল। অর্জুন সিং ও তথাগত রায়ের পর এবার বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ নিশানা করলেন তৃণমূলকে। তিনি বলেন, তৃণমূল পরিকল্পিতভাবে মুকুল রায়ের বিভাজন ঘটাতে চাইছে বিজেপির।

বিজেপিতে গিয়ে কাজের পরিসর পাচ্ছেন না মুকুল!
সূত্রের খবর, তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে গিয়ে কাজের পরিসর পাচ্ছেন না মুকুল রায়। নিজেকে মানিয়ে নিতে সমস্যা হচ্ছে। মুকুলবাবু নিজেও বেশ অস্বস্তিতে আছেন বলে অভিযোগ। এই অবস্থায় বারেবারে তাঁর পুরনো দল তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ হচ্ছে বলেও গুঞ্জন ছড়িয়েছে। তবে মুকুল রায় বা তৃণমূল কেউই সমর্থন করেনি এ ধরনের কথাবার্তা।

‘বিভাজনের রাজনীতি করে মনোবল ভাঙার চেষ্টা’
তবে বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ ফের এ ব্যাপারে মুখ খুলেছেন। তিনি বলেন, ভোট যত এগিয়ে আসছে, আমাদের দলের মধ্যে বিভাজন ও পরস্পরের প্রতি সন্দেহের বাতাবরণ তৈরির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তৃণমূল। তাঁরা এভাবে বিভাজনের রাজনীতি করে আমাদের মনোবল ভাঙার চেষ্টা করছে। সরাসরি রাজনীতি ছেড়ে তৃণমূল এই কূটকৌশল অবলম্বন করেছে।

তৃণমূলের বিরুদ্ধে আঙুল তুললেন রাজ্য সভাপতি দিলীপ
দিলীপে্র এই মন্তব্যে গোটা বিষয়টি এক অন্য মাত্রা পেয়েছে। এর আগে অর্জুন সিংরা তৃণমূল বা প্রশান্ত কিশোরের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তুলেছিলে্ন। প্রশান্ত কিশোর কৌশলগতভাবে মুকুল-দিলীপের দূরত্ব তৈরি করার জন্য নানা পরিকল্পনা করছেন বলে তাঁদের অভিযোগ ছিল। এবার খোদ রাজ্য সভাপতি এই অভিযোগ করলেন।

তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় কটাক্ষ দিলীপকে
দিলীপ ঘোষের মন্তব্যের পর তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় কটাক্ষ করেন, দিলীপবাবু কি চান মুকুল রায়ের নাম তৃণমূল বিধায়ক খুনের মামলায় চার্জশিটে থাকুক। মুকুল রায় তো সারদা-নারদ মামলাতেও সন্দেহভাজন, এখনও অভিযুক্ত নন। দিলীপবাবুর এ কথা্ও কিন্তু জেনে রাখা উচিত।

মুকুল রায় নিজেও মুখ খুলেছেন, কী জানালেন তিনি
মুকুল রায়ও এ বিষয়ে মুখ খুলেছেন। তিনি বলেন, সত্যজিৎ বিশ্বাস খুনের মামলায় আদৌ চার্জশিটে আমার নাম আছে, কি নেই, কেন সন্দেহভাজন হিসেবে আমার নাম রাখা হয়েছে, এসব কিছুই আমি জানি না। তবে এটুকু বলতে পারি, পুলিশ-প্রশাসন যতই প্রভুভক্তি দেখাক, একদিন প্রভু সরকার চলে যায়।

মুকুলকে খড়্গহস্ত হতে দেখা যায়নি তৃণমূলের বিরুদ্ধে
উল্লেখ্য, করোনাকালে মুকুল রায়কে তৃণমূলের বিরুদ্ধে খড়্গহস্ত হতে দেখা যায়নি। মুকুল রায়কে সেভাবে দেখা যায়নি বিজেপির কোনও অনুষ্ঠানেও। সম্প্রতি কৈলাশ বিজয়বর্গীয় রাজ্যে আসার পর মুকুল রায়কে দু-একটি কর্মসূচিতে দেখা গিয়েছে। তার মধ্যে জঙ্গলমহলে গিয়ে খানিকটা সরব হন মুকুল রায়।

মুকুল রায়ের নাম চার্জশিটে নেই, জল্পনা তুঙ্গে
মুকুল রায় যে বিজেপিতে থেকেও তৃণমূলের প্রতি নরম মনোভাব দেখাচ্ছেন, তার ফলও পেয়েছেন হাতেনাতে। সম্প্রতি তৃণমূল বিধায়ক সত্যজিৎ বিশ্বাস খুনের মামলায় চার্জশিটে বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকারের নাম থাকলেও, মুকুল রায়ের নাম অভিযুক্ত হিসেবে রাখা হয়নি। তাঁকে রাখা হয়েছে সন্দেহভাজন বলে।

ডাল মে কুছ কালা হ্যায়, মিলল তিন মাস সময়
সিআইডি এখনও মুকুল রায়ের বিরুদ্ধে তদন্ত করার জন্য সময় চেয়েছে। আর আদালত এ জন্য তিন মাস সময় মঞ্জুর করেছে। সিআইডির এহেন নরম মনোভাবে রাজনীতি র অন্য গন্ধ পাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। রাজনৈতিক মহলে তাই চর্চা শুরু হয়েছে, এক যাত্রায় পৃথক ফল হয় কী করে! তবে কি ডাল মে কুছ কালা হ্যায়।












Click it and Unblock the Notifications