আম্ফান থেকে শিক্ষা নিয়ে cesc-wbsedcl কে বাড়তি কর্মী রাখার নির্দেশ! নেওয়া হচ্ছে আরও একগুচ্ছ ব্যবস্থা
আগামী সপ্তাহের প্রথমেই সম্ভবত বাংলাতে হানা দেবে ঘূর্ণিঝড় ইয়াস। আর সেই ঘূর্ণিঝড় নিয়ে উদ্বিগ্ন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস পাওয়া মাত্র বৈঠকে বসেন উদ্বিগ্ন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগে
আগামী সপ্তাহের প্রথমেই সম্ভবত বাংলাতে হানা দেবে ঘূর্ণিঝড় ইয়াস। আর সেই ঘূর্ণিঝড় নিয়ে উদ্বিগ্ন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস পাওয়া মাত্র বৈঠকে বসেন উদ্বিগ্ন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগে থেকে প্রস্তুতির নির্দেশ প্রশাসনকে।

নবান্নের শীর্ষ কর্তা থেকে জেলা প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ইতিমধ্যে আলিপুর হাওয়া অফিসের তরফে নবান্নকে ঝড়ের সমস্ত তথ্য দেওয়া হচ্ছে।
আর এই তথ্য পাওয়ার পরেই বুধবার জরুরি বৈঠক করেন। জানা যাচ্ছে, আজ বৃহস্পতিবারও দফায় দফায় বৈঠক করেছেন মমতা।
অন্যদিকে কলকাতা পুলিশের তরফেও জরুরি অবস্থায় বৈঠক করা হয়। ঘূর্ণিঝড় ইয়াস থেকে সতর্ক ও প্রস্তুত থাকার জন্য আজ বৃহস্পতিবার পুলিশ কমিশনার সৌমেন মিত্র কলকাতার সব থানার ওসি ও ডিসিদের নিয়ে বৈঠক করেন। অনলাইনের মাধ্যমে এই বৈঠক হয়।
এই বৈঠকে পুলিশ কমিশনার সব থানার ওসিরা এদিন উপস্থিত ছিলেন। সেই বৈঠকে একগুচ্ছ নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশ কমিশনার। আমফানের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েই আগেভাগে একগুচ্ছ নির্দেশিকা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে পুলিশের তরফে।
সোমবার থেকেই ঝড়ের প্রভাব শুরু হয়ে যাবে। সেদিকে তাকিয়ে আগেভাগেই ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পুলিশের তরফে বলা হয়েছে। যেমন পুরসভা, দমকল, সিএসসি, বিপর্যয় মোকাবিলা দল প্রত্যেকের সঙ্গে সুষ্ঠু যোগাযোগ রাখতে হবে।
থানায় রাখতে হবে রেন জ্যাকেট, গামবুট, করাত, ইলেকট্রিক করাত, হেলমেট সহ জরুরী সরঞ্জাম।
প্রত্যেক থানা এলাকায় যে সব সরকারি-বেসরকারি, কোভিড, নন কোভিড হাসপাতাল আছে, সেখানে জেনারেটর ও অক্সিজেন সাপ্লাই ঠিক রয়েছে কি-না সে বিষয়ে খোঁজ নিতে হবে। যেসব থানা এলাকায় পুরনো বাড়ি রয়েছে সেখানকার বাসিন্দাদের প্রয়োজনে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলতে হবে।
cesc কিংবা wbsedcl দুই সংস্থাকে বলতে হবে তারা যেন পর্যাপ্ত সংখ্যক কর্মী আগাম প্রস্তুত রাখার ব্যবস্থা করে। গতবার আমফানের পর কর্মী অভাবে গোটা শহরে বিদ্যুৎসংযোগ ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছিল।
দিনের পর দিন অন্ধকারে ডুবে ছিল শহর।
শুধু শহর নয়, আশেপাশের অঞ্চলও দিনের পর দিন কারেন্ট আসেনি। ফলে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ গরে পড়ে জন প্রতিনিধি থেকে পুলিশ আধিকারিকদের উপর। আর তাই আগেভাগে দুই বিদ্যুৎ সরবরাহকারী সগস্থাকে বাড়তি কর্মী রাখতে নির্দেশ। অন্যদিকে রাস্তার ম্যানহোল পরিষ্কার রাখতে হবে বলে নির্দেশিকাতে বলা হয়েছে। যাতে দ্রুত জমা জল নামতে পারে।
এ বিষয়ে পুরসভার সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। সমস্ত থানার ওসিদের নির্দেশ পুলিশ আধিকারিকদের। কোথাও যাতে বিপজ্জনকভাবে বিদ্যুতের তার বেরিয়ে না থাকে সে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। এমনই একগুচ্ছ ইর্দেশিকা দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে আবহাওয়া দফতর (weather office) জানিয়েছে যে ২২ মে নাগাদ উত্তর আন্দামান সাগর এবং পূর্ব মধ্য বঙ্গোপসাগরে একটি নিম্নচাপ (low pressure) তৈরি হতে চলেছে। যা ২৪ মে নাগাদ ঘূর্ণিঝড় ইয়াস (cyclone yaas)-এ পরিণত হবে। উত্তর পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে তা ২৬ মে সকাল নাগাদ ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে।
এটা উল্লেখ করা প্রয়োজন নিম্নচাপই হোক কিংবা ঘূর্ণিঝড় প্রতিনিয়ত তাদের অবস্থান পরিবর্তন করতে পারে। বুধবার আলিপুর আবহাওয়া দফতরের তরফে জানানো হয়েছিল ২৬ মে বিকেলে পশ্চিমবঙ্গের উপকূলে আছড়ে পড়তে পারে ঘূর্ণিঝড় ইয়াস। কিন্তু একদিনের মধ্যে অর্থাৎ বৃহস্পতিবার দুপুরে দেওয়া বার্তায় আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, তা উপকূলে আঘাত হানতে পারে ২৬ মে সকালে।
এই নিম্নচাপ এবং পরবর্তীতে ঘূর্ণিঝড় পরিস্থিতির মধ্যে হাল্কা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত হতে পারে রাজ্যের উপকূলের জেলাগুলিতে। কোনও কোনও জায়গায় ভারী বৃষ্টিপাতও হতে পারে। ২৫ মে থেকে এই বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাড়বে এবং তা গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে জেলাগুলিতে ছড়িয়ে পড়বে।
২৩ মে নাগাদ আন্দামান সাগর এবং সংলগ্ন পূর্ব মধ্য বঙ্গোপসাগরে হওয়া ঝড়ের বেগ থাকতে পারে ঘন্টায় ৬৫ কিমি বেগে। কিন্তু তা ২৪ ঘন্টার মধ্যেই বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা। হতে পারে ঘন্টায় ৭০ কিমি বেগে। ২৪ মে নাগাদ এই বেগ হতে পারে ঘন্টায় ৮৫ কিমি। যা হতে পারে মধ্য বঙ্গোপসাগরে।
২৫ মে যার বেগ আরও বাড়বে। অন্যদিকে উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং ওড়িশ-পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ উপকূলে ২৫ মে বিকেল নাগাদ তার বেগ থাকতে পারে ঘন্টায় ৬০ কিমি। তবে ২৬ তারিখ সকালের আগে আরও বাড়বে।












Click it and Unblock the Notifications