পঞ্চায়েতের ধাক্কায় কঠোর হচ্ছে তৃণমূল, কোপ ব্লক সভাপতিদের উপর, সরতে হল কাদের
জঙ্গলমহলই এখন অনেকাংশে মুখ ফিরিয়ে এই অঞ্চলে জয় পেয়েছে বিজেপি। আর তার প্রভাব এসে পড়ল তৃণমূলের সংগঠনে।
পঞ্চায়েত ভোটে জঙ্গলমহলে ধাক্কা খেয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। রাজ্যে ক্ষমতায় এসেই যে জঙ্গলমহলে উন্নয়নের বন্যা বইয়ে দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সেই জঙ্গলমহলই এখন অনেকাংশে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে তৃণমূলের থেকে। ফলে তৃণমূলকে হারিয়ে এই অঞ্চলে জয় পেয়েছে বিজেপি। আর তার প্রভাব এসে পড়ল তৃণমূলের সংগঠনে।

তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব সিদ্ধান্ত নিল সংগঠনে রদবদল করার। আর এই রদবদল করতে গিয়ে প্রথমেই কোপ পড়ছে ব্লক সভাপতিদের উপর। পুরুলিয়া চার তৃণমূল ব্লক সভাপতিকে আগেই সরানো হয়েছিল। এবার সরানো হল বাঁকুড়ার দুই ব্লক সভাপতিকে। পঞ্চায়েত ভোটে আশানুরূপ ফল করতে না পারায় সরে যেতে হল তাঁদের, এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতির বিশেষজ্ঞরা।
বাঁকুড়ার ইন্দ্রপুর ও সিমলাপাল ব্লকের তৃণমূল সভাপতিকে সরানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আগে পুরুলিয়ার রঘুনাথপুর ১, বলরামপুর, পারা ও সাতুরি ব্লকের সভাপতিকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। সম্প্রতি পুরুলিয়া সফরে গিয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের যুব সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে সার্কিট হাউসে তিনি বৈঠক করেন। সেখানেই নেতৃত্ববদলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
একইসঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নির্দেশ দিয়েছেন, কেন আশানুরূপ ফল করা গেল না, তা নিয়ে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে জেলা কমিটিকে রিপোর্ট পেশ করতে হবে। নেতৃত্বকে বলা হয়েছে, অবিলম্বে আমাদের ঘাটতি পূরণ করে নিতে হবে। কেন জঙ্গলমহলের মানুষ তৃণমূল কংগ্রেস থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন, তা জানা দরকার। আর সেই কাজ করতে হবে চটজলদি, কারণ আমাদের হাতে সময় অত্যন্ত কম।
উল্লেখ্য, পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রাম ও বাঁকুড়ার জঙ্গলমহলে এবার পঞ্চায়েত ভোটে তৃণমূলকে হারিয়ে বহু গ্রাম পঞ্চায়েত দখল করে নিয়েছে বিজেপি। পঞ্চায়েত সমিতি ও জেলা পরিষদের আসনেও ভালো ফল করেছে। বিজেপির এই উত্থান তৃণমূলের কপালে ভাঁজ ফেলে দিয়েছে। অন্যত্র বিজেপিকে নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস চিন্তিত না হলেও জঙ্গলমহলের ফলে আশঙ্কার কালো মেঘ দেখতে পাচ্ছে নেতৃত্ব। তাই সেই কালো মেঘ দূর করতে এখন থেকে উঠে পড়ে লেগেছে তৃণমূল কংগ্রেস।












Click it and Unblock the Notifications