বিজেপি কি বিধাননগরে টক্কর দিতে পারেব তৃণমূলকে! সব্যসাচী হতে পারেন কী ফ্যাক্টর
বিজেপি কি বিধাননগরে টক্কর দিতে পারেব তৃণমূলকে! সব্যসাচী হতে পারেন কী ফ্যাক্টর
কড়া নাড়ছে চার পুরনিগমের ভোট। কলকাতা বাদে পাঁচ পুরনিগমের মধ্যে শনিবার চারটি পুরনিগমের ভোট হচ্ছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য বিধাননগর। বিধাননগর পুরসভা ভোটের আগে শুক্রবার থেকেই সাজো সাজে রব। শুরু হয়েছে রুটমার্চ। কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে নাকি রাজ্য পুলিশ দিয়ে ভোট হবে তা নিয়ে টানাপোড়েন চলল দিনভর। শেষে রাজ্য পুলিশের সংখ্যা বাড়ানো হল বিধাননগরের ভোটে।

বিধাননগরের ভোটে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ডিআইজি জ্ঞানবন্ত সিংরে। তিন হাজার থেকে বাড়িয়ে পুলিশের সংখ্যা করা হয়েছে সাড়ে চার হাজার। প্রার্থীরা পুরোদস্তুর প্রচার চালিয়ে তৈরি। এখন কমিশনের লক্ষ্য স্বচ্ছ ও অবাধ-শান্তিপূর্ণ ভোট করা। হাইকোর্টে কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে দায়িত্ব দিয়েছে কমিশনের উপর। কমিশন মনে করছে কেন্দ্রীয় বাহিনী নিতে পারে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রয়োজন নেই বলে গন্ডগোল হলে সেই দায় নিতে হবে কমিশনকে, তাও ফলাও করে জানিয়ে দিয়েছে হাইকোর্ট।
বিধাননগর পুরসভা নির্বাচনে ২০১৫ সালে তৃণমূল সিংহভাগ আসনে জয়ী হয়েছিল। ৪১টি আসনের মধ্যে তৃণমূল পেয়েছিল ৩৭টি আসন। বাকি চারটি আসন বাম ও কংগ্রেস ভাগ করে নিয়েছিল। বেশিরভাগ আসনেই তৃণমূল জয়ী হয়েছিল বিপুল ব্যবধানে। স্বভাবতই বিরোধীদের তরফে তৃণমূলের বিরুদ্ধে ভোট-সন্ত্রাসের অভিযোগ তোলা হয়।
এবার কমিশনের কাছে চ্যালেঞ্জ স্বচ্ছ ও অবাধ ভোট করা। যাতে বিরোধীদের পক্ষ থেকে সেই ভোট-সন্ত্রাসের অভিযোগ না ওঠে। বিরোধীদের তরফে দাবি করা হয়েছিল কেন্দ্রীয় বাহিনী দিয়ে বিধাননগর পুরভোটে ভোট করতে হবে। বাকি পুরসভাগুলিতে ভোট হোক পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দিয়ে। সেখানে রাজ্য পুলিশের নিরাপত্তায় ভোট হতে পারে। কিন্তু বিধাননগরের ক্ষেত্রে বিশেষ ব্যবস্থার আর্জি জানানো হয়। তবে এই মামলার শুনানিতে হাইকোর্টে পুরো বিষয়টি রাজ্য নির্বাচন কমিশনের উপর ন্যস্ত করে।
এবার বিধাননগর পুরসভার মূল লড়াই তৃণমূল বনাম বিজেপি। এবার বাম ও কংগ্রেস সেই অর্থে লড়াইয়ে নেই। বিধাননগর পুরসভা এলাকায় ২০১৯ লোকসভা ও ২০২১ বিধানসভা ভোটে প্রাধান্য ছিল তৃণমূলেরই। বিধাননগর পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান সব্যসাচী দত্ত তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিলেও তৃণমূলকে হারাতে পারেননি। বিজেপি চ্যালেঞ্জার হয়ে উঠলেও তৃণমূলকে টেক্কা দিতে পারেনি। যেটা পেরেছিল আসানসোলে। তাই তৃণমূল পাটিগণিতে এগিয়ে থেকেই এবার ভোটযুদ্ধে নামবে। বিজেপি হবে তাদের মূল চ্যালেঞ্জার।
রাত পোহালেই চার পুরনিগমের ভোট। শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সারা সব দলেরই। বিধাননগর ও আসানসোলের মতো চন্দননগরেও এবার মূল লড়াইয়ে তৃণমূল ও বিজেপি। তবে শিলিগুড়ি পুরসভায় এবার চতুর্মুখী লড়াই হতে চলেছে। তৃণমূলের সঙ্গে মূল লড়াই বিজেপির। তবে বামফ্রন্ট ও কংগ্রেসও তৈরি লড়াই দিতে।












Click it and Unblock the Notifications