বিজেপির অন্দরে প্রবল ঝড়ে বেকায়দায় জগন্নাথ, দিব্যেন্দু অধিকারীর আইনি নোটিশ পেতেই পোস্ট ডিলিট
BJP: রাজ্য বিজেপিতে তুমুল ঝড়। আজই ফেসবুকে একটি পোস্ট করেছিলেন বিজেপির রাজ্য সাধারণ সম্পাদক জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। আর তাতেই শুরু হয় বিতর্ক।
রাজ্যে নিয়োগ দুর্নীতিতে জনপ্রতিনিধিরা সুপারিশ করেছেন, সিবিআইয়ের নথিতে এমন দাবি করা হয়েছে বলে একটি সংবাদমাধ্যমের গ্রাফিক্স পোস্ট করেন জগন্নাথ। যে তালিকার শুরুতেই ছিল রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ভাই দিব্যেন্দুর নাম।

জগন্নাথ পোস্টটিতে লেখেন, "এসএসসি নিয়োগ। যোগ্যরা রাস্তায়, অযোগ্যরা সুপারিশেষ সেটিং সেটিং বলে যারা চিৎকার করেন তাঁরাই বলুন। ২০১৬ সাল। সকলেই তৃণমূলী সম্পদ। কেউ ছাড় পাবেন না। সময় লাগতে পারে।" এই তালিকায় যাঁদের নাম রয়েছে তাঁদের মধ্যে দিব্যেন্দু অধিকারী ও ভারতী ঘোষ এখন বিজেপিতে।
বিজেপির অন্দরেই প্রশ্ন ওঠে, দিব্যেন্দুর নাম সুকৌশলে দিয়ে জগন্নাথ শুভেন্দু অধিকারীকেই নিশানা করতে চেয়েছেন। তবে এই পোস্ট দেখেই জগন্নাথকে আইনি নোটিশ পাঠান দিব্যেন্দু অধিকারী। দুই ঘণ্টা সময় দেওয়া হয় পোস্ট ডিলিট করার জন্য।
এরই মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে জগন্নাথের নানা কুকীর্তির কথা। বিজেপির গ্রুপগুলিতেও ঝড় ওঠে। অনেকে এমন প্রশ্নও তোলেন যে বাম আমলে নিজের স্ত্রীর চাকরির বন্দোবস্ত করা থেকে একই জেলায় বার তিনেক ট্রান্সফার, পরে কলকাতায় ট্রান্সফার করানোর কাজ জগন্নাথ করেছিলেন কিনা। যদিও তার সদুত্তর তিনি দিতে পারেননি।
বিজেপির বিভিন্ন গ্রুপে এমন লেখাও আসে যে, "২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগ দিয়েই সিউড়ি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিজেপির প্রার্থী হলেন। তারপর ওই কেন্দ্রে ৭৩২০ ভোটে তৃণমূল প্রার্থীর কাছে পরাজয়। কোন অদৃশ্য জাদুবলে বিজেপির একেবারে রাজ্যের সাধারণ সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক পদ পেয়ে একেবারে জিরো থেকে হিরো হয়ে গেলেন এই ভদ্রলোক "জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়"!
জেলায় জেলায়, মন্ডলে মন্ডলে যোগ্য ব্যক্তিদের সরিয়ে দিয়ে অযোগ্য অপদার্থ লোকেদের বসানো থেকে শুরু করে তৃণমূল ঘনিষ্ঠদের কাউন্টিং এজেন্ট বানিয়ে গণনা কেন্দ্রে পাঠানোর প্রচুর অভিযোগে বিদ্ধ হয়েছেন জগন্নাথ। উনি রাজ্য বিজেপির এখন মধ্যমণি। ডালে ঝোলে অম্বলে সব জায়গায় সুকান্ত মজুমদারের বগলে বগলে উনি থাকেন। এখন শুভেন্দু অধিকারীকে দল থেকে তাড়ানোর প্রতিজ্ঞা নিয়ে হাত ধুয়ে পেছনে পড়েছেন ২০২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে।"
দিব্যেন্দুর আইনজীবী জগন্নাথকে পাঠানো নোটিশে লেখেন, শিক্ষা নিয়োগ দুর্নীতি মামলা হাইকোর্টের নজরদারিতে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা চালাচ্ছে। তদন্তে দিব্যেন্দুকে ডাকার প্রয়োজনই মনে করেননি তদন্তকারীরা। সেখানে ভিত্তিহীন এক খবরের উপর ভিত্তি করে জগন্নাথ যে পোস্ট করেছেন তা দিব্যেন্দুর মানহানি ঘটিয়েছে।
উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ওই পোস্টে দিব্যেন্দুকে নিয়োগ দুর্নীতিতে জড়ানোর অপচেষ্টা করা তাঁর চরিত্র হননের চেষ্টা জগন্নাথ করেছেন বলে নোটিশে লেখা হয়েছে। এতে মানুষের মধ্যে গুজব ও বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে। ২ ঘণ্টার মধ্যে পোস্ট ডিলিট না করলে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়।
একই মধ্যে জগন্নাথ পোস্টটি ডিলিট করে দেন চুপিচুপি। এমনকী তিনি জানান, কাউকে নিশানা করে তিনি পোস্টটি করেননি। উপরমহলের নির্দেশেই তিনি নিয়োগ দুর্নীতির বিষয়টিকে জনসমক্ষে আনতে চেয়েছিলেন।
তবে জগন্নাথের সাফাই গ্রহণযোগ্য নয়। সন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, পোস্টটি মুছলেন কেন জগন্নাথবাবু? দায় নিতে পিছপা হলেন কেন? কে সেই ব্যক্তি যিনি আপনাকে উস্কেছেন? যার ইশারায় পোস্ট করেছিলেন তিনি কি ব্যাক গিয়ার দিতে বলেছেন? তাই মুছে ফেলা? স্পষ্ট না করলে অপ্রিয় প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে।
-
পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ! পানিহাটির সেক্টর অফিসার অতনু চক্রবর্তীকে সাসপেন্ড করল নির্বাচন কমিশন -
অসম বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬: এনডিএ-র বিরাট জয়ের ইঙ্গিত নতুন জনমত সমীক্ষায় -
আরও একটি সাপ্লিমেন্টারি ভোটার তালিকা প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন, আর কত নাম নিষ্পত্তি হওয়া বাকি? -
ভবানীপুর ও নন্দীগ্রামে উত্তাপ চরমে, শুভেন্দুর বিরুদ্ধে ভয়ের রাজনীতির অভিযোগে মনোনয়ন বাতিলের দাবি তৃণমূলের -
যুদ্ধ নয়, আলোচনায় সমাধান! হরমুজ ইস্যুতে বৈঠক ডাকল ব্রিটেন, যোগ দিচ্ছে ভারত -
বাংলায় ভোট পরবর্তী হিংসা রুখতে অনির্দিষ্টকালের জন্য থাকবে কেন্দ্রীয় বাহিনী -
'মালদহ কাণ্ডের মাস্টারমাইন্ড' মোফাক্কেরুল ইসলাম গ্রেফতার, পালানোর সময় বাগডোগরা থেকে ধৃত -
দাগি নেতাদের নিরাপত্তা কাটছাঁট কতটা মানল পুলিশ? স্টেটাস রিপোর্ট চাইল নির্বাচন কমিশন -
পুর-নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ভোটের আগে তৃণমূলের দুই হেভিওয়েট নেতাকে ইডির তলব -
ভোটের আগেই কমিশনের কড়া নির্দেশ! অনুমতি ছাড়া জমায়েত নয়, নিয়ম ভাঙলেই গ্রেফতার, রাজ্যজুড়ে জারি কঠোর নির্দেশ -
এপ্রিলে শক্তিশালী ত্রিগ্রহী যোগ, শনি-সূর্য-মঙ্গলের বিরল মিলনে কাদের থাকতে হবে সতর্ক? -
অমিত শাহের রাজ্যে থাকার ঘোষণায় তীব্র কটাক্ষ মমতার, বললেন, যত বেশি থাকবে, তত ভোট কমবে











Click it and Unblock the Notifications