দিলীপের বদলার হুমকিতে রাজ্য রাজনীতি তোলপাড়! একুশে অশনি সংকেত দেখছে বিজেপি
২০২১-এ বাংলার ক্ষমতা দখলই বিজেপির প্রধান টার্গেট। সেই মিশনেই বঙ্গ বিজেপি এগিয়ে চলেছে। এরই মধ্যে অতি আক্রমণাত্মক হতে গিয়ে নিজে তো সমালোচনার মুখে পড়লেনই, দলকেও বিপাকে ফেলে দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি।
২০২১-এ বাংলার ক্ষমতা দখলই বিজেপির প্রধান টার্গেট। সেই মিশনেই বঙ্গ বিজেপি এগিয়ে চলেছে। এরই মধ্যে অতি আক্রমণাত্মক হতে গিয়ে নিজে তো সমালোচনার মুখে পড়লেনই, দলকেও বিপাকে ফেলে দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি। তাঁর 'বদলাও হবে বদলও হবে' মন্তব্য। ২০২১-এ বুমেরাং হতে পারে বলে ধারণা রাজনৈতিক মহলের।

ঘরে-বাইরে সমালোচিত দিলীপ
২০২১-এর আগে করোনার থাবায় প্রচার পরিকল্পনা সবই হয়ে গিয়েছে ডিজিটাল। নেট দুনিয়াতেই প্রচার চালাচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলি। সেখানেই বিজেপি রাজ্য সভাপতি বৃহস্পতিবার পোস্ট করেন-‘বদলাও হবে বদলও হবে'। তাঁর এই পোস্ট নিয়েই বিতর্ক শুরু হয়ে যায়। ঘরে-বাইরে সমালোচিত হন দিলীপ ঘোষ।

দিলীপের বালখিল্য মন্তব্য, বিজেপি সমস্যায়
রাজনৈতিক মহল মনে করছে, রাজযের প্রধান বিরোধী দলের সভাপতি হিসেবে তাঁর এই ধরনের মন্তব্য বালখিল্যতার পরিচয়। এই ধরনের মন্তব্য দলকে নির্বাচনের লড়াই থেকে কার্যত পিছিয়ে দেবে বলে ধারণা। কারণ মানুষ এখন অনেক সমঝদার। তাঁরা এই ধরনের উসকানিমূলক মন্তব্য ভালো চোখে নেয় না।

বদল হলে বদলাও হবে, দিলীপ পিছু হটছেন না
বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ এই পোস্টের সমর্থনে বলেন, ঢাকঢাক গুড়গুড় করছি না। বদলা নেওয়ার কথাই বলছি। বদলা না নিলে লোকে আমাদের কাপুরুষ বলবে। তাই বদল হলে বদলাও হবে। তৃণমূলীদের সমাজবিরোধীদের বদলা নেব। যে সমস্ত আধিকারিক আমাদের উপর অত্যাচার চালাচ্ছেন, তাঁদের উপর প্রশাসনিকভাবে বদলা নেব।

বিজেপির ভাবমূর্তি ফেরানোর চেষ্টা
দিলীপের এই মন্তব্যের পর শুধু তৃণমূলে বা বিরোধী দলগুলির মধ্যে প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়নি, দলের অন্দরেও কঠোরভাবে সমালোচিত হয়েছেন তিনি। মুকুল রায়, রাহুল সিনহা, স্বপন দাশগুপ্তরা সবাই মিলেই দিলীপ ঘোষের মন্তব্যের সমালোচনা করে বিজেপির ভাবমূর্তি ফেরানোর চেষ্টা করেছেন। দিলীপকে তুলেছেন ‘কাঠগড়া'য়।

বিজেপি কখনই বদলার পক্ষে নয়
মুকুল-রাহুল-স্বপন দাশগুপ্তরা বুঝিয়ে দিয়েছেন বদলা-ইস্যুতে তাঁরা কেউই দিলীপ ঘোষের পাশে নেই। তাঁদের পৃথক পৃথক বক্তব্যে উঠে এসেছে দিলীপ ঘোষের মন্তব্যের বিরোধিতা। তাঁরা বিজেপির প্রকৃত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের বর্ণনা দিয়েছেন। জানিয়েছেন বিজেপি কখনই বদলার পক্ষে নয়, বিজেপি শান্তির পক্ষে।

বিজেপি লড়াই থেকে ছিটকে যাবে!
আর রাজনৈতিক মহল মনে করছে, এই ধরনের মন্তব্য করলে বিজেপি লড়াই থেকে ছিটকে যাবে। বাংলার মানুষ বিজেপিকে ভরসা করতে পারবে না। শুধু কর্মীদের উজ্জীবিত করলেই হবে না, বাংলার সাধারণ মানুষের কাছে দলের ও নিজের একটা স্বচ্ছ ভাবমূর্তি রাখতে হবে, তবেই তৃণমূলের পরিবর্ত হিসেবে মানুষ বিজেপিকে বেছে নেবে মানুষ।












Click it and Unblock the Notifications