বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অনুপ্রবেশ, ফায়দা লুটেছে বাম-তৃণমূল থেকে শুরু করে বিজেপিও

নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল বা সিএবি-র বিরুদ্ধে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারকে সবথেকে মারাত্মক চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল বা সিএবি-র বিরুদ্ধে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকারকে সবথেকে মারাত্মক চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, এই বিলে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে অমুসলিম অভিবাসীদের স্বীকৃতি দেওয়ার এবং তাদের ভারতীয় নাগরিকত্ব প্রদানের বিধান রয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গে প্রয়োগ করতে দেব না

পশ্চিমবঙ্গে প্রয়োগ করতে দেব না

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষণা করেছেন, তাঁর সরকার নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলটি পশ্চিমবঙ্গে প্রয়োগ করতে দেবে না। তিনি বলেন, "আমরা কাউকে কাউকেই দেশ থেকে বিতাড়িত করার পক্ষে নই। আর এই কাজ করতে অনুমতিও দেব না।" বিশেষত বাংলাদেশ থেকে আসা অবৈধ অভিবাসীরা এপার বাংলা তথা উত্তর-পূর্ব ভারতে বাসা বেঁধেছেন।

মমতা এবং অবৈধ অভিবাসী

মমতা এবং অবৈধ অভিবাসী

২০০৫ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সংসদে এই অবৈধ অভিবাসীদের নিয়ে সরব হয়েছিলেন। তিনি বিরোধী দলগুলির পক্ষ থেকে কংগ্রেস-নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকারের বিরুদ্ধে অনুপ্রবেশ রুখতে গর্জে উঠেছিলেন। তখন বামফ্রন্টের বাইরে থেকে সমর্থন ইউপিএ সরকারের উপর। বাংলায় অবৈধ অভিবাসীদের বসতি স্থাপনের বিষয়ে আলোচনার দাবি তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই করেছিলেন বলে বিজেপি পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

মমতার সংসদে দাবি ছিল

মমতার সংসদে দাবি ছিল

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই মর্মে আলোচনার দাবি তুলেছিলেন যে, বাংলাদেশ থেকে আসা অবৈধ অভিবাসীরাও পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার একটি অংশ। রাজ্য সরকার এ বিষয়ে কিছুই করেনি। সুতরাং, বিষয়টি নিয়েই আলোচনা করা উচিত।" বাংলায় ক্ষমতাসীন বামফ্রন্টের পক্ষ থেকে সিপিএম সাংসদ সোমনাথ চট্টোপাধ্যায় তখন লোকসভার স্পিকার ছিলেন।

ফাইল ছুঁড়ে পদত্যাগ মমতার!

ফাইল ছুঁড়ে পদত্যাগ মমতার!

তিনি বাংলায় অবৈধ অভিবাসীদের বিষয়ে আলোচনার অনুমতি দিতে অস্বীকার করেন। এই ঘটনা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সংসদে দাঁড়িয়ে ফাইল ছুঁড়েদিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। অধ্যক্ষের চেয়ারে তখন শিরোমণি আকালি দলের সাংসদ তথা ডেপুটি স্পিকার চরণজিৎ সিং আটওয়াল। এর প্রতিবাদে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতা দক্ষিণের লোকসভা সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগও করেছিলেন। তবে তাঁর পদত্যাগপত্র প্রত্যাখ্যান করা হয়।

উপকৃত বাম-তৃণমূল থেকে বিজেপি

উপকৃত বাম-তৃণমূল থেকে বিজেপি

তবে অবৈধ অভিবাসীদের নিয়ে তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার বা বর্তমানের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারই শুধু উপকৃত, তা নয়। অসমে প্রফুল্ল কুমার মহন্তের অসম গণ পরিষদ এবং বর্তমানে বিজেপিও অবৈধ অভিবাসীদের নিয়ে রাজনীতিতে উপকৃত। বাংলায় বামফ্রন্ট ও তৃণমূল এবং অসমে অসম গণ পরিষদ ও বিজেপি- সকলেই উপকৃত।

অবৈধ অভিবাসী মুক্ত করার ডাক মমতার

অবৈধ অভিবাসী মুক্ত করার ডাক মমতার

একমাত্র অসমই এই বিষয়টি নিয়ে সোচ্চার ছিল। ১৯৭৯ সালে মঙ্গলডোই আসনের একটি লোকসভা উপ-নির্বাচনে প্রথমবারের মতো অবৈধ অভিবাসীদের বিষয়টি একটি বড় নির্বাচনী ইস্যুতে পরিণত হয়। নির্বাচনী প্রচারের সময় অভিযোগ করা হয়েছিল যে বিপুল সংখ্যক অবৈধ অভিবাসী বাংলাদেশ থেকে এ দেশে এসে পাড়ি জমিয়েছে। এবং ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

অসম ছাত্র ইউনিয়নের প্রতিবাদ

অসম ছাত্র ইউনিয়নের প্রতিবাদ

বিষয়টি অসম ছাত্র ইউনিয়ন (এএএসইউ) তুলেছিল। অবৈধ অভিবাসীদের নাম বাদ দেওয়ার জন্য মঙ্গলডোয় উপ-নির্বাচন স্থগিতকরণ এবং ভোটার তালিকার যাচাই-বাছাইয়ের দাবিতে প্রচার শুরু করে। এএএসইউ এই আন্দোলনে প্রচুর সমর্থন পেয়েছিল। 1983 সালের বিধানসভা নির্বাচন যখন ঘোষিত হয়েছিল তখন এটি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছিল।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+