• search
For Quick Alerts
ALLOW NOTIFICATIONS  
For Daily Alerts

বর্ধমানে তৃণমূল নেতার বাড়িতে ছিল জঙ্গিরা, পুলিশের বিরুদ্ধে প্রমাণ লোপাটের অভিযোগ

  • By Ananya Pratim
  • |
বর্ধমান
কলকাতা, ৫ অক্টোবর: যত সময় গড়াচ্ছে, বর্ধমানে বিস্ফোরণের ঘটনায় উঠে আসছে রোমহর্ষক তথ্য। দুর্গা পুজোর সময় কলকাতার অন্তত ১০টি জায়গায় নাশকতা চালানোর ছক কষেছিল জঙ্গিরা। এই কাজে তারা বর্ধমানের সংশ্লিষ্ট বাড়িটিকে ঘাঁটি করেছিল। যে ভাড়াবাড়িতে বিস্ফোরণ ঘটেছে, তার মালিক তৃণমূল কংগ্রেসের এক নেতা। পাশাপাশি, বর্ধমান থানার পুলিশ তথ্যপ্রমাণ ধ্বংস করেছে বলে মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে।

আরও পড়ুন: বর্ধমানে বিস্ফোরণের পিছনে জঙ্গি-যোগই, নিশ্চিত হলেন গোয়েন্দারা
আরও পড়ুন: বর্ধমানে বিস্ফোরণে মৃত দুই, জঙ্গি-যোগ সন্দেহে তদন্তে এনআইএ

এনআইএ (ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি) গোয়েন্দাদের উদ্ধৃত করে টিভি চ্যানেল 'টাইমস নাও' দাবি করেছে, দুর্গা পুজোয় কলকাতার ১০টি জায়গায় বিস্ফোরণ ঘটানোর ছক কষেছিল জঙ্গিরা। যারা বর্ধমানে বসে বোমা বানাচ্ছিল, তাদের সঙ্গে 'মাল্টিপল লিঙ্ক' বা বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের যোগাযোগ ছিল। ইন্ডিয়ান মুজাহিদিন, আল জিহাদ ও সিমি-র সঙ্গে তারা সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিল। বাংলাদেশের মৌলবাদী সংগঠন জামায়াতে ইসলামির সঙ্গেও বিস্ফোরণে মৃত শামিম আহমেদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। কিন্তু কলকাতায় নাশকতা চালানোর আগেই নিজেদের ভুলে নিজেরাই মারা যায় শামিম আহমেদ ও শোভন মণ্ডল। বোমা ফেটে যায় ঘরের ভিতরে। আর গুরুতর জখম হয় হাসান সাবাহ।

বাড়ির মালিক নুরুল হাসান চৌধুরী তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা হিসাবে পরিচিত এলাকায়। তিনি রাজ্য সরকারের অবসরপ্রাপ্ত ইঞ্জিনিয়ার। তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন, শামিম আহমেদ ওরফে শাকিল ও তার স্ত্রী রাজেরা ওরফে রুমি বিবি, শোভন মণ্ডল, হাসান সাবাহ ও তার স্ত্রী আমিনা বিবিকে তিনি চিনতেন না। তিন মাস আগে ওরা এসে বাড়িভাড়া চায়। তিনি ভাড়া দিয়েছিলেন মাত্র। প্রশ্ন উঠেছে, কেন তিনি এদের সম্পর্কে খোঁজখবর নিলেন না? পাড়ার লোক যখন এদের গতিবিধি দেখে সন্দিহান হয়ে উঠেছিল, তার পরও কেন বাড়ির মালিক চুপচাপ রইলেন?

দুর্গা পুজোর সময় কলকাতার ১০টি জায়গায় নাশকতার পরিকল্পনা ছিল জঙ্গিদের

এদিকে, রবিবার পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিজেপি নেতা সিদ্ধার্থনাথ সিং বলেন, "বর্ধমানের পুলিশ সুপার সৈয়দ মহম্মদ হোসেন মির্জার ভূমিকা খুবই আশ্চর্যজনক। ঘটনার পরপরই ওঁর উচিত ছিল এনআইএ-কে সব জানানো। উনি সেটা করেননি। ঘটনাস্থল থেকে বিস্ফোরক, কাগজপত্র যা কিছু এক লহমায় পেয়েছিলেন, সব দামোদর নদের পাড়ে নিয়ে গিয়ে নষ্ট করে ফেলেছেন। বর্ধমান থানার পুলিশও সাহায্য করছে না। যেখানে দেশের নিরাপত্তা জড়িয়ে রয়েছে, সেখানে বর্ধমানের পুলিশ কেন এমন করছে, তা নিয়ে খোঁজখবর করতে হবে।"

২০ ঘণ্টা পর যখন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনআইএ আসে বর্ধমানে, তখন খুঁজেপেতে যেটুকু প্রমাণ তারা পেয়েছে, তার ভিত্তিতে শুরু হয় তদন্ত। সব প্রমাণ হাতে পেলে এনআইএ আরও জোর কদমে তদন্ত করতে পারত বলে দাবি করেছে বিজেপি।

সিদ্ধার্থনাথবাবুর সুরে অভিযোগ করেছেন বর্ধমানের বিজেপি জেলা সভাপতি সন্দীপ নন্দী। তিনি বলেন, "ওই বাড়িটা তৃণমূলের পার্টি অফিস হিসাবে ব্যবহৃত হত। ভিতরে গিয়ে খুঁজে দেখুন, এখনও দলের পতাকা, ছবি পাবেন। আমাদের পুলিশ সুপার সৈয়দ মহম্মদ হোসেন মির্জা তৃণমূল কংগ্রেস নেতা নুরুল হাসান চৌধুরীকে বাঁচাতে গোটা ঘটনা চেপে দেওয়ার চেষ্টা করছেন। এনআইএ-র পাশাপাশি সিবিআইকেও তদন্তে যুক্ত করা হোক।"

তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে জঙ্গিদের যোগাযোগ নিয়ে তদন্ত হোক, এই দাবি তুলেছেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক বিমান বসুও।

প্রশ্ন উঠেছে, ২ অক্টোবর দুপুরে ঘটনা ঘটলেও কেন তিনদিন পর অর্থাৎ ৫ অক্টোবর গ্রেফতার করা হল মৃত শামিম আহমেদের স্ত্রী রুমি বিবি ও জখম হাসান সাবাহের স্ত্রী আমিনা বিবিকে? কেন এত দেরি করল বর্ধমান থানার পুলিশ? পাশাপাশি, ধৃতদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপ, জঙ্গি যোগাযোগ ইত্যাদি ধারায় মামলা দেওয়া হয়নি। অপেক্ষাকৃত লঘু ধারায় মামলা দেওয়া হয়েছে। এনআইএ তদন্তে না নামলে পুলিশ ঘটনাকে ধামাচাপা দিত বলে অভিযোগ করেছে বিজেপি।

এদিকে, বিজেপি ও সিপিএমের অভিযোগ নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক মুকুল রায়। তিনি বলেছেন, "তদন্ত চলছে। এখনও শেষ হয়নি। তার আগেই বিজেপি ও সিপিএম দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য করছে। তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে কুৎসা করছে। সব কিছুর একটা পরিধি থাকে। ওরা সেই পরিধি লঙ্ঘন করছে।"

lok-sabha-home
English summary
Bardhaman blast: Terrorists had plan to launch attack in Kolkata during Durga Puja
For Daily Alerts

Oneindia - এর ব্রেকিং নিউজের জন্য
সারাদিন ব্যাপী চটজলদি নিউজ আপডেট পান.

Notification Settings X
Time Settings
Done
Clear Notification X
Do you want to clear all the notifications from your inbox?
Settings X
We use cookies to ensure that we give you the best experience on our website. This includes cookies from third party social media websites and ad networks. Such third party cookies may track your use on Oneindia sites for better rendering. Our partners use cookies to ensure we show you advertising that is relevant to you. If you continue without changing your settings, we'll assume that you are happy to receive all cookies on Oneindia website. However, you can change your cookie settings at any time. Learn more