• search
For Quick Alerts
ALLOW NOTIFICATIONS  
For Daily Alerts

অপর্ণা সেনদের কারও পদলেহন না করলেও চলে; তাঁরা দেশের ভালো ভেবেই প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখেছেন

দেশের আরও ৪৮ জন বিদ্দ্বজ্জনের সঙ্গে তিনিও সই করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে পাঠানো চিঠিতে। বক্তব্য ছিল দেশ জুড়ে "জয় শ্রীরাম" বলা নিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠের অত্যাচার এবং গণপিটুনিতে খুনের ঘটনার বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিক সরকার। কিন্তু তাতে যা হওয়ার তাই হল। কলকাতায় বসে প্রাণহানির হুমকি পেলেন নাট্যব্যক্তিত্ব কৌশিক সেন। অপর সেন, অপর্ণা সেনকে বিশ্রীভাবে আক্রমণ করলেন সাংবাদিক অর্ণব গোস্বামী। এরই মাঝে বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা সুব্রহ্মণ্যম স্বামী তো সরাসরি বলেই দিলেন: "ওই চিঠি ডাস্টবিনে ছুড়ে ফলে দেওয়া উচিত!"

অপর্ণা সেনের মতো মানুষদের কারও পদলেহন না করলেও চলে

সমকালীন ভারতীয় রাজনীতি-সমাজনীতি এক দুঃসহ সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। সংসদের মধ্যে মহুয়া মৈত্রের মতো বিরোধী নেত্রী সরকারের সমালোচনা করলে তাঁকে সবাই মাইল আক্রমণ করা হচ্ছে। সংসদের বাইরে অরাজনৈতিক সুশীল সমাজ দেশজুড়ে গণপিটুনির প্রতিবাদ করলে তাকেও কড়া ভাষায় আক্রমণ করা হচ্ছে।

অপর্ণা সেনের প্রতি ভাষার প্রয়োগ দেখলে লজ্জিত হতে হয়

কিন্তু অর্ণব গোস্বামী অপর্ণা সেনের একটি সাংবাদিক সম্মেলনে যেভাবে তাঁর প্রতি আচরণ করলেন, কোনও নিন্দাই তার জন্যে যথেষ্ট নয়। হিন্দুদের প্রাণ গেলে আপনারা কোথায় থাকেন বা নিজেদের রাজনৈতিক আকাঙ্খা পূরণ করার জন্যেই আপনাদের এই ভড়ং জাতীয় নানা অভিযোগে তিয়াত্তরের অপর্ণাকে বিদ্ধ করেন অর্ণব। যদিও বর্ষীয়ান ওই চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব অর্ণবকে বিশেষ আমল দেননি।

অপর্ণা সেনদের মতো মানুষের রাজনৈতিক দলের সাহায্য লাগে না

অপর্ণা সেনের মতো মানুষদের রাজনৈতিক আকাঙ্খা পূরণের অভিযোগে বিদ্ধ করা মূর্খামি ছাড়া আর কিছু নয়। যদি অপর্ণার সত্যিই সেরকম অভিপ্রায় থাকতো, তাহলে অনেকদিন আগেই কোনও দলে নাম লিখিয়ে তিনি আরামে সাংসদের জীবন যাপন করতে পারতেন। কিন্তু এই সুপ্রতিষ্ঠিত অভিনেত্রী-পরিচালক তা করেননি। ভারতের সুশীল সমাজের যে কয়েকজন ব্যক্তিত্বকে এখনও শ্রদ্ধার চোখে দেখা হয় তাঁদের মেধা এবং চিন্তার জন্যে, তাঁদের মধ্যে অপর্ণা একজন। তাঁকে এমন অসভ্য ভাষায় আক্রমণ করা আমাদের ব্যক্তিস্বাধীনতার গালে এক বড় থাপ্পড়। এর প্রতিবাদ প্রয়োজন।

এই অপর্ণাই ক'দিন আগে মমতার সমালোচনা করেছিলেন

অপর্ণাকে যারা রাজনীতির স্বার্থে সক্রিয়তার অভিযোগে কাঠগড়ায় তুলছেন, তাদের মনে রাখা উচিত যে কয়েকদিন আগে এই অপর্ণাই পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমালোচনা করে বলেছিলেন যে তিনি তাঁর নিজের কবর নিজেই খুঁড়ছেন। "জয় শ্রীরাম" স্লোগান শুনে তাঁর তেড়ে যাওয়ার ইস্যুতে এই বক্তব্য রেখেছিলেন অপর্ণা। কই, তখন তো বিজেপির সমর্থকদের মুখে তাঁর সম্বন্ধে কোনও কথা শোনা যায়নি। তবে আজ কেন?

সম্প্রতি কলকাতার বুকে জুনিয়র চিকিৎসকদের ধর্মঘটের জন্যে যখন পুরো স্বাস্থ্য পরিষেবা টলমল, তখনও অপর্ণা ছুটে যান মেডিক্যাল কলেজে। ধর্মঘটী ছাত্রছাত্রীদের হয়ে মমতার কাছে আবেদন রাখেন ধৈর্য ধরে তাদের কথা শুনতে, অযথা রেগে না যেতে। তাঁর এই মাতৃসুলভ ব্যবহারে আপ্লুত হয়েছিলেন অনেকেই। আর এই অপর্ণাকে আজ শুনতে হচ্ছে দলীয় রাজনীতির ধান্দা করার অভিযোগ?

কি প্রয়োজন অপর্ণার এই বয়েসে রাস্তায় নামার?

অপর্ণা সেনদের মতো মানুষের কোনও প্রয়োজন নেই আজকের দেশজুড়ে এই বিষময় পরিস্থিতি নিয়ে মাথা ঘামানোর। তিনি সে কথা কিছুদিন আগে একটি বাংলা খবরের চ্যানেলকে বলেওছিলেন। কিন্তু তাও একজন সজাগ নাগরিকের মতো তিনি নিজের কর্তব্য থেকে বিচ্যুত হননি। প্রধানমন্ত্রীর কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন সরকারের শুভাকাঙ্খী হয়েই। আর এটাই পছন্দ হচ্ছে না ভক্ত এবং পক্ষপাতদুষ্ট সংবাদমাধ্যমের।

English summary
Arnab Goswami’s attack on Aparna Sen: Why it is wrong to accuse Bengali film personality of hypocrisy
চটজলদি খবরের আপডেট পান
Enable
x
Notification Settings X
Time Settings
Done
Clear Notification X
Do you want to clear all the notifications from your inbox?
Settings X