প্রবল চাপে ক্ষমা চাইলেন অনুব্রত মণ্ডল, গ্রেফতারের দাবি সুকান্তর, শুভেন্দু দিলেন প্রতিবাদ মিছিলের ডাক
পুলিশ আধিকারিককে ফোনে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগালি দেওয়ার ঘটনায় ক্ষমা চাইলেন অনুব্রত মণ্ডল। সেই পুলিশ আধিকারিকের মা ও স্ত্রীর নাম করে নোংরা, অশোভনীয় ইঙ্গিত করেছিলেন অনুব্রত মণ্ডল। তার ফলস্বরূপ বোলপুর থানায় বিএনএস অনুযায়ী বেশ কয়েকটি ধারায় মামলা হয়েছে। এমনকী রাজ্য রাজনীতিতেও হইচই পড়ে যায়।
শুক্রবার এক ভাইরাল অডিও সামনে আসার পরই ঘটনা জানাজানি হয়। সেখানে বীরভূমের আইসি লিটন হালদারের সঙ্গে এক ব্যক্তির কথোপকথন সামনে আসে। সেখানে অপর ব্যক্তি নিজেকে অনুব্রত মণ্ডল পরিচয় দিয়ে আইসি লিটনকে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগালি দিয়েছেন। এমনকী হুমকির পাশাপাশি আইসির স্ত্রী ও মা-কে নিয়েও অত্যন্ত কুরুচিকর শব্দচয়ন করেন, নিজেকে অনুব্রত মণ্ডল পরিচয় দেওয়া ওই ব্যক্তি।

এরপরই অস্বস্তিতে পড়ে যায় রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূল নেতারাও এই ঘটনায় সমালোচনায় সরব হন। ড্যামেজ কন্ট্রোলে নেমে তৃণমূলের তরফে চার ঘণ্টার মধ্যে অনুব্রত মণ্ডলকে ক্ষমা চাইতে বলা হয়। প্রথমে ওই কণ্ঠস্বর তার নয় বলে দাবি করলেও, পরে বেগতিক দেখে বীরভূমের কেষ্ট ক্ষমা চেয়েছেন।
দলের নির্দেশের পর ক্ষমা চেয়ে অনুব্রত বলেন, 'পুলিশের সাধারণ কর্মী থেকে একজন বড় অফিসার, সবাই দিদির কাছের মানুষ। তাঁদের অপমান করার কতা ভাবতে পারি না। সাম্প্রতিক ঘটনায় আমি দুঃখিত। দিদির পুলিশের কাছে একবার কেন ১০০ বার ক্ষমা চাইতে পারি। আসলে আমি নানারকম ওষুধ খাই। দিদির পুলিশের বিরুদ্ধে কেউ কোনও অভিযোগ করলে মাথা গরম হয়ে যায়। সত্যিই আমি দুঃখিত।'
এই প্রসঙ্গে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ও বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার কড়া ভাষায় আক্রমণ শানিয়েছেন। অনুব্রতকে অবিলম্বে গ্রেফতারের দাবিও জানিয়েছেন।
শুভেন্দু বলেন, 'অনুব্রত বোলপুরের আইসির মা বা বউ নয়, বাংলার প্রতিটি নারীকে অপমান করেছেন। একজন নারীর সম্ভ্রম, তাঁর সবকিছু কেড়ে নেওয়ার কথা বলেছেন। একবার নয়, অনেকবার। অনুব্রতর ভুলে ভরা চিঠিতে ক্ষমা চাওয়ায় এটা মিটবে না। আগামী ৯ জুন বোলপুরে বিজেপি মা-দিদিদের সম্মান হরণের প্রতিবাদে এক মিছিল হবে।' তিনি নিজে উপস্থিত থাকবেন বলেও জানান শুভেন্দু অধিকারী।
অন্যদিকে সুকান্ত মজুমদার বলেন, 'তোষণের রাজনীতিতে মত্ত হয়ে রাজ্যের ব্যর্থ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গতকাল সিঁদুর নিয়ে সমগ্র দেশের হিন্দু মহিলাদের প্রকাশ্যে অপমান করেছেন। তারপরই তাঁর পরম স্নেহভাজন 'কেষ্ট' — বীরভূমের নেতা অনুব্রত মণ্ডল — এক পুলিশকর্মীর মা ও বোনকে অশ্লীল ভাষায় অপমান করলেন। এ থেকেই স্পষ্ট বোঝা যায়, তৃণমূল কংগ্রেস আসলে মহিলাদের কী চোখে দেখে!'
সুকান্তর দাবি, লোকদেখানো শোকজ করে দৃষ্টি ঘোরানো যাবে না। মা-বোনেদের অপমান করা অনুব্রত মণ্ডলকে অবিলম্বে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেফতার করতে হবে।












Click it and Unblock the Notifications