ভবানীপুরে কংগ্রেসের ভোট কোন দিকে! স্পষ্ট ইঙ্গিত অধীর চৌধুরীর তাৎপর্যপূর্ণ বার্তায়
ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কংগ্রেস প্রার্থী না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রদেশ কংগ্রেস প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তাব দিলেও হাইকম্যান্ড তা খারিজ করে দেয়।
ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কংগ্রেস প্রার্থী না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রদেশ কংগ্রেস প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তাব দিলেও হাইকম্যান্ড তা খারিজ করে দেয়। এমনকী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্রচার করাও যাবে না বলে জানায় কংগ্রেস হাইকম্যান্ড। অর্থাৎ জোটসঙ্গী সিপিএম প্রার্থী দিলেও কংগ্রেস বিরত থাকছে ভোট প্রচারে। তাহলে কংগ্রেসের ভোট কোন পক্ষে যাবে, তা নিয়ে ধন্দ তৈরি হয়েছে। সেই ধন্দ অবশ্য তাৎপর্যপূর্ণ বাক্যবিন্যাসে কাটিয়ে দিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী।

অধীর চৌধুরী ঘুরিয়ে কংগ্রেসের ভোট তৃণমূল কংগ্রেসর দিকে যাওয়ারই ইঙ্গিত দিয়েছেন। কংগ্রেস হাইকম্যান্ডের সিদ্ধান্ততই স্পষ্ট ছলি বার্তা। তবু প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি তাঁর বিবৃতিতে আরও স্পষ্ট করে দিয়েছেন। মুর্শিদাবাদ সজেলা কার্যালয় থেকে সাংবাদিক বৈঠক করে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি তথা বহরমপুরের সাংসদ অধীর চৌধুরী সেই ইঙ্গিত দেন।
অধীর চৌধুরী বলেন, সর্বভারতীয় কংগ্রেস নেতৃত্বের নির্দেশে ভবানীপুর কেন্দ্রে কংগ্রেস না লড়াই করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাই কংগ্রেস ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কোনও প্রার্থী দেয়নি। আমরা ভবানীপুরে কোনও প্রচারও করব না। এমনই নির্দেশ রয়েছে হাইকম্যান্ডের। সমর্থকরা যাকে খুশি ভোট দিতে পারেন। যখন কংগ্রেস হাইকম্যান্ড সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভবানীপুরে প্রার্থী না দেওয়ার এবং প্রচারেও বিরত থাকার কথা বলেছেন, তখন কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকরা
জানেন কাকে ভোট দিতে হবে।
অধীর চৌধুরী যে তাৎপর্যপূর্ণ ব্যাখ্যা দিয়েছেন, তাতে স্পষ্ট তিনি কাকে ভোট দেওয়ার কথা বলছেন। তিনি যে তৃণমূলকে ভোট দেওয়ার ইঙ্গিত করেছেন তা পরিষ্কার। ঘোর মমতা বিরোধী বলে পরিচিত অধীর চৌধুরীর মুকে এই বার্তাও ভবিষ্যৎ সমীকরণের বার্তা দিচ্ছে। কংগ্রেসের লক্ষ্য যে ২০২৪-এর নির্বাচনে তৃণমূলের সঙ্গে সমঝোতা করে চলা, তাও স্পষ্ট এই বার্তায়।
সাংবাদিকরা প্রশ্ন করেছিলেন, তাহলে কংগ্রেসের ভোট কোথায় যাবে? জবাবে অধীর চৌধুরী বলেন, কংগ্রেস সমর্থকরদের সবার কি আমার কাছে স্পনসর করা আছে। তারা কোথায় ভোট দেবে না দেবে, সেটা একান্তই তাদের ব্যাপার। তবে সর্বভারতীয় নেতৃত্ব যখন বিশেষ একটি সিদ্ধান্ত নিয়েজচে, তার পিছনে কোনও কারণ রয়েছে। কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকরা তা বোঝেন ভালো করেই।
অধীর চৌধুরী বলেন, হাইকম্যান্ড আমার কাছে যে বার্তা পাঠিয়েছে, আমি সেই বার্তা কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে বললাম। দিল্লি কী চাইছে তা তাদের বোঝা উচিত। তারা সেই মতো কাজ করবে। উল্লেখ্য, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী নিজেও চেয়েছিলেন ভবানীপুরে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রার্থী না দিতে। তাঁর ব্যাখ্যায়, বাংলার মানুষের প্রতি সেটা অসম্মান করা হবে। কেননা বাংলার মানুষ তৃণমূলকে বিপুল আসনে জিতিয়ে ক্ষমতায় এনেছেন।












Click it and Unblock the Notifications