ত্রিপুরা কার্যত বিরোধী শূন্য, ‘বেঙ্গল-মডেলে’ চ্যালেঞ্জারের আসন নিতে চাইছে তৃণমূল
ত্রিপুরায় ২৫ বছরের বাম সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। ক্ষমতায় এসেই সিপিএমকে কার্যত বোতলবন্দি করে ফেলেছে বিজেপি। উত্তর-পূর্বের রাজ্যে সে অর্থে সিপিএমের কোনও ভূমিকা নেই।
ত্রিপুরায় ২৫ বছরের বাম সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি। ক্ষমতায় এসেই সিপিএমকে কার্যত বোতলবন্দি করে ফেলেছে বিজেপি। উত্তর-পূর্বের রাজ্যে সে অর্থে সিপিএমের কোনও ভূমিকা নেই। কার্যত বিরোধী শূন্য বিধানসভায় একা ছড়ি ঘোরাচ্ছে বিজেপি। তৃণমূল চাইছে সেই শূন্যস্থান দিয়ে ঢুকে বিজেপির চ্যালেঞ্জার হয়ে উঠতে।

বিরোধীদের সবাইকে একসঙ্গে চলার বার্তা
বিজেপি যেভাবে ২০১৬-র নির্বাচনের পর বাংলায় ঘাঁটি গেড়েছিল, তৃণমূল সেভাবে ছড়িয়ে পড়তে চাইছে ত্রিপুরায়। ত্রিপুরায় বিরোধীদের অর্থাৎ সিপিএম-কংগ্রেসের দৈন্যদশায় তৃণমূলের উত্থানের পথ মসৃণ করতে বদ্ধপরিকর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়রা। এদিন এই মর্মেই বিরোধীদের সবাইকে একসঙ্গে চলার বার্তা দিয়েছেন তিনি।

বিজেপি একাই ছড়ি ঘোরাচ্ছে বিরোধী অভাবে
অভিষেকের মতে, বিরোধী নেই বলেই বিজেপি ত্রিপুরায় অত্যাচার চালাচ্ছে। গোচা রাস্তায় কোথাও বিরোধী দল সিপিএমের একটা পতাকাও দেখলাম না। কংগ্রেসের পতাকাও চোখে পড়ল না রাস্তায়। ত্রিপুরা গেরুয়া হওয়ার পর থেকে বিরোধীরা সংকীর্ণ হয়ে গিয়েছে। ফলে বিজেপি একাই ছড়ি ঘোরাচ্ছে। এই অবস্থায় তিনি সিপিএম-কংগ্রেসকেও আহ্বান জানান।

বাংলায় ২০১৬ সালের পর যা হয়েছিল, ত্রিপুরায় এখন
বাংলায় ২০১৬ সালে তৃণমূল কংগ্রেস জেতার পর আসতে আসতে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যেতে শুরু করেছিল সিপিএম তথা বামফ্রন্ট ও কংগ্রেস। উভয় দল মিলে ৭৫-৮০টা সিটি পেলেও বিরোধী দলের ভূমিকা সে অর্থে পালন করতে পারেনি। ক্রমই তাঁদের জায়গা দখল করতে শুরু করে বিজেপি। বিভিন্ন উপনির্বাচনে দেখা যায়, সিপিএম-কংগ্রেসকে সরিয়ে বিজেপি দু-নম্বর জায়গায় চলে আসছে।

বিজেপি ক্রমেই সিপিএম-কংগ্রেসের জায়গা নেয় বাংলায়
তারপর বিজেপি ক্রমেই সিপিএম-কংগ্রেসের জায়গা নিয়ে নেয়। ২০১৮-র পঞ্চায়েত নির্বাচন হোক বা ২০১৯-এর লোকসভা ক্রমেই অস্তিত্ব হারায় বাম-কংগ্রেস। বিজেপি দু-নম্বর শক্তি হিসেবে উঠে আসে বঙ্গ রাজনীতিতে। তারপর ২০২১-এ তৃণমূলকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানালেও দু-নম্বর হয়েই তাদের থাকতে হয়েছে। একেবারে শূন্য নেমে গিয়েছে বাম-কংগ্রেস।

ত্রিপুরায় বিজেপি শাসক দল, চ্যালেঞ্জার হতে চাইছে তৃণমূল
ত্রিপুরার পরিস্থিতিও অনেকটা সেইরকম এবার। শুধু তৃণমূল ও বিজেপি পরস্পর বিপরীত ভূমিকায়। বাংলায় শাসক দল ছিল তৃণমূল। বিজেপি তাদের চ্যালেঞ্জার হয়ে উঠেছিল। আর ত্রিপুরায় বিজেপি শাসক দল, চ্যালেঞ্জার হয়ে ওঠার লক্ষ্যে অভিযান শুরু করেছে তৃণমূল। অভিষেকের হাত ধরে এদিন থেকেই সেই অভিযান শুরু হয়েছে।

প্রতি বুথে সংগঠন গড়ে তোলার বার্তা অভিষেকের
অভিষেক ত্রিপুরায় পা দিয়েই প্রতি বুথে সংগঠন গড়ে তোলার কথা বলেছেন। ২০২১-এর ডিসেম্বরের মধ্যে ত্রিপুরার ৩৩২৪টি বুথে সংগঠন গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর তিনি। অভিষেক বলেন, আমরা শূন্য থেকে শুরু করছি। আমাদের বিশ্বাস দেড় বছরে আমরা ত্রিপুরা দখলের জায়গায় পৌঁছে যাব। সেই লক্ষ্যেই সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপাতে চাইছে তৃণমূল।

ত্রিপুরায় বিজেপিকে উৎখাত করার কৌশল রচনা করছে তৃণমূল
বিজেপিও ২০১৮ সালে ত্রিপুরায় ক্ষমতায় এসেছিল অসংগঠিত হয়ে। অতি স্বল্প সময়ে বিজেপি ক্ষমতা দখল করে ত্রিপুরায়। আর বাংলাতেও বিজেপি পসার জমাতে শুরু করে ২০১৭ সালের পর। তাহলে তৃণমূল পারবে না কেন। বিজেপিকে বাংলায় একা হাতে রুখে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার ত্রিপুরায় তাদের উৎখাত করার কৌশল রচনা করছে তৃণমূল।












Click it and Unblock the Notifications