Bhangar: ওয়াকফ-প্রতিবাদে জ্বলল ভাঙড়, পুলিশের জালে মোট ৯; আতঙ্কে নববর্ষেও শুনশান এলাকা
Bhangar: ওয়াকফ আইনের প্রতিবাদে মুর্শিদাবাদের পর এবার উত্তপ্ত ভাঙড়। সোমবার কার্যত পুলিশ-বিক্ষোভকারী খণ্ডযুদ্ধ হয় সেখানে। পুলিশের বাইকে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। শোনপুর বাজারে পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর ও পুলিশকে মারধর করার অভিযোগে নয় জনকে গ্রেফতার উত্তর কাশীপুর থানা পুলিশের। মঙ্গলবারও থমথমে পরিস্থিতি এলাকায়।
সোমবার গাড়িতে করে মিনাখাঁ, সন্দেশখালি, বসিরহাট থেকে বিক্ষোভকারীরা ওয়াকফ আইনের বিরোধিতায় স্লোগান দিতে দিতে বাসন্তী হাইওয়ে ধরে কলকাতার দিকে আসতে থাকে। বৈরামপুর এলাকায় তাদের গাড়ি আটকে দেয় পুলিশ। অনুমতি না থাকায় বাধা দেয় পুলিশ। পাল্টা অবরোধ করে বিক্ষোভকারীরা। পুলিশের বারবার মাইকিং সত্ত্বেও হঠেনি তারা। লাঠিচার্জ শুরু করে পুলিশ। মাথা ফাটে এক আইএসএফ কর্মীর।

ভাঙড়ে পুলিশের অন্তত পাঁচটি বাইকে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। ইট মেরে ভাঙা হয়েছে কলকাতা পুলিশের গাড়ির কাচ। ভাঙচুর চালানো হয়েছে পুলিশের প্রিজ়ন ভ্যানেও। ভাঙচুরের পর সেটি রাস্তায় উল্টে দেওয়া হয়েছে। সোমবারের ওই ঘটনার পর মঙ্গলবারও থমথমে পরিস্থিতি রয়েছে শোনপুর বাজার এলাকায়। নববর্ষের দিন হাতে গোনা লোকজন বেরিয়েছেন রাস্তায়। ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে ইট পাটকলের টুকরো।
অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানোর জন্য সকাল থেকে মোতায়েন করা হয়েছে কলকাতা পুলিশের বিশাল পুলিশ বাহিনী। ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে শোনপুর বাজার। আতঙ্কের পর দোকানপাট খুলছেন দোকানিরা। যদিও তাড়াতাড়ি বিকিকিনি সেরে ঝাঁপ ফেলছেন তারাও। সোমবারের সংঘর্ষের ঘটনায় মোট ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকিদের খোঁজে এলাকায় তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে কলকাতা পুলিশ।
ভাঙড়ের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মোট পাঁচটি মামলা রুজু করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। অভিযুক্তদের মঙ্গলবার বারুইপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হয়। সোমবার কলকাতার রামলীলা ময়দানে একটি প্রতিবাদ কর্মসূচি ছিল। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ওই কর্মসূচিতে যাওয়ার সময় পুলিশ তাঁদের গাড়ি আটকে দেয়।
সোমবার দুপুরের ওই ঘটনার পর থেকেই পদক্ষেপ করে পুলিশ। অভিযুক্তদের খোঁজে ভাঙড়ের বিভিন্ন প্রান্তে তল্লাশি অভিযান শুরু হয়। রাতে কলকাতা পুলিশের তরফে সমাজমাধ্যমে জানানো হয়, ভাঙড়ের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট মামলাও দায়ের করা হয়েছে। সাধারণ মানুষকে কোনও রকম গুজবে কান না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ।












Click it and Unblock the Notifications