Rameshbabu Praggnanandhaa Exclusive: ইডলি খেতে গিয়ে জরিমানা, প্রজ্ঞানন্দের সঙ্গে রয়েছে কলকাতা কানেকশনও
বরাবরই ছেলেটা মুখচোড়া, কথা বলে কম। প্রচারের আলো থেকে অনেক দূরে থাকতে পছন্দ করে। ১৮ বছরের কিশোরের জীবন জুড়ে শুধুই দাবা। রমেশবাবু প্রজ্ঞানন্দ। বিগত কয়েকদিনে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে পৌঁছেছেন তামিল এই তনয়। কিন্তু ব্যক্তিগত জীবনে কেমন প্রজ্ঞানন্দ? দাবার বাইরে তাঁর পৃথিবীটা কেমন? সেই অজানা কাহিনিই তুলে ধরা হল এই প্রতিবেদনে।
ছেলে যে উচ্চতায় পৌঁছেছেন সেখানে তাঁর মা নাগালক্ষ্মীর অক্লান্ত, ঐকান্তিক পরিশ্রম অনস্বীকার্য।
ছেলের সাফল্যে অবিভাবকদের গর্বিত হওয়ার অনেক উদাহরণ আছে।ভারতের দাবাড়ু প্রজ্ঞানন্দের পাশেও তেমনই একজন সর্ব ক্ষণ লেগে থাকেন ছায়ার মতো। তিনি মা নাগালক্ষ্মী। প্রজ্ঞানন্দ যেখানেই খেলতে যান না কেন, তাঁর মা সঙ্গে সঙ্গে যাবেনই।

প্রজ্ঞানন্দের সঙ্গে ছায়াসঙ্গী হয়ে থাকেন মা নাগালক্ষ্মী ও দিদি বৈশালী।ছেলেমেয়েরা যাতে সব সময় বাড়ির সুস্বাদু এবং পুষ্টিকর খাবার খেতে পারে, তার জন্যে বিদেশে গেলে সব সময় একটি ইন্ডাকশন স্টোভ এবং রাজমা, রসম সঙ্গে রাখেন নাগালক্ষ্মী। বাসনপত্রও সঙ্গে নিয়ে যান। যাতে ছেলেকে প্রিয় ইডলি রান্না করে দিতে পারেন।
২০১৩ সালে ইডলি খাওয়ার জন্য চরম বিপাকে পড়েন প্রজ্ঞানন্দ। সেই সময় বিশ্ব ইয়ূথ চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিতে স্লোভেনিয়ার মারিবো শহরে যান প্রজ্ঞানন্দ। তাঁর সঙ্গে যান মা ও দিদিও। সেখানকার হোটেলের ঘরে রান্না করা ছিল সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কিন্তি নিষেধ অমান্য করেই ঘরের মধ্যেই ছেলেকে ইডলি বানিয়ে দেন নাগালক্ষ্মী। এরফলে ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্টকে বড় অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দিতে হয়। এমনকি ক্ষমাও চাইতে হয়।

বিশ্বকাপের রানার্স আপকে অল্প সময় কোচিং করিয়েছেন অতনু লাহিড়ি। তাঁর কথাতেই উঠে আসে প্রজ্ঞানন্দের জীবনের অজানা কাহিনি। খেলা শেষ হয়ে গেলেও দাবাতেই মগ্ন থাকতেন প্রজ্ঞানন্দ।
অতীতের স্মৃতির সরণি বেয়ে অতনু বলছিলেন, '২০১৬ সালে মস্কোতে একটি টুর্নামেন্টের খেলা শেষ গিয়েছে। মঞ্চ ফাঁকা করে সমাপ্তি অনুষ্ঠান হবে। কিন্তু সেইসময়ও দিদির সঙ্গে ম্যাচের ভুল ত্রুটি বিশ্লেষণ করতে বসে পড়ে প্রজ্ঞানন্দ। আয়োজকদের রীতিমতো নাজেহাল হতে হয় তাঁকে মঞ্চ থেকে নামাতে।'
প্রজ্ঞানন্দের জীবনে আছে কলকাতা কানেকশনও। অতনু বলছিলেন, 'কলকাতায় টাটা স্টীল চেসের শুরুর বছরে প্রজ্ঞানন্দকে প্রথমবার আনন্দের বিরুদ্ধে খেলার সুযোগ দেওয়া হল। ওটাই প্রথম ছিল সিনিয়রদের সঙ্গে প্রথম খেলা।'

তাই তো বিশ্বকাপ ফাইনালে ছেলে হেরে গেলেও, গর্বিত বাবা রমেশবাবু। তাঁর কথায়, 'প্রথমেই বলি, প্রজ্ঞানন্দের এই সাফল্যের পিছনে বড় অবদান রয়েছে ওর মায়ের। আমি কাজে আটকে থাকলেও, স্ত্রী নাগালক্ষ্মী ছেলেকে উত্সা হ জোগাতে সুদূর বাকুতে রয়েছে। আর হ্যাঁ, ছেলের জন্য তো গর্ব হচ্ছেই।’
একইসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেছেন, 'আমাদের ফোনে কথা হয়। আশা করেছিলাম প্রজ্ঞা বিশ্বকাপ জিতবে। তবে সেটা অধরা রয়ে গেল। যদিও আমরা এতে চিন্তিত নই। ছেলে এত দূরে এসেছে, এটাই আমাদের কাছে বড় প্রাপ্তি।'












Click it and Unblock the Notifications