অতিমারীর আবহে টোকিওয় সফল অলিম্পিক, বিক্ষোভ শিঁকেয় তুলে শান্ত হচ্ছে জাপান
অতিমারীর আবহে জাপানে অলিম্পিক, ধীরে ধীরে শান্ত হচ্ছে পরিস্থিতি
করোনা ভাইরাসের আবহে দেশে অলিম্পিকের আসর বসানো নিয়ে বিক্ষোভে উত্তাল হয়েছিল জাপান। টোকিওয় বিশ্বের সর্ববৃহৎ ক্রীড়া ইভেন্টে বন্ধের দাবিতে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছিলেন নাগরিকদের একাংশ। বেঁকে বসেছিল ডাক্তারদের সংগঠনও। সেই আবহে টোকিওয় সফলভাবে অলিম্পিকের আয়োজনে মুগ্ধ হয়েছে বিশ্ব। একই সঙ্গে চলতে থাকা প্রতিবাদ আন্দোলনও থিতিয়ে গিয়েছে সময়ের নিয়ম মেনেই।

করোনা ভাইরাসের আবহে টোকিওয় গত ২৩ জুলাই থেকে শুরু হওয়া অলিম্পিক ৮ অগাস্ট শেষ হয়েছে। বিতর্কের আবহে পিছনে ঠেলে উদ্বোধনের মতোই সমাপ্তি অনুষ্ঠানেও আলোর রোশনাইয়ে ভাসে টোকিওর অলিম্পিক স্টেডিয়াম। বিভিন্ন দেশের অ্যাথলিটদের নানা রংয়ের আবেগ, উচ্ছ্বাস, ঐকান্তিকতায় সম্বৃদ্ধ হয় ঐতিহাসিক সন্ধ্যা। অতিমারীর আবহে এক বছরের জন্য স্থগিত হয়ে যাওয়া যে মেগা ইভেন্ট সফলতার সঙ্গে স্বার্থক করে দেখিয়ে দৃষ্টান্ত স্থাপন করল জাপান। প্রতিবন্ধকতার বাধা ঠেলে আয়োজিত হওয়া এই অলিম্পিককেই সর্বকালের সফলতম অলিম্পিক বলে আখ্যা দিল আইওসি।
আনুষ্ঠানিকভাবে ৩২তম অলিম্পিয়াডের সমাপ্তি টানেন ইন্টারন্যাশনাল অলিম্পিক কমিটির প্রধান থমাস বাচ। দুর্যোগ ও প্রতিবন্ধকতার আবহে টোকিওয় অনুষ্ঠিত হওয়া অলিম্পিকই যে সর্বকালের সেরা বলে তিনি আখ্যা দেন। অতিমারীর আবহে যে বীরত্বের সঙ্গে জাপান প্রতিযোগিতা সফলভাবে আয়োজন করে দেখিয়েছে, তাতে তাঁরা অনুপ্রাণিত বলেও জানান আইওসি প্রধান। আর তারপর থেকেই অলিম্পিককে ঘিরে টোকিওয় চলতে থাকা প্রতিবাদ-বিক্ষোত থিতিয়ে পড়তে শুরু করেছে। অযথা বিক্ষোভ প্রদর্শনের আর কোনও মানেই হয় না, তাও মেনে নিয়েছে নাগরিক সমাজের একাংশ।
যদিও কঠিন বাধা-নিষেধ আরোপ করেও টোকিও অলিম্পিককে করোনা ভাইরাসে ছোঁয়া থেকে মুক্ত করা যায়নি। প্রতিযোগিতা চলাকালীন গেমসের সঙ্গে সংযুক্ত প্রায় ৩০০ জনের কোভিড ১৯ রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। তাঁদের অ্যাখলিটদের সংখ্যা ২০ ছাড়িয়েছেষ গেমস ভিলেজে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ৫০ জন। খুব কম হলেও সেই তালিকায় নাম রয়েছে অ্যাথলিটদেরও। যদিও পরিস্থিতি হাতের বাইরে যায়নি বলেই মনে করে ইন্টারন্যাশনাল অলিম্পির কমিটি।
এদিকে অলিম্পিক শুরু হওয়ার আগে টোকিওয় প্রতিদিন যত মানুষ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হতেন, গেমস শুরু হওয়ার পর সেই সংখ্যা বাড়তে শুরু করে। সেই আশঙ্কাতেই যে তাঁরা রাস্তায় বিক্ষোভ প্রদর্শনে নেমেছিলেন, তা জানাতে ভোলেনি নাগরিক সমাজের একটা অংশ। গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান চলাকালীনও টোকিওর অলিম্পিক স্টেডিয়ামের সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছিলেন প্রতিবাদীরা। সেই আন্দোলনের যে আর কোনও ভিত্তি নেই, তা মেনে নিয়েছে প্রতিবাদীদের একাংশ।












Click it and Unblock the Notifications