শারীরিক অক্ষমতাকে হারিয়ে টোকিও অলিম্পিকে যোগ্যতা, কুস্তিগীর সোনামই অনুপ্রেরণা
শারীরিক অক্ষমতাকে হারিয়ে টোকিও অলিম্পিকে যোগ্যতা, কুস্তিগীর সোনামই অনুপ্রেরণা
তিন বছর আগে আচমকাই অসাড় হয়ে যাওয়া শরীরের কাছে হার মানেননি। মনের জোরে নিজের অক্ষমতাকে হারিয়ে টোকিও অলিম্পিকগামী ভারতীয় হকি দলের অন্যতম অনুপ্রেরণা হয়ে উঠেছেন কুস্তিগীর সোনাম মালিক। ১৯ বছরের মহিলা কুস্তিগীরের থেকে পদকও আশা করছে দেশের ক্রীড়া মহল। সোনামের উত্থানের কাহিনি জেনে নেওয়া যাক।

টোকিও অলিম্পিকে যোগ্যতা অর্জন
দেশের কনিষ্ঠতম মহিলা কুস্তিগীর হিসেবে টোকিও অলিম্পিকে অংশ নিতে চলেছেন সোনাম মালিক। মাত্র ১৯ বছর বয়সে প্রতিযোগিতার ৬২ কেজি বিভাগে তিনি অংশ নিতে চলেছেন। গত এপ্রিলে কাজাখস্তানে হওয়া এশিয়ান অলিম্পিক কোয়ালিফায়ারের ফাইনালে পৌঁছেই টোকিওর বিমানের টিকিট পাকা করে ফেলেছেন সোনাম। মুগ্ধ হয়েছে দেশ তথা বিশ্ব।

২০১৭ সালে ঘটেছিল অবাঞ্ছনীয় ঘটনা
অথচ সোনাম মালিকের এতদূর পৌঁছনোর আশা কার্যত ছেড়েই দিয়েছিলেন অনেকে। ২০১৭ সালে এক জটিল স্নায়ুর রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন এই কুস্তিগীর। সোনামের ডান হাত এবং কাঁধ পুরোপুরি অসাড় হয়ে গিয়েছিল। ওই হাত দিয়ে কোনও বস্তু ধরা তো দূরের কথা, ঠিকমতো তুলতেই পারতেন না ১৯ বছরের কুস্তিগীর। জীবন তাঁর সেখানেই থেমে যাবে বলে মনে করেছিলেন অনেকে। সোনামের ডান হাতের স্নায়ুগুলির জট পাকিয়ে যাওয়াই এই বিপত্তি কারণ বলে জানিয়েছিলেন ডাক্তারা। মহিলা কুস্তিগীরের ফের রিংয়ে ফেরা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। অর্থের অভাবে সোনামকে কোনও বড় ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতেও অক্ষম ছিল তাঁর পরিবার। সেসবের মধ্যে নিজের মনের জোরকে হারিয়ে যেতে দেননি সোনাম। তিল তিল করে ধৈর্য নিয়ে তিনি নিজেকে সুস্থ করে তোলেন। ৬ মাস পর ফের অনুশীলনে নেমে পড়েন ১৯ বছরের টোকিও অলিম্পিকগামী কুস্তিগীর।

অক্ষমতাকে হারিয়ে সফলতা
২০১৮ সালেই ম্যাটে ফিরে এসেছিলেন সোনাম মালিক। সে বছরের এশিয়ান ক্যাডেট ও ওয়ার্ল্ড ক্যাডেট চ্যাম্পিয়নশিপে তিনি ব্রোঞ্জ জিতেছিলেন। ২০১৯ সালে আরও এক বিশ্ব ক্যাডেট চ্যাম্পিয়নশিপে সোনা জিতেছিলেন সোনাম। তাঁকে সিনিয়র লেভেলে তুলে আনা হয়েছিল। এরপরেই সাড়া জাগাতে শুরু করেন হরিয়ানার মহিলা কুস্তিগীর। ২০১৬ সালের রিও অলিম্পিকে ব্রোঞ্জজয়ী সাক্ষী মালিককে ২০২০ সালে লখনৌয়ে হওয়া জাতীয় ট্রায়ালে হারিয়ে দেন সোনাম। রাতারাতি শিরোনামে উঠে আসা ১৯ বছরের তারকা এর মাঝে আরও তিন বার সাক্ষী মালিককে পরাজিত করেন। সোনাম মালিকের প্রতিভায় মুগ্ধ হয় গোটা দেশ তথা বিশ্ব।

সোনামের উত্থানের পিছনে
নিজের এই উত্থানের পিছনে বাবা রাজেন্দর মালিক ও জাতীয় দলের কোচ কুলদীপ মালিককে কৃতিত্ব দিয়েছেন সোনাম। ওই দুই ব্যক্তির কাছ থেকে তিনি নিরন্তর মনের জোর সঞ্চয় করেছেন বলেও জানিয়েছেন ১৯ বছরের কুস্তিগীর। সোনামর যোগ্যতা এবং দক্ষতা নিয়ে মনে বিন্দুমাত্র দ্বিধা নেই তাঁর কোচেরও। কুলদীপের কথায়, ম্যাটে সোনামের গতির সঙ্গে তাল মেলানো কঠিন। প্রতিপক্ষকে সহজেই কাঁধে তুলে আছাড় দেওয়ার ক্ষমতাও ১৯ বছরের কুস্তিগীরকে বাকিদের থেকে আলাদা করেছে বলে মনে করেন তাঁর কোচ। নিজের দক্ষতা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল সোনামও। টোকিও অলিম্পিকে নিজের বিভাগে তাঁকে প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়তে হবে, তা তিনি জানেন। তবে তাঁর দিন হলে তিনি সেরাদেরও হারাতে সক্ষম বলে হুংকার ছেড়েছেন দেশের ১৯ বছরের মহিলা কুস্তিগীর। আগামী ৪ অগাস্ট টোকিওর ম্যাটে নামবেন সোনাম। তার আগে নিজের পুরনো খেলার ভিডিও ক্লিপিংসগুলি দেখে ভুলত্রুটিগুলি সংশোধনের চেষ্টা চালাচ্ছেন হরিয়ানার সোনিপতের মাদিনা গ্রাম থেকে উঠে আসা এই কুস্তিগীর।












Click it and Unblock the Notifications