State Games: চরম অব্যবস্থা রাজ্য গেমসে, অবহেলিত ক্রীড়াবিদরা, কর্তারা আছেন বহাল তবিয়তে
কয়েক মাস আগেই ন্যাশনাল গেমসে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছিল বাংলা। পদক তালিকায় ১৮ থেকে ৮ নম্বরে উঠে আসে বাংলা। কিন্তু ন্যাশনাল গেমসের সাফল্যের পর গত ৭ এপ্রিল থেকে সূচনা হয়েছে রাজ্য গেমসের। এবার কলকাতা এবং মালদাহের একাধিক ভেন্যুতে রাজ্য গেমসের খেলাগুলি হচ্ছে। কিন্তু মালদহে বেহাল দশা রাজ্য গেমসের। চরম অব্যবস্থার মধ্যেই হচ্ছে রাজ্য গেমস।
গত ২৭ নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হয় রাজ্য গেমসের। প্রায় সাড়ে ৫ হাজারের বেশি ক্রীড়াবিদকে নিয়ে হয়েছে রাজ্য গেমস। প্রায় ২৯টি ইভেন্ট এবারে গেমসের তালিকায় রয়েছে। কিন্তু রাজ্য গেমসের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্টে দেখা গেল আয়োজনের বিরাট গলদ।

সামান্যতম সুযোগ সুবিধা পাচ্ছেন না অ্যাথলিটরা। খাবার থেকে থাকার জায়গা সবক্ষেত্রেই অ্যাথলিটদের জন্য সামান্য সুযোগ সুবিধাটুকু নেই। সরকারি স্কুলের মেঝেতে শুয়েই রাত কাটাতে হয়েছে অ্যাথলিটদের। এমনকি ভালো একটা বাথরুম পর্যন্ত নেই পুরুষ এবং মহিলা উভয় অ্যাথলিটদের জন্যই।
বাথরুমে স্নানের জল নেই,ফলে স্নান না করেই খেলতে যেতে হচ্ছে অ্যাথলিটদের। আবার রাতের মশার উপদ্রপ এমন যে ঘুমাতেও পারছেন না ক্রীড়াবিদরা। বাধ্য হয়ে নিজেদের থেকে টাকা খরচ করেই মশারি কিনে ঘুমাতে হচ্ছে অ্যাথলিটদের। এবার রাজ্য গেমসের চেয়ারম্যান স্বরূপ বিশ্বাস। তিনি কিন্ত আছে দামি হোটেলে আরামেই। কর্তারা আছেন আারামে আর যাদের জন্য খেলা সেই ক্রীড়াবিদরা কষ্ট করে দিন কাটাচ্ছেন। বেহাল পরিকাঠামোই কি আদৌও ভালো পারফরম্যান্স সম্ভব।
অ্যাথলিট থেকে হকি সবর্ত্রই শুধু খারাপ অবস্থা। কোনও ভাবেই নম নম করেই রাজ্য গেমস হলেই হল। আইএফএ থেকে বিওএ কলকাতায় ময়দানে এখন ক্ষমতাশীল ব্যক্তির নাম স্বরূপ বিশ্বাস। টলিউডের মতোই বিওএ-তে কার্যত স্বরূপ রাজ চলছে। বিওএ-তে আছেন বিশ্বরূপ দে-র মতো অভিজ্ঞ ক্রীড়া প্রশাসক। কয়েক মাস আগে ন্যাশনাল গেমস তাঁর ভূমিকা ছিল প্রশংসনীয়। কিন্তু এবার রাজ্য গেমসের মতো আসরে তাঁকে কি আদৌও কোনওভাবে ব্যবহার করেছেন বিওএ
বিওএ-র সহ সভাপতি বিশ্বরূপ দে ওয়ান ইন্ডিয়াকে ফোনে বলেন, আসলে সব প্রতিষ্ঠানেই সহ সভাপতি পদটা একটা সাম্মানিক পদ, সেটা সিএবি হোক বা বিওএ সহ সভাপতিদের ক্ষমতা সবর্ত্রই এক। তাই আমি আমার পরিধির মধ্যে আছি, কেউ আমার পরামর্শ চায় আমি নিশ্চই দেব। নিজে থেকে পরামর্শ দেওয়াটা সবক্ষেত্রে বাঞ্ছনীয় নয়।
এবার রাজ্য গেমসের আয়োজনে ব্যাপক ত্রুটি ধরা পড়েছে। নূন্যতম সুযোগ সুবিধা নেই অ্যাথলিটদের জন্য। এই প্রসঙ্গে বিশ্বরূপ দে বলেন, উত্তরবঙ্গকে গুরুত্ব দেওয়ার জন্যই এবার মালদহে রাজ্য গেমস সেখানে আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গেমসের চেয়ারম্যান আছেন বিওএ সভাপতি আছে তারা বিষয়টি দেখছেন। তবে এই পিছিয়ে পড়া অংশ থেকেই ভালো ক্রীড়াবিদরা উঠে আসেন। একইসঙ্গে বিশ্বরূপ দে বলেছেন, ক্রীড়াবিদদের জন্য কর্তারা। ক্রীড়াবিদরা অসুবিধায় পড়লে সবথেকে বেশি খারাপ লাগে আমাদের।আমরা এবার ন্যাশনাল গেমসে এত পদক পেয়েছি কোথাও কোনও অভিযোগ নেই।
মালদহে গিয়ে একাধিক হকি দলকেও চরম সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে। এই প্রসঙ্গে রাজ্য হকি সংস্থার কর্তা খালিদ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, নতুন একটা জায়গায় কোনও কিছু আয়োজন করলে সমস্যা হতে পারে। কিন্তু একটা ইউনিটের সঙ্গে অন্য ইউনিটের কোনও সমন্ময় নেই। আমাদের একটা হকি দলকে রাতে গিয়ে পৌছায় কিন্তু তাদের কেউ স্কুলে দরজা খুলে দেয়নি সারা রাত বাসেই কাটাতে হয়েছে। সারা রাত বাসে কাটিয়ে তাদের পরের দিন খেলতে নামছে হয়েছে। এটা আসলে করার জন্য করা। দুই তিন বছর অন্তর করতে হয় একটা গেমস, তাই করা হচ্ছে।
উত্তর ২৪ পরগনা জেলার ক্রীড়া প্রশাসনের কর্তা নবাব ভট্টাচার্যও সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন গোটা ব্যবস্থাপনা নিয়ে। ক্ষোভ-প্রতিবাদ চলছেই। কিন্তু দায়িত্বে যিনি আছেন সেই স্বরূপ বিশ্বাস আছেন বহাল তবিয়তে। এভাবেই খেলাধুলাতে এগিয়ে যাবে বাংলা!












Click it and Unblock the Notifications