চারুচন্দ্র কলেজে টিচার্স রুমে ছাত্র-ছাত্রীদের তাণ্ডব, দেখুন ভাইরাল ভিডিও

Subscribe to Oneindia News

ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে কলেজ কর্তৃপক্ষের বাদানুবাদ এখন প্রায়শই লেগে আছে। বলতে গেলে এটাই এখন অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংস্কৃতি। কোনও পক্ষই কেউ কাউকে ছেড়ে কথা বলতে রাজি নয়। এই পরিস্থিতিতে যে প্রশ্নটা সবচেয়ে বড় হয়ে উঠেছে তা হল এমনসব বাদানুবাদে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার পরিমণ্ডলে কোনো আঘাত লাগছে না তো? এমন বিষয়ে অবশ্য প্রবল বিতর্ক আছে। ছাত্র বা কলেজ কর্তৃপক্ষ কেউ-ই নিজের জায়গা ছাড়তে রাজি নন। অনেকে আবার অবশ্য এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী করেন ভারতীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে মাত্রাতিরিক্ত ছাত্র রাজনীতির পরিমণ্ডলকে। এর ফলে শিক্ষালয়ের সুষ্ঠু পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে বলেই মনে করেন বহু শিক্ষাবিদ।

ছাত্র আন্দোলনের নামে এ কোন আস্ফালন

মঙ্গলবার বিকেল থেকেই ছাত্র আন্দোলনে উত্তাল হয়ে ওঠে কলকাতার চারুচন্দ্র কলেজ। এক নিরাপত্তাকর্মীকে সরানো নিয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে ঝামেলা শুরু হয় চারুচন্দ্রের কিছু ছাত্র-ছাত্রীর। পরিস্থিতি এতটাই ঘোরালো হয়ে উঠেছিল যে রাতে কলেজের গেটের সামনে নিরাপত্তার দাবিতে পাল্টা অবস্থানে বসে পড়েন অধ্যাপক-অধ্যাপিকারা। তাঁরা বেশকিছু ছাত্র-ছাত্রীর বিরুদ্ধে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের হেনস্থা়রও অভিযোগ আনেন।

ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে অধ্যাপক-অধ্যাপিকাদের বাদানুবাদ কোন পর্যায়ে পৌঁছেছিলো তার কয়েকটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরালও হয়ে ওঠে। সমীর বেরা নামে চারুচন্দ্র কলেজের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রোফেসর এবং প্রোফেসর ইন-চার্জ গেমস অ্যান্ড স্পোর্টস কয়েকটি ভিডিও ফেসবুকে আপলোড করেন। সেখানেই দেখা যাচ্ছে ছাত্র-ছাত্রীদের চিৎকারে তুলকালাম অবস্থা টিচার্স রুমের।

একটি ভিডিও-তে দেখা যাচ্ছে দুই ছাত্রীকে রীতিমতো শিক্ষকদের দিকে তেড়ে যেতে। কেন ঘটনার ভিডিও তোলা হচ্ছে তা নিয়ে দুই ছাত্রী তুমুল উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। অন্য একজন অধ্যাপক দুই ছাত্রীকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। ভিডিও-র কথপোকথনে তা পরিস্কারই ধরা পড়ে। 

অপর একটি ভিডিও-তে ছাত্রীদের রীতিমতো হুমকি দিতে দেখা যায়। ভিডিওগ্রাফি বন্ধ না করা হলে অভিযুক্ত অধ্যাপকের বিরুদ্ধে তাঁরা মামলা করবেন বলেও হুমকি দেন। এরই মধ্যে এক ছাত্রী মোবাইল ফোন ভেঙে ফেলারও হুমকি দেন। বিক্ষোভরত ছাত্রদের মধ্যে একজন আবার অভিযোগ করেন অভিযুক্ত অধ্যাপক ভিডিওগ্রাফি তো বন্ধই করেননি উল্টে মেয়েদের দেখে তিনি জিভ ভেঙিয়েছেন।

পরে চারুচন্দ্র কলেজের অধ্যাপক সমীর বেরা তাঁর ফেসবুক পেজে এই ভিডিওগুলি আপলোড করেন। সেখানে তাঁর লেখা পোস্ট থেকেই জানা যায় মঙ্গলবার টিচার্সরুমে উন্মত্ত ছাত্র-ছাত্রীদের নিশানায় ছিলেন তিনি। 

উন্মত্ত ছাত্র-ছাত্রীরা তাঁদের টিচার্স রুমে বাইরে বেরিয়ে আসতেও নাকি নির্দেশ দেয় বলে তাঁর ফেসবুক পোস্টে অভিযোগ করেন সমীর বেরা। তাঁর আরও অভিযোগ, টিচার্স রুমের বাইরে তাঁদের দেখে নেওয়া হবে বলেও নাকি শাসানি দেওয়া হয়। 

ফেসবুক পোস্টে চারুচন্দ্র কলেজের অধ্যাপক সমীর বেরা কয়েকজন ছাত্র-ছাত্রীরও নাম নেন। যার মধ্যে উল্লেখোগ্য অনিন্দ্য মালাকার, অর্ণব বিশ্বাস, জয়ীতা সাহা ওরফে মামাই, রিয়া দাস। সমীর বেরা তাঁর ফেসবুক পোস্টে অভিযোগ করেন, অভিযুক্তরা তাঁকে কলেজে খেলাধূলো বন্ধ করারও নাকি হুমকি দেয়। 

এই ফেসবুক পোস্টের আগে সমীর বেরার আরও একটি পোস্ট ভাইরাল হয়। সেখানে তিনি লেখেন, ছাত্র সংসদের কিছু ছেলে-মেয়ে কলেজের কেয়ার-টেকারকে মারধর করছে। সেই ঘটনার ভিডিও করায় তাঁকেও হুমকি দেওয়া হয়েছে। 

সমীর বেরার এই ফেসবুক পোস্ট এই মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছাত্র-ছাত্রীদের এমন আচরণের তীব্র ধিক্কার জানিয়েছে প্রচুর মানুষ। এটা কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পড়ুয়াদের চরিত্র হতে পারে না বলেও অনেকে সরব হন। 

যদিও, অভিযুক্ত ছাত্র-ছাত্রীদের কোনও বক্তব্য এখনও পাওয়া যায়নি।

English summary
Student agitation has stalled the normalcy of Charuchandra college on Wednesday. Teachers claim that the uncontrolled behaviour of a group of students creates unpleasant situation in the college campus.

Oneindia - এর ব্রেকিং নিউজের জন্য
সারাদিন ব্যাপী চটজলদি নিউজ আপডেট পান.