শহরে চিত্র সাংবাদিককে নগ্ন করে নিগ্রহ, কতটা আতঙ্কে কলকাতার মহিলা সাংবাদিকরা

  • Written By: Oneindia Staff
Subscribe to Oneindia News
For Quick Alerts
ALLOW NOTIFICATIONS
For Daily Alerts

    পেশার প্রয়োজনে বহু সময়ই ক্ষিপ্ত জনতা বা মারমুখী পুলিশ- সকলের সামনেই পড়তে হয় সাংবাদিকদের। এতে বহু সময় চোট পেতে হয়। কারোর কারোর আঘাত সারাজীবনের মতো থেকে যায়। কিন্তু, তা বলে এর জন্য কর্তব্য থেকে সরে এসেছেন এমন কথা শোনা যায় না। আলিপুরে পঞ্চায়েতের মনোনয়ন জমায় এক চিত্র সাংবাদিককে মারধর, অপহরণ এবং নগ্ন করে ভিডিও তোলার চেষ্টার ঘটনা নিয়ে কথা হচ্ছিল কলকাতার এক নামী সংবাদমাধ্যমের মহিলা চিত্র সাংবাদিকের সঙ্গে। তাঁর মতে এ কোন পরিবেশ। ভাবা যাচ্ছে না। সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে মার খাওয়াটা সাংবাদিকদের অভ্যাসে পরিণত হয়ে গিয়েছে। কিন্তু, তা বলে এক সাংবাদিককে তুলে নিয়ে গিয়ে নগ্ন করে ভিডিও তোলার চেষ্টা! সত্যিকারে এম বর্বোচিত ঘটনা অন্তত গত এক দশকে কলকাতা শহরে ঘটেছে বলে শোনা যায়নি। এমন ঘটনা ধিক্কারেরেও অযোগ্য বলে মনে করছেন তিনি।

    শহরে চিত্র সাংবাদিককে নগ্ন করে নিগ্রহ, কতটা আতঙ্কে কলকাতার মহিলা সাংবাদিকরা

    প্রায় কয়েক দশক ধরে নামী সব সংবাদমাধ্যমে কলকাতার বুকে মহিলা চিত্র সাংবাদিক হিসাবে কাজ করছেন। তার সময়ে খুব বেশি মহিলা সংবাদমাধ্যমে চিত্র সাংবাদিক হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করতেন না। এই মুহূর্তে কলকাতা শহরে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম মিলিয়ে অন্তত ১০ জন মহিলা সাংবাদিক কাজ করছেন। আলিপুর আদালতে এক পুরুষ চিত্র সাংবাদিকের উপরে হওয়া অত্যাচারের শিকার তারাও যে কোনও মুহূর্তে হতে পারেন। নামী সংবাদমাধ্যমের ওই মহিলা চিত্র সাংবাদিক জানিয়েছেন, বাম আমলেও কাজ করতে গিয়ে বহুবার বাধার সম্মুখিন হয়েছেন। পুলিশের হাতে মার খেয়েছেন। একবার একটি ঘটনায় পুলিশ সাংবাদিকদের উপরে লাঠিচার্জ করেছিল। তখনও মিডিয়ার এত রমরমা ছিল না। এই মহিলা চিত্র সাংবাদিকের ঘাড়ে এসে পড়েছিল পুলিশের সেই লাঠির আঘাত। এখন যত দিন যাচ্ছে ততই ঘাড়ের কাছে সেই পুরনো ব্য়াথা চাগাড় দিয়ে উঠছে।

    এত কঠিন জীবন স্বীকার করেও সাংবাদিকরা সাধারণ মানুষের কাছে খবর পৌঁছতে কাজ করে। তারা তুলে ধরার চেষ্টা করে চারিদিকে ঘটে চলা সমস্ত ঘটনার আসল ছবিটা। এমনভাবে ঘটনাকে সাধারণের সামনে আনা নিয়ে কারোর আপত্তি থাকতে পারে, এর জন্য প্রতিরোধ আসতে পারে। কিন্তু, সেই আপত্তি যাতে মাত্রা ছাড়িয়ে না যায় তা কবে শিখবে রাজনৈতিক দলগুলি। এমন প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।

    সোমবার দুপুর ২টোর সময় একদফা মারধরে করে অপহরণ করা হয়েছেল এক চিত্র সাংবাদিককে। এরপর তাকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের বাড়ির কাছে একটি বস্তিতে আটকে রেখে চলে অত্য়াচার। তার অপরাধ ছিল তিনি মোবাইলে মনোনয়নপত্র জমাকে কেন্দ্র করে হওয়া গণ্ডগোলের ছবি তোলার চেষ্টা করছিলেন। এমনকী ওই চিত্র সাংবাদিক নগ্ন করে ভিডিও তোলার চেষ্টা করা হয়। প্রায় ২ ঘণ্টা ধরে শুধুমাত্র অন্তর্বাস পরিয়ে রেখে করা শারীরিক ও মানসিক নিগ্রহ।

    যে ভাবে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে তা অনেকটাই আইসিস জঙ্গিদের কার্যকলাপের মতো বলেও অনেকে মনে করছেন। আইসিস জঙ্গিরা যেভাবে বিভিন্নজনকে অপহরণ করে তাদের নৃশংসভাবে খুন করে, অনেকটা তেমন ঘটনাই সোমবার দুপুর থেকে বিকেলে কালীঘাটের একটি বস্তির ভিতরে ঘটানোর চেষ্টা হয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। কিন্তু, ওই অপহৃত চিত্র সাংবাদিক জোর বেঁচে গিয়েছেন সহকর্মীরা সঠিক সময়ে তাঁকে খুঁজে বের করতে পারায়।

    পঞ্চায়েত নির্বাচনের মনোনয়নে মাত্রা ছাড়া সন্ত্রাস নিয়ে বাববারই অভিযোগ উঠছে। কিন্তু, সেই সন্ত্রাসের এমন এক ভয়াল রূপ সাংবাদিকদের উপরে খাটানোর চেষ্টা হবে তা কেউই আঁচ করতে পারেনি। পুলিশ এখনও পর্যন্ত কাউকেই গ্রেফতার করতে পারেনি। এমনকী, ওই চিত্র সাংবাদিককে সিসিটিভি ফুটেজও দেখাতে পারেনি। এই সমস্ত পরিস্থিতি যে কোনও সাংবাদিককের কাছেই আতঙ্কের তা মানছেন সকলে। কিছুদিন আগেই ভিন রাজ্যে এক সাংবাদিককে খুনের ঘটনা সামনে এসেছে। গত বছরও দেশজুড়ে অন্তত ১৮ জন সাংবাদিক খুন হয়েছেন। তাহলে কি কলকাতার রাজনৈতিক পরিস্থিতি কি সাংবাদিকদের নগ্ন করে খুন করতেও পিছপা হবে না? সোমবারের ঘটনা এই প্রশ্ন কিন্তু তুলে দিল।

    [আরও  পড়ুন: 'গুলি করে নগ্ন দেহটাকে ঝুলিয়ে ভিডিও কর', পড়ুন কলকাতার বুকে নিগৃহীত চিত্রসাংবাদিকের বয়ান ]

    English summary
    The city Woman photo journalist is in fear over the incident of a journalist beating and stripping. Even they are saying one this kind incident may happen to them.

    Oneindia - এর ব্রেকিং নিউজের জন্য
    সারাদিন ব্যাপী চটজলদি নিউজ আপডেট পান.

    We use cookies to ensure that we give you the best experience on our website. This includes cookies from third party social media websites and ad networks. Such third party cookies may track your use on Oneindia sites for better rendering. Our partners use cookies to ensure we show you advertising that is relevant to you. If you continue without changing your settings, we'll assume that you are happy to receive all cookies on Oneindia website. However, you can change your cookie settings at any time. Learn more