'বাক স্বাধীনতার অর্থ অন্যকে আঘাত নয়', শর্মিষ্ঠা পানোলির জামিন খারিজ কলকাতা হাইকোর্টে
সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার শর্মিষ্ঠা পানোলির অন্তর্বর্তী জামিনের আবেদন খারিজ করে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। মঙ্গলবার বিচারপতি পার্থসারথী চট্টোপাধ্যায়ের বেঞ্চ এই রায় দিয়েছে। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে যে, বাক স্বাধীনতা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে তা দিয়ে অন্যের ধর্মীয় বা ব্যক্তিগত অনুভূতিতে আঘাত করা যাবে।
২২ বছর বয়সী শর্মিষ্ঠা পানোলি, যিনি আইনের ছাত্রীও বটে, সম্প্রতি 'অপারেশন সিঁদুর' নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি বিতর্কিত ভিডিও পোস্ট করে সমালোচিত হন। ভিডিওটি পরে মুছে দিলেও এবং তিনি ক্ষমা চাইলেও, তার বিরুদ্ধে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগে গার্ডেনরিচ থানায় মামলা দায়ের করা হয়। কলকাতা পুলিশ গত শুক্রবার হরিয়ানার গুরুগ্রাম থেকে তাকে গ্রেফতার করে। এরপর তাকে ১৪ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়।

এদিন হাইকোর্টে শর্মিষ্ঠার আইনজীবী অন্তর্বর্তী জামিনের আবেদন জানালে আদালত তা খারিজ করে দেয়। বিচারপতি চট্টোপাধ্যায় মন্তব্য করেন, "আমাদের দেশে বিভিন্ন জাতি, ধর্ম ও বর্ণের মানুষ একসঙ্গে বসবাস করেন। এখানে যেকোনও মন্তব্য করার সময় অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হয়। আপনার মন্তব্যে দেশের একটি অংশের মানুষের অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে।"
আদালত আরও নির্দেশ দিয়েছে যে, গার্ডেনরিচ থানায় দায়ের হওয়া মূল মামলাটিই তদন্তের জন্য বিবেচিত হবে এবং এই বিষয়ে দায়ের হওয়া অন্যান্য সমস্ত মামলা স্থগিত থাকবে। আগামী ৫ জুন রাজ্যকে এই মামলার কেস ডায়েরি আদালতে পেশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আদালত একই সঙ্গে জেল কর্তৃপক্ষকে শর্মিষ্ঠাকে সমস্ত প্রয়োজনীয় সুবিধা প্রদানের নির্দেশও দিয়েছে।
উল্লেখ্য, শর্মিষ্ঠা পানোলির গ্রেফতারি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে এবং অনেকেই বাক স্বাধীনতার প্রসঙ্গ তুলে তার মুক্তির দাবি জানিয়েছেন। তবে হাইকোর্টের এই রায়ে স্পষ্ট হয়ে গেল যে, বাক স্বাধীনতা নিরঙ্কুশ নয় এবং সমাজে সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য এর সীমা রয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications