যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ফাঁস উত্তরপত্র, প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা বিজেপি ঘনিষ্ঠ গবেষকের উপর
আবারও বিতর্কে নাম জড়াল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের। এবার জয়দীপ দাস নামে সাংবাদিকতা ও গণ-জ্ঞাপন বিভাগের এক প্রাক্তন ছাত্রের উত্তরপত্র ফাঁস এবং মূল্যায়নে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠল বিভাগেরই এক গবেষকের বিরুদ্ধে। সদ্য তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগদানকারী অভিযুক্ত ওই গবেষক অভ্র সেনের আবার পাল্টা দাবি, তিনি সাইবার ক্রাইমের শিকার। হোয়াটসঅ্যাপে ভুয়ো প্রোফাইল বানিয়ে তাঁকে ফাঁসানোর 'অপ্রচেষ্টা’ চলছে। যদিও কিছুদিন আগেই রাজ্যপালের উপস্থিতিতে ক্যাম্পাসে তাণ্ডবকারী অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদকেও প্রত্যক্ষ মদত দেওয়ার অভিযোগ ওঠে ওই গবেষকের বিরুদ্ধে।

অন্যদিকে ৩১শে অক্টোবর বর্তমানে ওই বিভাগের প্রাক্তন ছাত্র তথা বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজিটাল হিউম্যানিটিজের পড়ুয়া জয়দীপের কাছে বিরেন্দ্র তরফদার নামে এক ব্যক্তি কাছ থেকে দুপুর বারোটা বেজে ৫৪ মিনিটে একটি উড়ো মেল আসে। মেলে পাঠানো অভ্র সেনের কিছু হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটের স্ক্রিনশটের সঙ্গে পাঠানো হয় ওই ছাত্রের প্রথম বর্ষের দ্বিতীয় সেমিস্টারের 'ইন্টারন্যাশনাল কমিউনিকেশন’ পেপারের উত্তর পত্র। ইতিমধ্যে এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চেয়ে যাদবপুর থানায় একটি এফআইআরও দায়ের করেছেন ওই পড়ুয়া।
একইসাথে ওই মেল বিভাগের একাধিক ছাত্রছাত্রীর কাছেও পাঠানো হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। পাশাপাশি ওই হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটে অভিযুক্ত ওই গবেষককে লিখতে দেখা দেখা যাচ্ছে, ওই ছাত্র আন্দোলন করেছেন বলে তাঁর নম্বর তিনি 'চেপে’ দেবেন, 'ক্যারিয়ারের কথা চিন্তা করলে ওর আন্দোলন করতে আসা উচিত হয়নি।' এর আগেও কখনও বিপুল কোর্স ফি তো কখনও পরিকাঠামোগত চূড়ান্ত অব্যবস্থা বা আন্দোলনরত পড়ুয়াদের গণফেলের ঘটনায় একাধিকবার আন্দোলনে সামিল হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগের ছাত্রছাত্রীরা। অভিযুক্ত মকুল ঘনিষ্ঠ ওই স্কলারের বিরুদ্ধে এর আগেও বেআইনি ভাবে প্রশ্নপত্র তৈরি ও মূল্যায়নে স্বজনপোষণের অভিযোগ তুলেছেন বিভাগেরই একাধিক পড়ুয়া। এবার পরীক্ষার উত্তরপত্র বেআইনি ভাবে সামনে চলে আসায় এক কথায় তাজ্জব ছাত্র থেকে শিক্ষক মহল সকলেই।
এই বিষয়ে শুক্রবার ছাত্রছাত্রীরা সহ উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্যের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন। ইতিমধ্যেই এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে অভিযুক্ত ওই গবেষকের ক্যাম্পাসে প্রবেশের উপরেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। একই সাথে আইনি পদক্ষেপ নিতে যাদবপুর থানায় একটি এফআইআরও দায়ের করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে। অন্যদিকে শুক্রবার মধ্যরাতে এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চেয়ে একটি এফআইআর দায়ের করা হয় এসএফআই পরিচালিত ছাত্র সংসদের পক্ষ থেকে। সহ উপাচার্য জানান, তাঁদের কাছে অভিযোগ এসেছে। বিশ্ববিদ্যালয় বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্বের সঙ্গেই দেখছে। রাজনৈতিক টানাপোড়েনও তৈরি এই প্রসঙ্গে আক্রান্ত ছাত্র জয়দীপের দাসের বক্তব্য, 'দীর্ঘদিন ধরেই বিভাগে বিভিন্ন ষড়যন্ত্রমূলক কার্যকলাপে যুক্ত আছেন খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের ওই প্রাক্তন জামাই। বর্তমানে বিভাগীয় প্রধান পার্থসারথি চক্রবর্তীর অধীনে গবেষণাও করছেন তিনি। ডিপার্টমেন্টে একাধিকবার এই বিষয়ে জানানো হলেও কোনও সদর্থক পদক্ষেপ নিতে আমরা পাইনি। বাম সমর্থক হওয়ায় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকায় নেওয়াতেই আমাকে টার্গেট করা হয়েছে।’
অন্যদিকে সদ্য বিজেপিতে যোগদানকারী গবেষক অভ্র সেনের পাল্টা দাবি, ' আমি বৃহত্তর ষড়যন্ত্রের শিকার। এটা তারই অংশ। আমার নামে ভুয়ো প্রোফাইল বানিয়ে এমন কাজ করা হচ্ছে। আমি ইতিমধ্যেই লালবাজারের সাইবার ক্রাইম সেলে অভিযোগ জানিয়েছি।’












Click it and Unblock the Notifications