শাহিনবাগের কায়দায় প্রতিবাদ, সিএএ-এনআরসির বিরুদ্ধে পার্কসার্কাসে অনির্দিষ্টকালের বিক্ষোভ কর্মসূচি
পর্দার আড়াল থেকে বেরিয়ে বুধবার থেকে দিল্লির শাহিনবাগের কায়দায় অনির্দিষ্ট কালের অভিনব প্রতিবাদ কর্মসূচি শুরু করেছে পার্কসার্কাসের আট থেকে আশির কয়েকশো সংখ্যালঘু মহিলা।
নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ), এনআরসি, এনপিআর মানছি না। মানবো না। এই কালা আইন বাতিল করা হোক। এই দাবিতে প্রায় এক মাস হতে চলল তোলপাড় গোটা দেশ। দেশ তথা রাজ্যজুড়ে আন্দোলন জারি রেখেছে একাধিক সংগঠন ও বিরোধী রাজনৈতিক দল। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের বিরোধিতায় মামলা দায়ের হয়েছে দেশের শীর্ষ আদালতে যা বিচারাধীন। কিন্তু তাতেও আইন বাতিলের কোনও উপায় বেরোবে কিনা তাতে ভরসা নেই ওঁদের।

কেন্দ্রের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের প্রতিবাদে রাজধানীর শাহিনবাগ এলাকায় সংখ্যালঘু মহিলাদের অবস্থান বিক্ষোভের প্রায় একমাস হতে চলল। সেখানেও অংশ নিয়েছেন কয়েকশো সংখ্যালঘু মহিলা। সেই চিত্র উঠে এসেছে কলকাতার পার্ক সার্কাস ময়দানে।
এদিন আন্দোলনকারী সালমা, শাকিলা, নিলুফারা জানান, তাদের পূর্বপুরুষরা স্বাধীনতা আন্দোলন করে এসেছে। এখন এসে কেন তাদের প্রমাণ দিতে হবে, তারা ভারতীয় কিনা !
অন্যদিকে কারও বক্তব্য, 'এখানে সিরাজদৌল্লা, মীরজাফর বংশের লোকেরা রয়েছে। সপ্তদশ শতাব্দী থেকে তাদের পূর্ব পুরুষরা এদেশে রয়েছেন। আর হঠাৎ করে আজকে নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহকে কেন কাগজ দেখাতে হবে? কেন প্রমাণ দিতে হবে তাদের বংশ পরম্পরার?' এক আন্দোলনকারী তরুণী বলেন, এই ভারতবর্ষ মহাত্মা গান্ধী, নেতাজি সুভাষচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দেশ। এখানে গডসেবাদ চলবে না।
বিশ্লেষকদের মতে শাহিনবাগের আন্দোলনের সঙ্গে মিল রয়েছে কলকাতার পার্কসার্কাসের। ওখানেও যেমন পুরুষরা আড়ালে থেকে আন্দোলনকে সাহায্য করছেন, এখানেও তাই।
এদিন আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়-সহ একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্রীরা পার্কসার্কাসে পৌঁছে যান। স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা চত্বর। সময় যত পারে জমায়েত তত শক্তিশালী হয়। অনির্দিষ্টকালের জন্য অবস্থান বিক্ষোভ চালিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর তারা।












Click it and Unblock the Notifications