ভাগ্যিস রবীন্দ্রনাথ জীবিত নেই, তাঁকেও অভিযুক্ত করে দিতেন, বিদ্যুৎ মামলায় পুলিশের ভূমিকায় ক্ষোভ হাইকোর্টের
বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী স্বস্তি পেলেন কলকাতা হাইকোর্টে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লেখা চিঠি নিয়ে রাজ্য পুলিশ তদন্ত করছে। সেই বিষয়েই কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন বিশ্বভারতীর প্রাক্তন উপাচার্য। বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছেন বুধবার।
পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত। টেনে এনেছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকেও। পুলিশ - প্রশাসনের কাজে যে মুখ পুড়ল৷ তাও পরিষ্কার বুঝিয়ে দিয়েছেন তাঁর মন্তব্যে। "রবীন্দ্রনাথ জীবিত থাকলে আপনারা তাঁকেও অভিযুক্ত করে দিতেন।" এমনই নজিরবিহীন মন্তব্য করলেন বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত।

বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাক্তন উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নয়। আদালতের নির্দেশ ছাড়া চার্জশিট বা কোনও ফাইনাল রিপোর্ট দেওয়া যাবে না। এমনই কড়া নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত। এর আগে আদালত বিদ্যুৎকে জেরা করার ব্যাপারেও নির্দেশ দিয়েছিলেন। প্রাক্তন উপাচার্যের বাড়ি গিয়ে পুলিশ জেরা করতে পারবে। এই কথা জানানো হয়েছিল।
বিশ্বভারতীর উপাচার্য থাকাকালীন বিদ্যুৎ চক্রবর্তী চিঠি লেখেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। সেখানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রসঙ্গে লেখা দীর্ঘ আলোচনার কথা ছিল। সেই চিঠিতে শালীনতার মাত্রা ছিল না। সেই অভিযোগ করা হয়েছিল। বীরভূমের পুলিশ তদন্তও শুরু করেছিল। তখনই আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন বিদ্যুৎ চক্রবর্তী।
এদিন আদালতে ওই চিঠি দেখে বিচারপতির প্রশ্ন, সেটায় ধর্তব্য যোগ্য অপরাধ কী আছে? রাজ্যের তরফে আইনজীবীর বক্তব্য, তদন্ত করে দেখতে হবে। এই কথা শুনে বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত বলেন, তার মানে আপনারা আগে ধারা যোগ করে দেন। পরে তদন্ত করে দেখেন আদৌ ধর্তব্যযোগ্য কি না?
এরপরেই নজিরবিহীন মন্তব্য করেছেন বিচারপতি৷ পুলিশের আচরণে বিরক্ত বিচারপতির মন্তব্য, রবীন্দ্রনাথ জীবিত থাকলে আপনারা তাঁকেও অভিযুক্ত করে দিতেন। ভাগ্যিস রবীন্দ্রনাথ জীবিত নেই। কী যে করতেন? তাকেও অভিযুক্ত করে দিতেন! এই কথায় স্বাভাবিকভাবেই আলোড়ন ছড়িয়ে পড়েছে৷
বিচারপতি আরও জানান, বিদ্যুৎ চক্রবর্তী মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লেখেন। এর মানে এই নয় যে সেই চিঠিতে দুটি গোষ্ঠীর মধ্যে ঝামেলা লাগতে পারে বা গুজব থেকে অশান্তি ছড়াতে পারে! বিদ্যুৎ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে আরেকটি মামলায় অভিযোগ তিনি টোটো চালককে টোটো চালাতে বাধা দিয়েছেন।
অভিযোগ শুনে বিচারপতির মন্তব্য, এইসব অভিযোগ করে আপনারা রাজ্য সরকারকে অপমান করছেন। বিশ্বাস করি না, রাজ্যের উচ্চপদস্থ কেউ এগুলো আপনাদের করতে নির্দেশ দিতে পারেন। আগামী ১১ জানুয়ারি বিকেল তিনটেয় এই মামলার রায় দেবেন বিচারপতি জয় সেনগুপ্ত।












Click it and Unblock the Notifications