রানি রাসমণি দেবীর বনেদি বাড়ির দুর্গাপুজো: এ বাড়িতে সখী বেশে দেবী আরাধনা করেছেন রামকৃষ্ণ দেব
রানি রাসমণি দেবীর বনেদি বাড়ির দুর্গা পুজো: এ বাড়িতে সখী বেশে দেবী আরাধনা করেছেন রামকৃষ্ণ দেব
কলকাতার বনেদি বাড়ির দুর্গাপুজোগুলির কথা বললে যে বাড়িতে একবার অন্তত ঘুরে আসা মাস্ট, সেটা জানবাজার অঞ্চলের রানি রাসমণি দেবীর বাড়ির পুজো। মধ্য কলকাতার জানবাজারে এসে এই পুজোর কথা জিজ্ঞেস করুন, হলদে রঙা বাড়ি দেখিয়ে দেবে যে কেউ। ঐতিহ্যের এই পুজোয় লুকিয়ে রয়েছে অনেক ইতিহাস। পুজোর সময় অন্য স্বাদের সাবেকি রীতি রেওয়াজের স্বাদ পেতে ঢুঁ মেরে আসতে পারেন এই পুজোয়।

পুজো শুরু কবে
১৭৯০ সালে এই পুজো শুরু হয়। এই পুজো শুরু করেন রানি রাসমণির শ্বশুরমশাই প্রিতিরাম দাস মহাশয়। ওনার পর ওনার ছেলে রাসমণি দেবীর স্বামী বাবু রাজ চন্দ্র দাস এই পুজো চালিয়ে নিয়ে যান। প্রসঙ্গত ওনার নামেই বাবুঘাটের নামকরণ। রাজচন্দ্রের মৃত্যুর পরবর্তী সময়ে ১৮৩৬ সাল থেকে রানি রাসমণি এই পুজোর দায়িত্ব নেন। ১৮৬১ সালে রানি রাসমণি দেবীর মৃত্যুর পর তাঁর জামাতা মথুরবাবু পুজোর দায়িত্ব নেন।

এই বনেদি বাড়িতে সখী বেশে দুর্গা পুজো করে গিয়েছেন রামকৃষ্ণ দেব
রানি রাসমণি দেবীর বাড়ির পুজো ঠাকুর দালান দেখলে তাক লেগে যাবে। সেই ঠাকুর দালানে সখী বেশে চামড় দুলিয়ে পুজো করে গিয়েছেন রামকৃষ্ণ দেব। মথুরবাবুর অনুরোধে ১৮৬৪ সালে রামকৃষ্ণ দেব সেবার দেবীর আরাধনা করেছিলেন।

দুর্গাপুজোয় এসে জগদ্বাত্রী পুজো পর্যন্ত একমাস ছিলেন রামকৃষ্ণ দেব
পরিবারের সদস্য শর্মিষ্ঠা হাজরা বলেন, মথুরবাবুর অনুরোধে দুর্গা পুজোয় এসে একবার একমাস ছিলেন রামকৃষ্ণ দেব। দুর্গা পুজোর পর কালী পুজো কাটিয়ে রানির বাড়িতে জগদ্বাত্রী পুজো করে তারপর পরবর্তী সময়ে এই ঠাকুর দালানে এক মাস থেকে রাসমণি দেবীর বাড়ির জগদ্বাত্রী পুজো করে তারপর দক্ষিণেশ্বরে ফিরে গিয়েছিলেন।

এই বনেদি বাড়ির পুজোয় তিনদিন কুমারী পুজোর রীতি রয়েছে
এই বনেদি বাড়িতে কোনও অন্নভোগ হয় না। মিষ্টি ভোগ হয়। লুচি-মিষ্টিতে দেবীকে নৈবেদ্য দেওয়া হয়। এ বাড়িতে তিনদিন ধরে কুমারী পুজোর রীতি রয়েছে। সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী তিন দিন কুমারী পুজো হয়। পুজোর দিনগুলির খাওয়াতেও একটা নিয়ম রয়েছে। শেষ পাত পড়ার আগে পরিবারের মহিলারা খেতে বসেন। শেষ ব্যাচে খেতে বসার আগের ব্যাচে বাড়ির সব মহিলাদের খেয়ে নেওয়ার নিয়ম। শেষ পাতে শুধুই বাড়ির পুরুষ সদস্যরা খাবেন।

বলিদান প্রথার পরিবর্তন
২০০৩ সালে এ বাড়ির দুর্গা পুজায় ছাগ বলিদান প্রথা বন্ধ করে দেওয়া হয়। এখন চালকুমড়ো, আখ বলিদান করা হয়। এবাড়িতে দশমীর দিনই বিসর্জনের নিয়ম রয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications