কড়া কমিশন, বাহিনীর এরিয়া ডমিনেশনের প্রত্যেকদিনের রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ
বাহিনীর এরিয়া ডমিনেসনের প্রত্যেকদিনের রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ নির্বাচন কমিশন
দুয়ারে কড়া নাড়ছে ভোট। যদিও এখনও ভোটের নির্ঘন্ট প্রকাশ হয়নি। মনে করা হচ্ছে চলতি মাসের শেষেই হয়তো ভোটের দিন ঘোষণা করা হতে পারে বলে খবর। আর তাঁর আগেই বাংলায় কেন্দ্রীয় বাহিনী। শনিবারই বাংলায় আসছে ১৫ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী।
এরপর ধীরে ধীরে মোট ১২৫ কোম্পানি বাহিনী বাংলায় আসবে বলে জানা গিয়েছে। জানা গিয়েছে, ৩৫টি পুলিশ জেলায় প্রথম পর্যায়ে ১২৫ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হবে। এমনটাই নির্দেশিকা কমিশনের তরফে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ভোট ঘোষণার আগে এমনভাবে বাহিনী মোতায়েন অনেকেই বলছেন তা নজিরবিহীন।

গতিবিধির বিস্তারিত রিপোর্ট প্রতিদিন জমা দিতে হবে
তবে শুধু বাহিনী মোতায়েন করলেই হবে না। বিস্তারিত রিপোর্ট জমা করতে হবে। জানা গিয়েছে, কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রত্যেকের গতিবিধির বিস্তারিত রিপোর্ট নেবে কমিশন। প্রতিদিন জমা দিতে হবে কমিশনের কাছে। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, এ বারে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন হওয়ার পরে তাঁরা কে, কোথায়, কখন ডিউটি করছেন বা কাজের ক্ষেত্রে সুবিধা, অসুবিধার পুঙ্খানুপুঙ্খ রিপোর্ট জমা দিতে হবে। সূত্রের খবর, শনিবার সকালেই কেন্দ্রীয় বাহিনী চলে আসবে বাংলায়। সবকছু ঠিক থাকলে রবিবার সকাল থেকেই এরিয়া ডোমিনেশনের কাজ শুরু হবে। তবে প্রত্যেকদিন বাহিনী কোন কোন এলাকায় টহলদারি চালাচ্ছে সেই সংক্রান্ত রিপোর্টও কলকাতায় মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে জানাতে হবে বলে জানা গিয়েছে।

কাদের দায়িত্বে এড়িয়া ডোমনেশন? তথ্য যাবে কমিশন
রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ইস্যুতে বারবার প্রশ্ন উঠেছে। এমনকি, বাংলায় ভোট করার ক্ষেত্রে পূর্ব অভিজ্ঞতা ভালো নয়। এই অবস্থায় প্রশ্নের মুখে পড়েছে কমিশনের ভূমিকাও। আর সেদিকে তাকিয়ে অবাধ এবং সুষ্ঠ ভোট করাতে বদ্ধ পরিকর কমিশন। আর তাই কোমর বেঁধে নেমেছে নির্বাচন কমিশন। জানা গিয়েছে, শুধু কেন্দ্রীয় বাহিনী সংক্রান্ত তথ্য দিলেই হবে না। রাজ্য পুলিশের তরফে কারা কারা কেন্দ্রীয় বাহিনীকে নিয়ে টহলদারি করছেন, তারও রিপোর্টও জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের কাছে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের এই নির্দেশ পৌঁছে গিয়েছে

স্পর্শকাতর জায়গাগুলিতে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্বে রাজ্য পুলিশ
মূলত কেন্দ্রীয় বাহিনীকে স্পর্শকাতর জায়গাগুলিতে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব থাকে রাজ্য পুলিশের হাতে। অভিযোগ ওঠে, রাজ্য প্রশাসনের আধিকারিকরা গণ্ডগোল যে দিকে হচ্ছে অন্যদিকে বাহিনী নিয়ে চলে যাচ্ছে। এবার সেই অভিযোগ যাতে না ওঠে সেদিকে তাকিয়েই বাড়তি ব্যবস্থা কমিশনের।

কেন্দ্রীয় বাহিনীর কাছেও রিপোর্ট নেবে কমিশন
কোম্পানির দায়িত্বে একজন করে উচ্চপদস্থ আধিকারিক থাকেন। এরিয়া ডোমিনেশনের সময় কোনও সমস্যা থাকলে সেই সংক্রান্ত তথ্যও কমিশন চাইবে বলে জানা গিয়েছে।

৩৫টি পুলিশ জেলায় মোতায়েন করা হবে বাহিনী
শনিবার ১৫ কোম্পানি এলেও এরপর থেকে ধাপে ধাপে আরও ১২৫ কোম্পানি বাহিনী আসবে বাংলায়। মুলত ৩৫টি পুলিশ জেলায় প্রথম পর্যায়ে ১২৫ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী ন্যূনতম ২ থেকে সর্বাধিক ৯ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হবে পুলিশ জেলাগুলিতে। ডায়মন্ডহারবার, কলকাতা, চন্দননগর সহ বেশ কয়েকটি জায়গায় ধাপে ধাপে বাহিনীকে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। মূলত 'স্পর্শকাতর' বলে চিহ্নিত এলাকাগুলিতে এখন থেকে টহল দেওয়ার কাজ শুরু হবে। বিরোধীরা বারবার কমিশনের কাছে দাবি জানায় যে, ভোটের আগেই কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হোক। রাজ্যের আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে তা করা হোক। আর সেই দাবি মেনেই মোতায়েন হতে চলেছে বাহিনী।












Click it and Unblock the Notifications