সাতসকালে প্রসূন-কল্যাণকে হুঁশিয়ারি! গার্ডেনরিচে বাড়ি ভেঙে পড়া নিয়ে দিলীপ ঘোষের নিশানায় তৃণমূল
রবিবার গভীর রাতে গার্ডেনরিচে বাড়ি ভেঙে দুর্ঘটনায় এখনও পর্যন্ত দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। এদিন সকালে সেখানে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নিউটাউনের ইকো পার্কে প্রাতর্ভ্রমণে গিয়ে এব্যাপারে তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ করেন বিজেপি সাংসদ দিলীপ ঘোষ।
তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে বেআইনি বিল্ডিং ডেভেলপমেন্ট খুব হচ্ছে, আর কাউন্সিলর, এমএলএ ,এমপিরা খুব টাকা খাচ্ছে। লোকাল নেতারাও টাকা খাচ্ছে। এখানে ব্রিজ ভেঙে পড়ে, নির্মীয়মান ফ্লাইওভার ভেঙে পড়ে এখন বিল্ডিং ভেঙে পড়ছে। এই যে দুর্নীতি হচ্ছে, যেখানে অর্ধেক টাকা দিয়ে দিতে হচ্ছে লোকাল নেতা ও কাউন্সিলরদের। ফলে কোনও মতে ইট-বালি দিয়ে দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে বাড়ি।

যে কিনছে তার পুরো জীবনটাও কাটাতে পারবে না, মাঝখানে ভেঙে পড়বে, এমনটাই মন্তব্য কর্ছেন দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, এই যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, এর পিছনে রয়েছে ব্যাপক দুর্নীতি। সেই জন্য সরকারকে সতর্ক হতে হবে। এগুলো তদন্ত হওয়া দরকার আছে। নতুন নতুন ফ্ল্যাট-বিল্ডিং যেগুলো তৈরি হচ্ছে, বেশিরভাগ অবস্থা এরকম আছে, তাঁর (দিলীপ ঘোষ) মনে হয়, ক্রেতা যাঁরা তাঁদের সাবধান হতে হবে।
মালদহ উত্তরের তৃণমূল প্রার্থী প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় প্রচার সভায় বলেছিলেন, কেন্দ্রীয় বাহিনী যদি ভয় দেখায়, তাহলে তাদের বসিয়ে রাখবেন বলবেন প্রসূন ব্যানার্জি আসছে, আইন কানুন সব বুঝে নেবেন। এব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে দিলীপ ঘোষ বলেন, প্রসূন ব্যানার্জি যেন মনে রাখেন তিনি এখন পুলিশ অফিসার নন। তিনি রাজনীতিতে এসেছেন। এত সহজে মানুষ তাঁকে ছেড়ে দেবেন না। সবকিছুর হিসাব দিতে হবে। ওইসব অন্য কাউকে দেখান, অনেক লোক এসে রাজনীতিতে এসে সিধে হয়ে গিয়েছে, সময় আসছে সবকিছু বুঝতে পারবেন, পাল্টা বলেছেন দিলীপ ঘোষ।
প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়কে বিচারব্যবস্থার কুলাঙ্গার বলেছেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এব্যাপারে দিলীপ ঘোষ বলেন, কে কুলাঙ্গার, কে কী, লোক জানে। উনার ভাষা এরকমই। তিনি সিনিয়র রাজনীতিবিদ। পশ্চিমবাংলার রাজনীতি কলুষিত, কুকথা হিংসা থেকে বাঁচাতে বড়দের দায়িত্ব নিতে হবে, যাতে এরকমটা না হয়। তিনি আরও বলেন, বাকিরা পশ্চিমবাংলা জুড়ে তৃণমূল নেতাদের ভাষণ শুনুন, বক্তব্য শুনুন কী ধরনের হুঁশিয়ারি মূলক ও গুন্ডাদের মতো কথাবার্তা বলছেন। পশ্চিমবঙ্গে এটা বন্ধ করা দরকার আছে, তা সাধারণ মানুষকেও ভাবতে হবে।
রাজ্যে শান্তি বজায় রাখতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে রাজ্যপালের কথা প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, চেষ্টা হচ্ছে সব রকম ভাবে, যাতে বাংলায় শান্তিপূর্ণ লোকসভা নির্বাচন হয়। আর কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন খুব সক্রিয় এ ব্যাপারে। একাধিক দফায় ভোট হচ্ছে, বারবার মিটিং করা হচ্ছে, যতক্ষণ না পশ্চিমবঙ্গের সরকার ও এখানকার প্রশাসন সহযোগিতা করছে। রাজনীতি করণ যদি তারা করে তাহলে শান্তিপূর্ণ ভোট সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।












Click it and Unblock the Notifications