পুলিশের সঙ্গে হাতাহাতি, হোমগার্ডকে চড়, বিজেপি কর্মীর দেহ নিয়ে ধুন্ধুমার NRS হাসপাতালে
পুলিশের সঙ্গে হাতাহাতি, হোমগার্ডকে চড়, বিজেপি কর্মীর দেহ নিয়ে ধুন্ধুমার NRS হাসপাতালে
মৃত বিজেপি কর্মীর দেহ সংগ্রহ নিয়ে ধুন্ধুমার এনআরএস হাসপাতালে। বৃহস্পতিবার এনআরএস হাসপাতালের মর্গ থেকে দেহ হাতে পায় পরিবার। দেহ হাতে পাওয়া নিয়ে পুলিশের সঙ্গে বিজেপি কর্মীদের ধস্তাধস্তি শুরু হয়। এমন কি পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। বিজেপি কর্মীরা হোমগার্ডকে মারধরও করেন বলে অভিযোগ। শেষ পর্যন্ত দীর্ঘ অশান্তির পর পরিবারের লোকেরা মৃত বিজেপি কর্মী অভিজিৎ সরকারের দেহ নিয়ে বিজেপি কার্যালয়ের উদ্দেশে রওনা হয়ে যান।

দেহ আনতে বিজেপি নেতারা
সকাল থেকেই এনআরএস হাসপাতালে ভিড় জমাতে শুরু করেছিলেন বিজেপি কর্মীরা। প্রায় চার মাস পরে অভিজিৎ সরকারের দেহ হাতে পাওয়ার কথা ছিল পরিবােরর। সকাল ১১টা মর্গ থেকে দেহ দেওয়ার কথা দেওয়া হয়েছিল। তার আগেই সেখানে পৌঁছে যান অভিজিৎ সরকারের দাদা বিশ্বজিৎ সরকার। ছিলেন বিজেপি সাংসদ অর্জুন সিং, নেত্রী প্রিয়াঙ্কা টিব্রেয়াল, শিবাজি সিংহ রায়, দেবদত্ত মাজি-সহ নেতা-কর্মীরা। পরিবারের লোকের অভিযোগ সকাল ১১টায় দেহ তাঁদের হাতে তুলে দেওয়ার কথা থাকলেও পুলিশ ঢিলেমি শুরু করে।

বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি
ভোট পরবর্তী হিংসায় মৃত অভিজিৎ সরকারের দেহ লোপাটের চেষ্টা করছিল প্রশাসন এমনই অভিযোগ করেন তাঁর পরিবারের লোকেরা। পুলিশের বিরুদ্ধে এই নিয়ে সরব হন তাঁরা। পুলিশের সঙ্গে বচসা শুরু হয়ে যায় বিজেপি নেতাদের। রীতিমত ধস্তাধস্তি বেধে যায়। বিজেপি নেতা দেবদত্ত মাজি এক হোমগার্ডকে চড় মারেন বলে অভিযোগ। এমনকী তিনি পুলিশকেও ধাক্কা দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। ঘটনার জেরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এনআরএস হাসপাতালে। তবে দেবদত্ত মাজি নিজে চড় মারার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেছেন ধাক্কা ধাক্কি হয়েছে কিন্তু চড় মারা হয়নি কাউকে।

ফুঁসে উঠলেন দিলীপ ঘোষ
এনআরএসের ঘটনা নিয়ে রীতিমতো ফুঁসে উঠেছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তিনি দেবদত্ত মাজির সমর্থনে বলেছেন, একজন হোমগার্ড কোন অধিকারে দেহ আটকে রাখেন। রীতিমত হুমকির সুরে তিনি বলেছেন ওকে সারা জীবন চাকরি করতে হবে। িতনি অভিযোগ করেছেন বিজেপি কর্মীরা সেখানে না গেলে দেহ লোপাট করে দিত পুলিশ প্রশাসন। বিজেপি কর্মীদের অভিযোগ দেহ লোপাট করার জন্যই ইচ্ছাকৃত ভাবে দেরী করানো হচ্ছিল। পরিবারের হাতে দেহ তুলে দিতে চাইছিল না পুলিশ। দিলীপ ঘোষ আবার বলেছেন, যদি হোমগার্ডকে চড় মারার অভিযোগ সত্যি হয় তাহলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দল পদক্ষেপ করবে। পুরো ঘটনাটাই মিথ্যে বলে দাবি করেছেন তিনি।

চার মাস পর দেহ পেল পরিবার
ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনায় খাস কলকাতায় কাঁকুড়গাছিতে খুন হয়েছিলেন অভিজিৎ সরকার। এই নিয়ে আদালতে মামলা পর্যন্ত হয়েছিল। পর পর ২ বার অভিজিৎ সরকারের দেহের ময়নাতদন্ত করা হয়। দ্বিতীয়বার আদালতের নির্দেশে ময়নাতদন্ত করা হয়। ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনার তদন্ত সিবিআইয়ের হাতে দেওয়া হয়েছে। সিবিআই আধিকারীকরা ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনার তদন্তে কাঁকুড়গাছিতেও গিয়েছিলেন।এদিকে আবার ভবানীপুরে মমতার বিপরীতে প্রার্থী করার জন্য অভিজিৎ সরকারের দাদা বিশ্বজিৎ সরকারের নামও প্রস্তাব করেছে বিজেপি। যদিও এখনও পর্যন্ত দিল্লির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব তা চূড়ান্ত করে উঠতে পারেনি।












Click it and Unblock the Notifications