• search

বেআইনি অভিবাসী সন্তানদের বাবা-মায়ের থেকে বিচ্ছিন্ন করে ভারতও, দোষ হয় কেবল ট্রাম্পের

Subscribe to Oneindia News
For Quick Alerts
ALLOW NOTIFICATIONS
For Daily Alerts

    যত দোষ নন্দ ঘোষেরই হয়, বা ডোনাল্ড ট্রাম্পের। মেক্সিকো থেকে আসা প্রায় ২০০০ অবৈধ শরণার্থী শিশুকে তাদের বাবা-মায়েদের থেকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা নিয়ে দেশে বিদেশে প্রবল সমালোচনার মুখে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। কিন্তু ভারতেও একই চর্চা চলে আসছে দীর্ঘদিন ধরে। অসংখ্য বাংলাদেশি উদ্বাস্তু শিশুকে বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয় তাদর বাবা-মায়েদের কাছ থেকে।

    বেআইনি আভিবাসী শিশুদের ক্ষেত্রে ভারত ও মার্কিন নীতি এক

    ১৯৪৬ সালের ফরেনার্স অ্যাক্ট-এর ১৪এ ধারা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নথিপত্র ছাড়া ভারতে প্রবেশ করলে বা বসবাস করলে বিদেশী নাগরিকদের ২ থেকে ৮ বছরের কারাদণ্ড হয়। বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের প্রায় ৪০৯৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে, যেখানে কোনও পাহাড়ার বন্দোবস্ত নেই। এর মধ্যে ২২১৭ কিমিই পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে। প্রতি বছরই এই দীর্ঘ সীমান্ত পেরিয়ে বেআইনি ভাবে অনেক বাংলাদেশী পরিবার ভারতে আশ্রয় নেন। ধরাও পড়লে তাদের কারাদণ্ড হয়। বাবা মায়েরা জেলে গেলে তাদের সন্তানদের পাঠানো হয় শিশু কল্যান সমিতি ও জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডে। তারপর তাদের ঠাই হয় বিভিন্ন আশ্রমে বা শেল্টার হোমে।

    পশ্চিমবঙ্গে এরকম অসংখ্য হোম রয়েছে। ছেলে ও মেয়েদের জন্য আলাদা করে বানানো এসব হোমে প্রত্যেক বছরই বেশ কিছু বাংলাদেশী শিশু জায়গা নেয়। তবে আমেরিকার মতো অতটা কড়াকড়ি ভারতীয় জেলে, নেই বলেই জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের শিশু অধিকার সুরক্ষা কমিশনের চেয়ারপার্সন অনন্যা চক্রবর্তী। তিনি জানান, অনেক সময়ই নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে গেলেও মা ও সন্তান যদি একে অপরকে ছাড়তে না চায়, জেল কর্মীরা তাদের আরও কিছুটা সময় একসঙ্গে কাটানোর সুযোগ দেন।

    বিষয়টি সমর্থন করেছেন দক্ষিণ ককলকাতার এরকম একটি শিশুদের শেল্টার হোম 'স্নেহ'-র কর্তৃপক্ষও। সেখানকার সুপারিন্টেন্ডেন্ট মমতা চক্রবর্তী জানিয়েছেন, তাঁরাই শিশুদের কারাগারে তাদের বাবা-মায়েদের সঙ্গে দেখা করাতে নিয়ে যান। তবে সবার ক্ষেত্রেই বিষয়টা এত মসৃণ হয় না। মমতা জানান, অনেক সময়ই বাবা-মা'কে দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হয়, আর সন্তানরা থেকে যায় তাঁদের হোমে। এসব ক্ষেত্রে সাধারণত পরে কাগজপত্র নিয়ে তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে স্নেহ-র উদ্যোগেই শিশুদের বাবা-মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

    সমাজকর্মীরা জানাচ্ছেন সবার ক্ষেত্রেই এমনটা ঘটে না। বাবা-মা-র জেল হলে শিশুদের হোমে পাঠানো হয়। আর এই একবার বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলেই তাদের মামলাগুলিও আলাদা আলাদাভাবেই দেখা হয়। আদালত থাকে আলাদা। বিচার হয় আলাদা। ফলে অনেক সময়ই বাবা-মা শিশুদের আর খোঁজ পান না।

    এর পাশাপাশি অন্য বিপদও আছে। হোমের শিশুদের কব্জা করার লক্ষ্যে অনেকসময়ই শিশু পাচারকারীরা ভূয়ো পরিচয়ে হানা দেয়। তাই তাদের রুখতে হোমগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। এতে করে নথিহীন বাবা-মায়েদের পক্ষে অনেক সময়ই নিজেদের সন্তানদের উদ্ধার করাটা দুষ্কর হয়ে পড়ে।

    তবে কোনও অবস্থাতেই বাবা-মায়েদের থেকে সন্তানদের বিচ্ছিন্ন করা উচিত নয় বলেই দাবি মানবাধিকার কর্মীদের। বাংলার মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চের সেক্রেটারি বিপ্লব চক্রবর্তী জানিয়েছেন, ভারত রাষ্ট্রসংঘের কনভেনশন অন দ্য রাইটস অব দ্য চাইল্ড বা ইউএসিআরসি-র সদস্য। এই কনভেনশনের আর্টিকল ৯ -এ বলা হয়েছে, বাবা-মা সন্তানের উপর অত্যাচার চালালে বা তাদের দেখভালে গাফিলতি করলে তবেই একমাত্র তাদের বাবা-মা-র থেকে আলাদা করা যায়। বিপ্লববাবু জানান, 'এরপরেও এই কাজ হয়ে চলেছে।'

    একই কাজ ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন করেন, তখন প্রতিবাদ হয় কলকাতায়, প্রতিবাদ হয় ভারতে। এখন নিজেদের ঘরেই একই খারাপ অনুসীলন চলছে জানার পর ঘরের ময়লা সাফ করতেও প্রতিবাদ হোক এটাই চাইছেন সমাজ ও মানবাধিকার কর্মীরা।

    English summary
    Not only in United States, India also separated Bangladeshi children from their parents for years.

    Oneindia - এর ব্রেকিং নিউজের জন্য
    সারাদিন ব্যাপী চটজলদি নিউজ আপডেট পান.

    We use cookies to ensure that we give you the best experience on our website. This includes cookies from third party social media websites and ad networks. Such third party cookies may track your use on Oneindia sites for better rendering. Our partners use cookies to ensure we show you advertising that is relevant to you. If you continue without changing your settings, we'll assume that you are happy to receive all cookies on Oneindia website. However, you can change your cookie settings at any time. Learn more