পৃথিবীর রহস্যময় গুহা অনিন্দ্য সুন্দর! যেন ২২২ কিলোমিটারজুড়ে মণি-মাণিক্য রত্নের ভাণ্ডার
চোখ ধাঁধানো বললেও কম বলা হয়। এমনই এক রহস্যময় গুহার সন্ধান মিলেছিল ৮০-র দশকে। সেই গুহা মণি-মাণিক্য-জহরতে ভরা। যাকে এককথায় বলা য়ায় ভূ-গর্ভস্থ রত্নের খনি। নিছক সাধারণ পাঁচটা গুহার মতো নয়, পৃথিবীর দ্বিতীয় গভীরতম ও নবম দীর্ঘতম গুহি এটি।
কোথায় অবস্থান সেই গুহার? কী বা নাম তার? নাম তার আগাভে লেচুগুইলা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত গুহাটি ২২২ কিলোমিটার দীর্ঘ। আর তা গবীরতায় ৪৮৯ মিটার। প্রাকৃতিকভাবেই এই গুহার গঠন বিরল প্রকৃতির। অস্বাভাবিক ভূতত্ত্ব ও আদি অবস্থার জন্যই তা বিশেষভাবে বিখ্যাত।

আসলে পৃথিবী বড়োই রহস্যময়। এই পৃথিবীর নানা প্রান্তে কত কিছু ছড়িয়ে রয়েছে, তা আজও অজানা রয়ে গিয়েছে। তারই মধ্যে আবিষ্কার হচ্ছে নানা রহস্যঘন জনপদ, পাহাড়-পর্বত, গুহা-কত কিছু। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো কার্লসবাদ ক্যাবার্নস ন্যাশনাল পার্কে গেলেই মিলবে এই গুহার দেখা।
অনুমতি নিয়ে গুহায় প্রবেশ করা যাবে। বৈজ্ঞানিক, গবেষক-সহ অন্যান্য অনুসন্ধিৎসু মানুষ এই গুহায় ঢুকতে পারে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই লেচুগুইলা গুহা তাদের মধ্যে অন্যতম। ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত মানুষের কাছে গুহাটি অজানা ছিল। গুরুত্বহীন এক পরিত্যক্ত এলাকা বলে পরিচিত ছিল।
সে বছরই এক অভিযাত্রী দল পৌঁছয় সেখানে। তারাই আবিষ্কার করে ওই গুহার। নামকরণও করেন তাঁরাই। তারপর শুরু হয় লেচুগুইলা গুহায় রাস্তা তৈরির কাজ। প্রথমে কেউই এর আকার সম্পর্কে ধারণা করতে পারেননি। এর ভিতরে ঢোকার পরই উন্মোচিত হতে থাকে রহস্য।

এই লেচুগুইলা গুহায় এখন পর্যন্ত ২২২ কিলোমিটার গুহাপথ আবিষ্কৃত হয়েছে। কিন্তু রহস্যের শেষ এখানেই নয়। আর গুহার এই গভীরতা ও দীর্ঘতাও আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু নয়, এই গুহায় রহস্য সেখানেই যে, গুহার ভিতরে রয়েছে মণি-মাণিক্য, জহরতের ভাণ্ডার। আর রয়েচে প্রাকৃতিক বৈচিত্র।
এই গুহার ভিতরে আপনা থেকেই তৈরি হয়েছে নির্মাণশৈলী, যা দেখে বিস্মিত গবেষকরা। বিভিন্ন রকম নকশার ক্রিস্টালে মোড়া রয়েছে এই গুহা। এর কোনোটা দেখতে বিশালাকার ফুলের মতো, কোনোটা প্রাসাদের খামের মতো। এই ক্রিস্টালগুলো তৈরি হয়েছে জিপসাম থেকে। জিপসাম হল একটি খনিজ লবণ যা তৈরি হল চুনাপাথর থেকে।

গুহাতে জিপসামের এই সজ্জা মাইলের পর মাইলজুড়ে বিস্তৃত। কিন্তু গুহার মধ্যে কীভাবে তৈরি হল জিপসামের ক্রিস্টাল, তা নিয়ে গবেষণা চলছে আজও। পৃথিবীর বেশিরভাগ গুহা বৃষ্টির জলে ক্ষয়প্রাপ্ত হলেও লেচুগুইলা গুহার পাথরের ক্ষয় হয়েছে মূলত সালফিউরিক অ্যাসিড দ্বারা।
গবেষকরা জানান, সালফিউরিক অ্যাসিড চুনাপথরে দ্রবীভূত হয়ে তৈরি হয়েছে জিপসাম। তার ফলে প্রাকৃতিকভাবে সজ্জিত হয়েছে চোখ ধাঁধানো ক্রিস্টাল সমন্বিত ওই গুহা। এই গুহার ভিতরে প্রাকৃতিকভাবেই সৃষ্টি হয়েছে কক্ষ। তার নাম দেওয়া হয়েছে শ্যান্ডেলিয়ার বলরুম।
সূর্যের আলো না ঢুকলেও গুহার ভিতরে যেভাবে মণি-মাণিক্য-জহরতসম ক্রিস্টাল সজ্জা তৈরি হয়েছে, যেভাবে তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ফুটে উঠেছে, তা এককথায় অনবদ্য। প্রকৃতির এই সৌন্দর্যই এই লেচুগুইলা গুহার আকর্ষণ। অনিন্দ্য সুন্দর এই গুহাতাই পর্যটনেরও এক গন্তব্য হয়ে উঠেছে।












Click it and Unblock the Notifications