আর কাজে আসতে হবে না, ফিরিয়ে দিচ্ছে অফিস, তালিবান শাসনের সত্যিটা ফাঁস করলেন মহিলা সাংবাদিক
আর কাজে আসতে হবে না, ফিরিয়ে দিচ্ছে অফিস, তালিবান শাসনের সত্যিটা ফাঁস করলেন মহিলা সাংবাদিক
নারী স্বাধীনতা দেওয়ার কথা কেবল মুখেই বাস্তবে যে কি ঘটছে আফগানিস্তানে তা প্রকাশ্য আসনের এক আফগান মহিলা সাংবাদিক। ভারতের এক প্রথম সারির সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওই মহিলা সাংবাদিক জানিয়েছেন তালিবানরা কাবুল দখল করার পরের দিন তিনি যখন অফিসে যান তখন তাঁকে ঢুকতে দেওয়া হয়নি অফিসে। ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। অথচ সেই অফিসে কাজ করছেন তাঁর পুরুষ সবকর্মীরা।

নারী স্বাধীনতার দেওয়ার দাবি
২০ বছর পর ফের তালিবান শাসনে আফগানিস্তান। আতঙ্কে কাঁটা আফগান নারীরা। গোটা বিশ্বের কাছে নিজেদের বদলে যাওয়া ইমেজ তুলে ধরতে তালিবানরা সাংবাদিক বৈঠক করে দাবি করে তাঁরা মেয়েদের কাজের বিরুদ্ধে নয়। নারীদের স্বাধীনতা লঙ্ঘিত হতে দেবে না তারা। এমনকী দেশের মহিলা চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করেন তালিবান নেতারা। তাঁদের কর্মক্ষেত্রে সুরক্ষা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তাঁরা। তালিবানদের এই ঘোষণার পর অনেকটাই বুকে বল পেয়েছিলেন আফগান নারীরা।

বাস্তব কী বলছে
তালিবানরা নারী স্বাধীনতা দেওয়ার কথা বললেও বাস্তবের পরিস্থিতি কিন্তু একেবারেই অন্যরকম। নারী স্বাধীনতা দেওয়ার কথা ঘোষণার পরের দিনই আফগানিস্তানে সব সরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের মহিলা সঞ্চালিকাদের বরখাস্ত করা হয়। তার জায়গায় তালিবানদের কাজে লাগানো হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। আফগানিস্তানের এক মহিলা সাংবাদিক জানিয়েছেন তালিবানরা কাবুল দখলের পরের দিন সকালে তিনি যখন অফিসে যান তখন অফিসের গেট থেকেই ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে তাঁকে। বলা হয়েছে তুমি মেয়ে তাই তুমি বাড়ি ফিরে যাও। একানে কাজ করতে হবে না। অথচ তাঁর পুরুষ সহকর্মীদের কিন্তু কাজে যোগ দিতে দেওয়া হয়েছে।

ইসলাম আইন মেনে স্বাধীনতা
তালিবানরা সাংবাদিক বৈঠক করে জানিয়েছিল ইসলাম আইন মেনে নারীদের স্বাধীনতা দেওয়া হবে। মেয়েদের কাজ করার বিরোধী নয় তারা। ২০ বছর আগের তালিবানদের সঙ্গে তাঁদের গুলিয়ে ফেললে হবে না। তখনকার থেকে এখন অনেকটাই উন্নত তালিবানরা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজেদের বদলে ফেলেছে তারা। নিজেদের উন্নততর তালিবান বলে দাবি করেছেন তাঁরা।এমনকী সরকার গঠনে মহিলাদের এগিয়ে আসার বার্তাও দিয়েছেন তালিবান নেতারা।

শরিয়তি আইন কী বলে
শরিয়তি আইন মেনেই ২০ বছর আগে মহিলাদের সব স্বাধীনতা হরণ করে ফেলেছিল তালিবানরা। ঘরের কোনায় বন্দি হয়ে ছিল তাঁদের জীবন। বোরখা পরে বাইরে বেরোত হত। শিক্ষার অধিকার ছিল না। ছিল না একা বাইরে বেরনোর স্বাধীনতাও। এই আইনের কোনও রকম লঙ্ঘন হলেই জুটত চরমনির্যাতন। কখনও প্রকাশ্য রাস্তায় নির্যাতনের শিকার হতে হত আফগান নারীদের। আবার কখনও পাথর ছুরে হত্যা করা হত তাদের।












Click it and Unblock the Notifications