সৌদি আরবের এতো ঘটনার নেপথ্য কারণ কী ?

  • Posted By: BBC Bengali
Subscribe to Oneindia News
সৌদি যুবরাজ মোহাম্মেদ বিন সালমান
BBC
সৌদি যুবরাজ মোহাম্মেদ বিন সালমান

(সৌদি আরবের ঘটনাবলী নিয়ে বিবিসির নিরাপত্তা বিষয়ক সংবাদদাতা ফ্রাঙ্ক গার্ডনারের প্রতিবেদন)

সৌদি আরবে এখন অনেক বড় বড় ঘটনা ঘটছে।

দেশটিতে রাজপরিবারের সদস্য, মন্ত্রী, শীর্ষ ব্যবসায়ীরা গ্রেপ্তার হচ্ছেন। তাদেরকে বিলাসবহুল হোটেলে আটকে রাখা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ আনা হচ্ছে, ব্যক্তিগত বিমানগুলো আটকে রাখা হয়েছে আর সম্পত্তি জব্দ করা হচ্ছে।

আরো খবর:

শেষ মোগল সম্রাটের কবর যেভাবে পাওয়া যায় ইয়াঙ্গনে

কে এই নিখোঁজ মোবাশ্বার হাসান?

মহাশূন্যে একটি বছর কাটাতে কেমন লাগে?

এসব কিছুর পেছনে রয়েছে ৩২ বছর বয়সী সৌদি যুবরাজ মোহাম্মেদ বিন সালমান, যিনি সদ্য গঠিত দুর্নীতি দমন কমিটিরও প্রধান।

কিন্তু এত কিছু কেন ঘটছে? এর কারণ কী শুধুই দুর্নীতি? নাকি যুবরাজের ক্ষমতা করায়ত্তের কৌশল?

আটককৃতদের রিয়াদের এই বিলাসবহুল হোটেলে আটকে রাখা হয়েছে
Reuters
আটককৃতদের রিয়াদের এই বিলাসবহুল হোটেলে আটকে রাখা হয়েছে

উত্তরটা হলো, দুটোই।

দুর্নীতি সৌদি আরবে প্রচলিত একটি ব্যাপার। তেল সম্পৃদ্ধ এই দেশটিতে ব্যবসা করতে গেলে ঘুষ বা উপঢৌকন দেয়া যেন ব্যবসারই একটি অংশ।

সেখানে যারা গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোয় বসে আছেন, তাদের অনেকেই অকল্পনীয় সম্পদের মালিক। কিন্তু সরকারি বেতনে এত অর্থ উপার্জন সম্ভব না। তাদের বেশিরভাগ সম্পদই এসেছে বিভিন্ন অফ শোর একাউন্ট থেকে।

সৌদি আরবের এই ধনাঢ্য কিছু ব্যক্তির পেছনেই লেগেছেন যুবরাজ মোহাম্মেদ বিন সালমান, আর তাকে সমর্থন দিচ্ছেন তার পিতা ৮১ বছর বয়সী বাদশাহ সালমান।

তিনি একটি বার্তা দিতে চান যে, ব্যবসার পুরনো রীতিনীতি আর চলবে না। সৌদি আরবের এখন সংস্কার দরকার এবং একুশ শতকের সঙ্গে তাল মেলাতে একটি আধুনিক জাতি হয়ে ওঠা দরকার।

এসব গোপন বা অফ শোর হিসাবের অর্থও পেতে চাইছে সৌদি সরকার। অর্থের হিসাবে যা হবে আনুমানিক প্রায় ৮০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

গত জুনে উত্তরাধিকারী হিসাবে যুবরাজ মোহাম্মেদের নাম ঘোষণা করেন বাদশাহ সালমান
AFP
গত জুনে উত্তরাধিকারী হিসাবে যুবরাজ মোহাম্মেদের নাম ঘোষণা করেন বাদশাহ সালমান

কিন্তু এর শেষ কোথায়? দেশটির অ্যাটর্নি জেনারেল এর মধ্যেই জানিয়েছেন, প্রথম ধাপের মাত্র সমাপ্তি হয়েছে। তার মানে সামনে আরো অনেকে গ্রেপ্তার হতে যাচ্ছেন।

যদিও ক্ষমতাসীন আল সৌদ পরিবার কখনোই প্রকাশ করেনি, দেশটির তেল বিক্রির কি পরিমাণ অর্থ রাজপুত্র বা রাজপরিবারের সদস্যদের পেছনে খরচ হয়, যাদের সংখ্যা কয়েক হাজার।

২০১৫ সালে যুবরাজ নিজেই ৫০০মিলিয়ন ইউরো (৫০০০ কোটি টাকা) খরচ করে রাশিয়ান এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে একটি বিলাসবহুল ইয়াট কিনেছেন বলে শোনা যায়।

এখন অনেক সৌদি সাধারণ নাগরিকের আশা, বিত্তশালীদের এসব সম্পদ সাধারণ মানুষের পেছনেই খরচ করা হবে। যদিও এই তদন্তের শেষ ঠিক কোথায় হবে, তা পরিষ্কার নয়।

প্রিন্স মিতেব বিন আবদুল্লাহ ছিলেন দেশটির ন্যাশনাল গার্ড বাহিনীর প্রধান, যাকে সম্পতি সরিয়ে দেয়া হয়েছে
Reuters
প্রিন্স মিতেব বিন আবদুল্লাহ ছিলেন দেশটির ন্যাশনাল গার্ড বাহিনীর প্রধান, যাকে সম্পতি সরিয়ে দেয়া হয়েছে

তবে শুধু এসব বিষয়ই নয়, পুরো ঘটনার সঙ্গে ক্ষমতার যোগসূত্র আছে।

৩২ বছর বয়সী যুবরাজ মোহাম্মেদ বিন সালমান বা এমবিএস, যে নামেও তিনি পরিচিত, এর মধ্যেই দেশের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র গুলোয় ক্ষমতা করায়ত্ত করেছেন।

তিনি এখন বিশ্বের যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ দেশের মধ্যে সবচেয়ে কম বয়সী প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তিনি দেশে একটি অর্থনৈতিক উন্নয়ন পরিকল্পনা চালু করেছেন, যার উদ্দেশ্য দেশের তেল নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনা।

পিতার প্রিয় পুত্র হিসাবে তিনি দেশটির সর্বময় ক্ষমতাশালী রাজকীয় আদালতও পরিচালনা করেন।

তার ঘনিষ্ঠ মিত্রও রয়েছে। ওয়াশিংটন সফর এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিয়াদ সফরের পর হোয়াইট হাউজের সঙ্গেও তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। ইয়েমেনের সঙ্গে একটি লড়াই এবং কাতারের সঙ্গে ব্যর্থ বয়কটের সিদ্ধান্তের পরেও তিনি দেশের তরুণদের কাছে যথেষ্ট জনপ্রিয়।

তবে তার কিছু শত্রুও আছে।

২০১৮ সালের জুন থেকে রক্ষণশীল এই দেশটির নারীরা গাড়ি চালানোর অনুমতি পাবেন
AFP
২০১৮ সালের জুন থেকে রক্ষণশীল এই দেশটির নারীরা গাড়ি চালানোর অনুমতি পাবেন

সৌদি আরবের ন্যাশনাল গার্ড বাহিনী যেমন কিছুটা শঙ্কায় রয়েছে।

সাবেক বাদশাহ আব্দুল্লাহর নিয়ন্ত্রণে ছিল এই বাহিনী। এরপর থেকে তার ছেলে প্রিন্স মিতেব বিন আবদুল্লাহ পরিচালনা করতেন। কিন্তু গত শনিবার তাকে এই দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে।

ফলে সমর্থনকারী গোষ্ঠী আর গোত্র নেতারাও সংশয়ে পড়ে গেছেন।

যুবরাজ জানেন, তিনি যেসব সংস্কার পরিকল্পনা নিতে যাচ্ছেন, অনেকেই তার বিরোধিতা করবে। তবে তিনি এখন কিছু উদাহরণ দেখাতে চান যে, তার পরিকল্পনায় যেই বাধা হয়ে দাঁড়াবে, তাদের তিনি সরিয়ে দেবেন।

রাজকীয় পরিবারের অনেক সদস্যরা চিন্তিত যে, তিনি খুব তাড়াতাড়ি অনেক বড় পদক্ষেপ নিচ্ছেন। তবে তাদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ, দেশটির ধর্মীয় নেতারা এসব পদক্ষেপকে কিভাবে দেখবেন? যাদের সমর্থনের উপরে আল সৌদ পরিবার অনেকটাই নির্ভরশীল।

ক্ষমতা করায়ত্ত করার এসব প্রচেষ্টা আর নারীদের গাড়ি চালনার অনুমতি দেয়ার মতো বিষয়গুলো তারা মেনে নিয়েছেন। কিন্তু পশ্চিমা ধাপের বিনোদন, সিনেমা হল চালুর মতো বিষয়গুলো তারা কিভাবে নেবেন, তা পরিষ্কার নয়।

বিশেষ করে তরুণদের চাকরির যেসব প্রতিশ্রুতি যুবকরা সালমান দিয়েছেন, তার রক্ষা করাও তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

শনিবারের এসব পদক্ষেপ কি উন্নত, স্বচ্ছ সৌদি আরবের দিকে নিয়ে যাবে , নাকি দেশটিকে আরো জটিলতার দিকে ঠেলে দেবে, তা হয়তো সময়ই বলে দেবে।

আরো পড়তে পারেন:

বন্দীদশা থেকে যেভাবে ক্ষমতার কেন্দ্রে এলেন জিয়া

হাজার হাজার মানুষ শেষ ধাপের ক্যান্সারে আক্রান্ত

খিচুড়ির বিশ্বরেকর্ডকে চ্যালেঞ্জ আজমের শরিফ দরগার

ভেড়া 'মানুষের মুখ চিনতে পারে'

BBC
English summary
What is the reason behind Saudi Arabia problems
Please Wait while comments are loading...