নেড়ে চেড়ে দেখেও কোনও লাভ নেই, আমেরিকার ফেলে যাওয়া বিমান ওড়াতে পারবে না তালিবান
দিন ১৫ আগেই কাবুলের মসনদে পৌঁছেছে তালিবান। গত কয়েকদিন ধরে কাবুল বিমানবন্দর ছিল মার্কিন সেনার দখলেই। কিন্তু সোমবার রাতে ২০ বছরের ইতিহাসে ইতি টেনে কাবুল বিমানবন্দর থেকে উড়েছে আমেরিকার শেষ বিমান।
দিন ১৫ আগেই কাবুলের মসনদে পৌঁছেছে তালিবান। গত কয়েকদিন ধরে কাবুল বিমানবন্দর ছিল মার্কিন সেনার দখলেই। কিন্তু সোমবার রাতে ২০ বছরের ইতিহাসে ইতি টেনে কাবুল বিমানবন্দর থেকে উড়েছে আমেরিকার শেষ বিমান।

২০০১ থেকে গত ২০ বছর ধরে যুদ্ধবিমান থেকে অত্যাধুনিক অস্ত্র, অনেক কিছু দিয়েই জঙ্গি দমনের চেষ্টা করেছে আমেরিকা। তাই এই কয়েকদিনের মধ্যে সে সব ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। আর তালিবানের হাতে সে সব অস্ত্র উঠলে কী হতে পারে সেই আতঙ্ক ঘুম উড়েছে অনেকেরই।
কিন্তু ফিরিয়ে না নিয়ে যেতে পারলেও তালিবান যাতে সেই অস্ত্র ব্যবহার করতে না পারে, সেই ব্যবস্থা অন্তত করে গিয়েছে আমেরিকা। পেন্টাগনের তরফে এটুকু নিশ্চিত করা হয়েছে যে আমেরিকার ফেলে আসা বিমান কোনোদিন আর ওড়ানো যাবে না। কাবুল বিমানবন্দর ছাড়ার আগেই সেগুলিকে বিকল করে দিয়ে এসেছে মার্কিন সেনাবাহিনী।
এ ছাড়া, রকেট হামলার মোকাবিলা করার জন্য বিশেষ 'রকেট ডিফেন্স সিস্টেম ছিল মার্কিন সেনার। বিকল করে দেওয়া হয়েছে সেগুলিও। অকেজো হয়েই আফগানিস্তানের মাটিতে পড়ে থাকবে সব অস্ত্র, বিমান, সামরিক গাড়ি। হামভিজ নামে বেশ কয়েকটি সামরিক গাড়িও ফেলে গিয়েছে আমেরিকা।
পেন্টাগনের তরফে মার্কিন সেনার অফিসার জেনারেল কেনেথ ম্যাকেঞ্জি জানিয়েছেন, আগে থেকেই মার্কিন সেনার ৭৩টি বিমান নিয়ে আসা হয়েছিল কাবুল বিমানবন্দরে। আর সেগুলি সবই বিকল করে দেওয়া হয়েছে। গত ২ সপ্তাহ ধরে উদ্ধারকাজ চালানোর পর অবশেষে বিকল করা হয়েছে সেগুলি।
জেনারেল ম্যাকেঞ্জি জানান, 'ওই বিমানগুলি আর কোনোদিনই উড়বে না। ওরা কোনোদিন ওগুলো ওড়াতে পারবে না।' তিনি আরও জানিয়েছেন, অন্তত ৭০টি গাড়িও ফেলে এসেছে আমেরিকা, তালিবান চাইলে সেগুলিও চালাতে পারবে না তালিবান। ওই গাড়িগুলির একেকটির দাম ১০ লক্ষ ডলার।
এ দিকে মার্কিন সেনা চলে যাওয়ার পর তালিবান 'স্বাধীনতা' উদযাপন করেছে। তালিবানের মুখপাত্র জাবিবুল্লাহ মুজাহিদ মার্কিন সেনার সরে যাওয়াকে আফগানিস্তানের পূর্ণ স্বাধীনতা বলে উল্লেখ করেন। কাবুল বিমানবন্দরে গিয়ে ঘুরেও আসে তারা। আনন্দে শুনশান বিমানবন্দরের ছবিও ক্যামেরাবন্দি করে তারা।
মার্কিন সেনার বিমানগুলিতেও ঘুরে দেখে তালিবান। কিন্তু কোনও লাভ নেই। ওড়ানো যাবে না এগুলি।
উল্লেখ্য, আফগানিস্তানের মাটিতে আটকে বহু বিদেশি নাগরিক। রয়েছেন প্রায় ২০০ মার্কিন নাগরিক। কিন্তু মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর সেই সমস্ত বিপর্যস্ত মার্কিনি তথা অন্যান্য দেশের নাগরিকদের নিয়ে ক্রমেই বাড়ছে আশঙ্কা।












Click it and Unblock the Notifications