জে অ্যান্ড জে ভ্যাকসিন উৎপাদনের সম্ভাবনা ভারতে, যৌথ প্রস্তুতকারকের খোঁজে আমেরিকা
জে অ্যান্ড জে ভ্যাকসিন উৎপাদনের সম্ভাবনা ভারতে, যৌথ প্রস্তুতকারকের খোঁজে আমেরিকা
জনসন অ্যান্ড জনসন কোভিড–১৯ ভ্যাকসিনের জন্য ভারতে যৌথভাবে উৎপাদন এবং সিরাম ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়ার মতো ভারতীয় প্রস্তুতকারকদের সারা বিশ্বে ভ্যাকসিন চাহিদা মেটাতে উৎপাদনের গতি বাড়ানোর সহায়তা করার উপায় খুঁজছে আমেরিকা, মঙ্গলবার মার্কিন কূটনীতিবিদ জানিয়েছেন এই তথ্য।

এখনই অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিন নয়
মার্কিন চার্জ ডি অ্যাফেয়ার্স ড্যানিয়েল স্মিথ জানিয়েছে যে অ্যাস্ট্রাজেনেকা ভ্যাকসিনের মার্কিন মজুত, যা মনে করা হচ্ছে ১ কোটি ডোজ রয়েছে, তা মার্কিন ফুড ও ড্রাগ প্রশাসন (এফডিএ) দ্বারা টিকাগুলি নিরাপদ ও কার্যকরের শংসাপত্র না পাওয়া পর্যন্ত অন্য কোনও দেশের সঙ্গে ভাগ করা যাবে না, কারণ যে সংস্থা এই ভ্যাকসিন উৎপাদন করবে তাদের সঙ্গে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।

মার্কিন প্রশাসন কাঁচা মাল পাঠানোতে সহায়তা করছে
কেরিয়ার কৃটনীতিবিদ, যিনি একসময় আমেরিকার ভারপ্রাপ্ত সচিবের দায়িত্ব পালন করেছেন, সেই স্মিথকে গতমাসে দিল্লিতে মার্কিন মিশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান হিসাবে মনোনীত করা হয়। ভারতে করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ওয়েভের মহামারি দেশে সংক্রমণের হারকে বেশ কয়েকদিন ধরে ৩ লক্ষের গণ্ডি পেরিয়ে নিয়ে গিয়েছে, স্মিথ বিডেন প্রশাসনকে এ বিষয়ে অবহিত করতে ও ভারতকে এই মহামারির বিরুদ্ধে লড়াই করতে সহায়তা করে চলেছেন। একটি ভার্চুয়াল বৈঠকে তিনি জানান যে জরুরি ভিত্তিতে ভ্যাকসিন প্রস্তুতের জন্য ভারত সরকারের কাঁচা মালের তালিকা ও অন্যান্য জিনিস সরবরাহের জন্য মার্কিন প্রশাসন কাজ করছে কিন্তু বিশ্বজুড়ে সরবরাহ চেইন ব্যাহত হওয়ার কারণে এটা অতটাও সহজ কাজ নয় বলে সতর্ক করেন তিনি। স্মিথ বলেন, 'আমরা খুব কাছ থেকে এগুলি নিয়ে কাজ করছি, তালিকায় কোন কোন জিনিস রয়েছে, কোনটা আমরা দিতে পারব এবং কত দ্রুত তা সরবরাহ করতে পারব। আমি শুধু এটা বলতে চাই যে এটা কোনও সহজ কাজ নয়। অর্থাৎ, এই ভ্যাকসিনগুলির জন্য পূর্ববর্তী এবং কাঁচামালগুলির প্রয়োজনীয়তা বিশ্বজুড়ে সব দেশেরই রয়েছে, তাই বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের মুখে আমরা।'

জনসন অ্যান্ড জনসনের জন্য যৌথ উৎপাদনকারী
ভ্যাকসিনের উৎপাদন বাড়াতে আমেরিকা এসআইআই ও অন্যান্য ভারতীয় ভ্যাকসিন উৎপাদকের সঙ্গে কাজ করতে যেমন আগ্রহী, তেমনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতে জনসন অ্যান্ড জনসন ভ্যাকসিনের জন্য যৌথ উৎপাদনকারী খুঁজছে এবং এ বিষয়ে আলোচনা করার জন্য আমেরিকা বেসরকারি ক্ষেত্রগুলিকে উৎপাদনের জন্য আহ্বান করেছে। স্মিথ বলেন, 'আমি জানি (ইউএস ইন্টারন্যাশনাল) ডেভলপমেন্ট ফিনান্স কর্পোরেশন (ডিএফসি) দেখছে যে আমরা কীভাবে বিনিয়োগ করতে পারি যাতে ভারতে জনসন অ্যান্ড জনসন ভ্যাকসিন তৈরি করতে আমরা সহায়তা করতে পারি।' স্মিথ এও জানিয়েছে যে আমেরিকা তার নিজস্ব অ্যাস্ট্রাজেনেকা ভ্যাকসিন উৎপাদনের সরবরাহ থেকে সরে এসে ভারতের জন্য ২ কোটির বেশি ডোজ প্রস্তুত করেছে।

আমেরিকা থেকে কাঁচা মালের প্রয়োজন সিরামের
অন্যদিকে, এসআইআইয়ের প্রধান আদর পুনাওয়ালা সম্প্রতি জানিয়েছেন যে নোভাভ্যাক্স সংস্থার কোভোভ্যাক্স ভ্যাকসিন উৎপাদনের জন্য আমেরিকার থেকে কাঁচামালের প্রয়োজন রয়েছে, যা বিডেন প্রশাসন প্রতিরক্ষা উৎপাদন আইনের আওতায় সরবরাহ বন্ধ রেখেছে। একই সময়ে ভারত ও অন্যান্য দেশগুলিও আমেরিকার থেকে প্রায় ১ কোটি অ্যাস্ট্রাজেনেকা ভ্যাকসিন ডোজের প্রত্যাশা করে রয়েছে, তবে স্মিথ জানিয়েছেন যে এঠা এখনই সম্ভব নয় যতক্ষণ না এফডিএ এই ভ্যাকসিনের নিরাপদ ও কার্যকারিতার বিষয়ে শংসাপত্র দিচ্ছে।












Click it and Unblock the Notifications