করোনা-ঢাল ব্যবহারে আরও বেশি আগ্রাসী চিন! লাদাখ ইস্যুতে বেজিংয়ের মুখোশ খুলল আমেরিকা
চিনকে ক্রমেই গোটা বিশ্ব আরও বেশি আগ্রাসী হতে দেখেছে বিভিন্ন সীমান্ত ইস্যুতে। এই সময়ে যখন সাপা বিশ্ব করোনা সংক্রমণে জর্জরিত, তখন এই ভাইরাসের উৎসস্থল মেতেছে শক্তি প্রদর্শনের খেলায়। এবং চিনের এই দুষ্টু চাল শুরু হয়েছিল লাদাখ সীমান্তে। গত বেশ কয়েক মাস ধরে এই উত্তেজনা সৃষ্টি করে চিন। যা চরমে ওঠে গালওয়ানের সংঘর্ষের মাধ্যমে।

ফের চিনকে দোষারোপ করে ভারতের পাশে আমেরিকা
লাদাখের ক্রমবর্ধমান এই উত্তেজনার জন্য চিনকে দোষারোপ করে আগেই ভারতের পাশে দাঁড়িয়েছিল আমেরিকা। এবার একধাপ এগিয়ে আমেরিকার দাবি, করোনাকে ঢাল হিসাবে ব্যবহার করেই ক্রমে আরও বেশি আগ্রাসী হয়ে যাচ্ছে চিন। এবং চিনের এই আগ্রাসী মনোভাব, বিশেষ করে লাদাখে তাদের কর্মকাণ্ড বিশ্ব মোটেই ভালো ভাবে নিচ্ছে না।

বেজিংকে তোপ দাগেন মার্ক এসপার
এই বিষয়ে মার্কিন প্রতরিক্ষা বিষয়েক সচিব মার্ক এসপার বেজিংকে তোপ দেগে বলেন, 'চিন করোনাকে তাদের প্রোপাগান্ডা প্রচারের খাতিরে কাজে লাগাচ্ছে।' তিনি আরও বলেন, 'আমরা দেখেছি গত সাত মাসে যখন বিশ্ব করোনা ভাইরাসে জর্জরিত, তখন সেই মহামারীর সুযোগ নিয়ে চিন বারবার বিভিন্ন সীমান্ত উত্তেজনা তৈরি করেছে। দক্ষিণ চিন সাগরে তারা ক্রমেই তাদের বাহুবল দেখানোর প্রক্রিয়া জারি রেখেছে।'

চিন ইচ্ছা করে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে
এরপর তিনি আরও বলেন, 'চিন প্রতিবেশী দেশগুলির হাত মুড়িয়ে দিয়ে তাদের এই কঠিন সময়ে হারাতে বদ্ধপরিকর হয়ে উঠেছে। এই কারণেই লাদাখের নিয়ন্ত্রণরেখা বরাবর ক্রমেই আরও সেনা বাড়িয়ে পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করে তুলছে চিন। এরকম আগ্রাসী মনোভাব বিশ্ব মেনে নেবে না। ভিয়েতনাম ও ফিলিপিনসের সঙ্গেও চিন উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে।'

বেশ কয়েকটি দেশের চক্ষুশূল চিন
চিন এই মুহূর্তে মার্কিন মুলুক সহ বেশ কয়েকটি দেশের চক্ষুশূল। বেজিং এর আগ্রাসী নীতি ও প্রতিবেশী দেশের ভূখণ্ডে কোপের নীতি কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না আমেরিকা। মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস নিমিৎসের সঙ্গে ভারতের নৌসেনা যৌথ মহড়ায় নামে কয়েকদিন আগেই। আন্দামানের কাছে সেই মহড়া শেষ হতেই, দক্ষিণ চিন সাগরের মুখে অস্ট্রেলিয়া ও জাপানের মতো দেশের নৌসেনার সঙ্গে মহড়ায় নামে মার্কিন যুদ্ধবিমান বাহক জাহাজ রোনাল্ড রেগান।

দক্ষিণ চিন সাগর নিয়ে উত্তেজনা ও সংঘাত
আদতে সম্পদ সমৃদ্ধ দক্ষিণ চিন সমুদ্র সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য চিন সব সময়ই নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করেছে৷ 'ঐতিহাসিক অধিকারের' উপর ভিত্তি করে দক্ষিণ চিন সমুদ্রের উপর চিনের কর্তৃত্বকে ২০১৬ সালের সালিশির মাধ্যমে প্রত্যাখান করা হয়েছিল৷ কিন্তু তারপরও এই দক্ষিণ চিন সমুদ্রের উপর থেকে নিজেদের নজর সরায়নি চিন৷

তাইওয়ানের বিরুদ্ধে সামরিক প্রস্তুতি বাড়াচ্ছে চিন
গত কয়েক মাস ধরে এই অঞ্চলেও সামরিক হুমকি বাড়িয়ে চলেছে চিন। তারা তাইওয়ান দখলে নেওয়ার পরিকল্পনা জোরদার করছে, এমনটাই অভিযোগ করা হচ্ছে তাইওয়ানের তরফে। দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা লক্ষ করলে দেখা যাবে, চিন ধীরে ধীরে তার সামরিক প্রস্তুতি বাড়িয়ে তুলছে। বিশেষত তাইওয়ানের নিকটবর্তী পানিসীমা ও আকাশসীমায় তারা এ কাজ করে চলছে। তাদের পক্ষ থেকে হুমকি বেড়েই চলছে। এই আবহে মার্কিন সরকারের এক উচ্চপদস্থ সচিবের তাইওয়ান বৈঠক এবং সেদেশের সঙ্গে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দেখা করা নিঃসন্দেহে চিনের কাছে বড় ধাক্কা।












Click it and Unblock the Notifications