আমিরশাহীতে 'আশ্রয়' পলাতক আফগান প্রেসিডেন্ট গনি ও তাঁর পরিবারের
কাবুল পতনের পর সেদেশের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট আশরফ গনি কোথায় রয়েছেন, তা নিয়ে বহু প্রশ্ন রয়ে গিয়েছিল। এদিকে, তাঁর অবস্থানের নিরিখে একাধিক রিপোর্ট সামনে আসতে শুরু করেছিল। তবে এদিন আমিরশাহী সাফ জানিয়েছে আফগানিস্তানের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট আশরফ গনি আপাতত রয়েছেন আমিরশাহীতে।

প্রথমের দিকে জানা গিয়েছিল যে সম্ভবত তাজিকিস্তানের দিকে যেতে পারেন আশরফ গনি। তবে সেই সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয় তাজিকিস্তান। জানা যায়, রবিবার কাবুল পতনের পর সেদেশে যাননি গনি। এরপর রাশিয়ার রিপোর্ট বলে দেয় যে আফগানিস্তানের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট আশরফ গনি একটি হেলিকপ্টার, বহু নগদ টাকা ও চারটি গাড়ি নিয়ে আফগানিস্তান ছেড়ে তলে গিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে দেশের বহু মানুষকে আতান্তরে ফেলে কার্যত দেশ ছেড়েছেন আশরফ গনি। এমন পরিস্থিতিতে বিশ্ব জুড়ে গনির দিকে ধেয়ে আসে সমালোচনার ঝড়। সন্দেহ জাগে তিনি ওমানে অবস্থান করছেন কি না। তবে পরবর্তীকালে জানা যায়, তিনি আরব আমিরশাহীতে আশ্রয় নিয়েছেন। এদিন আমিরশাহীর তরফেই একথা জানানো হয়েছে। আমিরশাহী সরকার জানিয়েছে যে , মানবিকতার নিরিখে গনিকে আমিরশাহীতে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে।
জানা গিয়েছে আফগানিস্তানের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট ও তাঁর পরিবারকে আশ্রয় দিয়েছে আমিরশাহী। এই জাায়গা থেকে আফগানিস্তানের বর্তমান শাসক তালিবানের সঙ্গে আমিরশাহীর কী সম্পর্কের খাত থাকতে পারে, তা নিয়ে জল্পনা রয়ে গিয়েছে। এর আগে কাবুলের বুকে তালিবান পা রাখার পরই ক্ষমতা হস্তান্তর নিয়ে গনির সঙ্গে তালিবান নেতাদের বৈঠক হয়। তারপর সোশ্যাল মিডিয়ায় গনি জানিয়ে দেন যে , দেশে যাতে আর একটিও রক্তপাত না হয়, তার কথা ভেবেই তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। যদিও তারপর একাধিক জায়গা থেকে আফগানিস্তানে রক্ত ঝরার খবর পাওয়া যায়। জানা যায়, বোরখা না পরার অপরাধে মহিলাকে হত্যা করা হয়, কোথাও আবার আফগান জাতীয় পতাকার অবমাননা দেখে কেউ গর্জে উঠতেই তাঁদের গুলি করে মারা হয়। এছাড়াও কাবুল বিমানবন্দর থেকে লাখ লাখ মানুষ দেশ ছাড়ার জন্য জড়োহতেই সেখানেও গুলি চলার শব্দ শুনতে পাওয়া গিয়েছে। গোটা আফগানিস্তান বর্তমানে বারুদের স্তূপে রয়েছে তালিবান শাসনে। করোনা নিয়ে ইতিমধ্যেই বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা হু উদ্বেগ জারি করেছে আফগানিস্তানের প্রেক্ষিতে। সেই জায়গা থেকে সেখানে টিকাকরণের প্রক্রিয়া স্থগিত হয়েছে তালিবানি আগ্রাসনের মাঝে, বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। সেই জায়গা থেকে রক্তপাতের পরম্পরা কার্যত দাপটে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে তালিবানরা। এমন অবস্থায় আফগান প্রেসিডেন্টের আমিরশহীতে আশ্রয় একটি তাৎপর্যপূ্র্ণ দিক।












Click it and Unblock the Notifications