১০ দিনের আল্টিমেটাম ট্রাম্পের, ব্রিটেন বেস দিতে নারাজ, যুদ্ধের আশঙ্কায় টানটান মধ্যপ্রাচ্য
মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে আবারও ঘনিয়ে আসছে সংঘাতের মেঘ। চরম উত্তেজনার আবহে ইরানকে সরাসরি ১০ থেকে ১৫ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্পষ্ট ভাষায় তাঁর বার্তা সমঝোতা না হলে পরিস্থিতি ইরানের জন্য "দুর্ভাগ্যজনক" হয়ে উঠতে পারে।
এই হুঁশিয়ারি এসেছে এমন এক সময়ে, যখন যুক্তরাষ্ট্র অঞ্চলটিতে নজিরবিহীন সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করেছে। দুইটি বিমানবাহী রণতরীসহ অতিরিক্ত যুদ্ধজাহাজ ও যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফর্ড, যা ভূমধ্যসাগরের প্রবেশমুখে অবস্থান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত সক্ষমতা বাড়িয়ে তুলেছে।

সংঘাতের সম্ভাবনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে যুক্তরাজ্যের অবস্থান। প্রধানমন্ত্রী কেইর স্টারমার এর প্রশাসন মার্কিন অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য হামলার জন্য ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। বিশেষ করে সুইন্ডনের কাছে অবস্থিত আরএএফ ফেয়ারফর্ড থেকে দূরপাল্লার বোমাবর্ষণের অনুমতি দেয়নি লন্ডন।
ব্রিটিশ সরকারের যুক্তি প্রতিরোধমূলক হামলায় জড়িয়ে পড়া আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী হতে পারে। পাশাপাশি চাগোস দ্বীপপুঞ্জ মরিশাসের হাতে হস্তান্তর নিয়ে চলমান বিতর্কও পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তুলেছে।
অন্যদিকে তেহরানও চুপ করে নেই। রাশিয়ার সঙ্গে যৌথ সামরিক মহড়া চালানোর পাশাপাশি ইরান চলতি সপ্তাহেই হরমুজ প্রণালীতে সরাসরি গুলি চালিয়ে সামরিক মহড়া করেছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ বাণিজ্যিক তেল এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয় ফলে এখানকার সামান্য উত্তেজনাও বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
ইরান স্পষ্ট জানিয়েছে, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করা বা আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার মার্কিন ইসরায়েলি দাবিতে তারা রাজি নয়। একই সঙ্গে হুঁশিয়ারি তাদের ওপর হামলা হলে গোটা অঞ্চল জুড়ে বড় যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়তে পারে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমের দাবি, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনাবাহিনী 'স্ট্যান্ডবাই' অবস্থায় রয়েছে ও প্রয়োজনে দ্রুত হামলা চালাতে প্রস্তুত। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন স্বয়ং ট্রাম্প। সম্প্রতি তিনি তাঁর শীর্ষ উপদেষ্টা স্টিভ উইটকফ
ও জ্যারেড কুশনার এর সঙ্গে বৈঠক করে ইরান সংক্রান্ত আলোচনার অগ্রগতি খতিয়ে দেখেছেন।
এখন প্রশ্ন একটাই কূটনৈতিক আলোচনায় কি সমাধান মিলবে, নাকি মধ্যপ্রাচ্য আবারও জড়িয়ে পড়বে এক বিধ্বংসী সংঘাতে? আগামী ১০ দিনই হয়তো তার উত্তর দেবে।












Click it and Unblock the Notifications