• search
For Quick Alerts
ALLOW NOTIFICATIONS  
For Daily Alerts

রুনু ভেরোনিকা কস্তা: বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের প্রথম ভ্যাকসিন বা টিকা নিলেন যে নার্স

  • By BBC News বাংলা

নার্স রুনু ভেরোনিকা কস্তা (কালো কোট পরা)
BBC
নার্স রুনু ভেরোনিকা কস্তা (কালো কোট পরা)

কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স রুনু ভেরোনিকা কস্তাকে এক ডোজ ভ্যাকসিন দেয়ার মাধ্যমে বাংলাদেশে শুরু করেছে করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে টিকা দেয়ার কর্মসূচি।

প্রথম দিনে মোট ২৬ জনকে টিকা দেয়া হয়।

বুধবার বিকালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টিকাদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

এরপরেই প্রথম টিকা নেয়া বাংলাদেশে প্রথম টিকা নেয়া ব্যক্তি রুনু ভেরোনিকা কস্তার সঙ্গে বিবিসি বাংলার কথা হয়।

সংবাদদাতা কাদির কল্লোলকে এই স্বাস্থ্যকর্মী বলছিলেন যে তিনি চান তাকে দেখে বাংলাদেশের মানুষ যেন টিকা নিতে অনুপ্রাণিত হন এবং তাদের মনের ভেতর যেন ভ্যাকসিন নিয়ে কোন ভয়ভীতি না থাকে।

তিনি বলেন, ''ভ্যাকসিন যখন আমাদের দেশে সহজলভ্য হবে, তারা যেন নিঃসন্দেহে এই ভ্যাকসিন নিয়ে নেন। এভাবে আমরা সবাই দেশকে করোনামুক্ত করার চেষ্টা করবো।''

''দেশে যখন করোনাভাইরাস আসে, তখনই মনে হয়েছে, এটা একটা যুদ্ধ। সেই যুদ্ধে স্বাস্থ্যবিধি মেনে এতদিন ধরে অনেকটা জয়ী হয়ে আসতে পেরেছি। এখন আমরা আরেকটি আশা দেখতে পেলাম, সেটা হলো ভ্যাকসিন,'' বলছিলেন মিজ কস্তা।

গাজীপুরের মেয়ে রুনু ভেরোনিকা কস্তা টাঙ্গাইলের কুমুদিনী নার্সিং ইন্সটিটিউট থেকে ২০০২ সালে ডিপ্লোমা কোর্স সম্পন্ন করেন। এরপর কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতালে নার্স হিসাবে কাজ করার পর ২০১৩ সালে যোগ দেন ঢাকার কুর্মিটোলা হাসপাতালে।

স্বামী ও দু'টি সন্তান নিয়ে তার পরিবার।

একজন ফ্রন্টলাইনার হিসেবে তাকে যে টিকাটি তাদের দেয়া হয়েছে, সেটির উদ্ভাবক অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা, আর ভারতের সিরাম ইন্সটিটিউটে এটি তৈরি হয়েছে কোভিশিল্ড ব্র্যান্ড নাম নিয়ে।

করোনাভাইরাস মোকাবেলায় বাংলাদেশে ভ্যাকসিন কর্মসূচি শুরু হলেও টিকা নেওয়ার ক্ষেত্রে বেশ কিছু মানুষের মধ্যে অনীহার কথা প্রকাশ পেয়েছে।

সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি বিভাগ টিকা সম্পর্কিত একটি জরিপ চালিয়েছে। ওই জরিপে দেখা যায় যে বাংলাদেশের মাত্র ৩২ শতাংশ মানুষ টিকা কার্যক্রমের একেবারে শুরুতে টিকা নিতে আগ্রহী। আরও ৫২ শতাংশ আগ্রহী, তবে তারা এখনই নয়, বরং দেখে শুনে পরে নিতে চান।

বুধবারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, কোভিশিল্ড নামের যে টিকাটি বাংলাদেশে দেয়া হচ্ছে, "এ পর্যন্ত এটিই সবচেয়ে নিরাপদ ভ্যাকসিন, অন্য সব ভ্যাকসিনের তুলনায়"।

রুনু ভেরোনিকা কস্তাও বলেন, টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নিয়ে অনেকেই অনেক কথা বলছেন, তবে তার নিজের মনে হয়েছে যে এটা নিলে কোন সমস্যা হবে না।

"আমি নিজে থেকেই ভ্যাকসিন নিয়েছি।''

বিবিসি বাংলায় আরও পড়ুন:

কুর্মিটোলার নার্স রুনুকে দিয়ে উদ্বোধন হলো টিকা অভিযানের

করোনাভাইরাস ভ্যাকসিন নিয়ে আপনার যত প্রশ্ন ও তার উত্তর

করোনাভাইরাসের টিকা নিতে হলে জন্মসনদ দিয়ে নিবন্ধন করতে হবে

ভারতের কোভিড টিকাগুলো সম্পর্কে আমরা কতটা জানি

রুনু ভেরোনিকা কস্তা সাংবাদিকদের বলছিলেন, তিনি স্বেচ্ছায় টিকা নিতে আগ্রহী হয়েছেন
BBC
রুনু ভেরোনিকা কস্তা সাংবাদিকদের বলছিলেন, তিনি স্বেচ্ছায় টিকা নিতে আগ্রহী হয়েছেন

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে রুনু কস্তার সঙ্গে আরও চারজন টিকা নিয়েছেন, যারা হলেন কুর্মিটোলা হাসপাতালের চিকিৎসক আহমেদ লুৎফুল মোবেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক নাসিমা সুলতানা, ট্রাফিক পুলিশের সদস্য দিদারুল ইসলাম এবং সেনাবাহিনীর কমকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম ইমরান হামিদ।

প্রথম দিনে এই পাঁচ জনের বাইরে আরও ২১ জনকে টিকা দেওয়া হয়েছে - যাদের মধ্যে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ রয়েছেন।

উদ্বোধনের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মিজ কস্তার সাথে কুশল বিনিময় করেন।

"ভয় পাচ্ছ না তো" - শেখ হাসিনা জানতে চান তার কাছে।

জবাবে মিজ কস্তা বলেন, "জ্বি না"।

বাংলাদেশে প্রথম টিকা নেয়া ব্যক্তি হওয়ায় গর্ব অনুভব করছেন বলে জানান রুনু কস্তার।

''শারীরিকভাবে আমার কোন সমস্যা নেই, আমি পুরোপুরি সুস্থ রয়েছি,'' বলেন তিনি।

বাংলাদেশে এরই মধ্যে ৭০ লাখ ডোজ কোভিশিল্ড টিকা মজুত করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০ লাখ ডোজ এসেছে গত ২১শে জানুয়ারি ভারতের শুভেচ্ছা উপহার হিসেবে।

আর বাকী ৫০ লাখ ডোজ এসেছে সিরাম ইন্সটিটিউটের সাথে ক্রয়চুক্তির অংশ হিসেবে।

ভারতে সিরাম ইনস্টিটিউটের তৈরি কোভিড-১৯ টিকা
Getty Images
ভারতে সিরাম ইনস্টিটিউটের তৈরি কোভিড-১৯ টিকা

বাংলাদেশের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে কয়েকদিন ধরে ঢাকার আরও চারটি হাসপাতালে শ'পাঁচেক মানুষকে পরীক্ষামূলকভাবে টিকা প্রদান করা হবে এবং এদের সবাই স্বাস্থ্যকর্মী।

বাকী হাসপাতালগুলো হচ্ছে - উত্তরার কুয়েত মৈত্রী হাসপাতাল, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল।

টিকা দেওয়ার পর এই মানুষগুলোকে পর্যবেক্ষণে রাখা হবে।

আর পুরোদমে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হবে আগামী ৮ই ফেব্রুয়ারি। শুরুতেই পাবেন সম্মুখসারিতে থাকা বিভিন্ন পেশার মানুষেরা।

পাশাপাশি ৫৫ বছরের ঊর্ধ্বে বয়সের ব্যক্তিরাও টিকা নেয়ার সুযোগ পাবেন।

বিবিসি বাংলার অন্যান্য খবর:

করোনাভাইরাস ভ্যাকসিন নিয়ে আপনার যত প্রশ্ন ও তার উত্তর

করোনাভাইরাসের টিকা নিতে হলে জন্মসনদ দিয়ে নিবন্ধন করতে হবে

ভারতের কোভিড টিকাগুলো সম্পর্কে আমরা কতটা জানি

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের টিকা নেয়ার আগে-পরে করনীয়

BBC

English summary
বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের প্রথম ভ্যাকসিন বা টিকা নিলেন যে নার্স
চটজলদি খবরের আপডেট পান
Enable
x
Notification Settings X
Time Settings
Done
Clear Notification X
Do you want to clear all the notifications from your inbox?
Settings X