কাবুলের পরিস্থিতি গনি জমানার তুলনায় ভালো রেখেছে তালিবানরা, মুখ খুলল রাশিয়া
কাবুলের পরিস্থিতি গনি জমানার তুলনায় ভালো রেখেছে তালিবানরা, মুখ খুলল রাশিয়া
সেদেশের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট আশরফ গনি এখন কোথায় রয়েছেন কেউ জানে না আনুষ্ঠানিকভাবে। তবে মনে করা হচ্ছে আফগানিস্তানের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট আশরফ গনি আপাতত গা ঢাকা দিয়ে রয়েছেন ওমানে। রাশিয়ার রিপোর্ট বলছে , শেষবার হেলিকপ্টারে বহু নগদ টাকা তুলে দেশ ছাড়তে দেখা গিয়েছে গনিকে। সঙ্গে ছিল বহু মূল্য ৪ টি গাড়ি। এই রাশিয়ার তরফেই কাবুলে রাষ্ট্রদূত হিসাব রয়েছেন দিমিত্রি জিরোনভ। তিনি জানিয়েছেন যে আপাতত গনি আমলের থেকে তালিবান জমানায় ভালো পরিস্থিতিতে রয়েছে কাবুল।

২৪ ঘণ্টায় নিরাপদ কাবুল
যেখানে তালিবান ত্রাসের জেরে গোটা আফগানিস্তানের মানুষ দেশ ছাড়ার জন্য মুখিয়ে রয়েছেন, সেখানে বিমানে অন্যত্র যেতে গিয়ে বিমান থেকে পড়ে যেতে দেখা গিয়েছে দুজনকে। সেই জায়গায় রবিবার তালিবানরা কাবুল দখলের পরই রাশিয়া জানিয়েছে, ' গুড, পজিটিভ ' আর বাণিজ্যের জন্য উপযুক্ত পরিস্থিতি রয়েছে আফগানিস্তানের কাবুলে। রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, আশরফ গনির আমলের থেকে অনেকটাই ভালো পরিস্থিতি বর্তমান কাবুলের । তিনি জানান, কাবুল তালিবানের আমলে অত্যন্ত সুন্দর পরিস্থিতিতে রয়েছে।

তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে সাম্রাজ্য
রাশিয়ার বর্ণনায় বলা হয়েছে, রবিবার এই তালিবানি সাম্রাজ্য কার্যত তাসের ঘরের মতো পড়ে যায়। রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতের বর্ণনায় বহুদিন ধরেই আফগানিস্তানের বুকে কোনও মতেই নির্দিষ্ট ব্যবস্থা ছিল না। এদিকে, রবিবার কাবুলের পতনের পর আফগানিস্তানের বুকে শাসনব্যবস্থায় ফাঁক থেকে গিয়েছে। রাশিয়ার বর্ণনায় গনি জমানায় রাস্তায় রাস্তায় ঘুরত লুঠতরাজের দল। ছিল প্রবল দুর্নীতি। সেই পরিস্থিতির থেকে বর্তমানা তালিবান জমানায় কাবুল ভালো আছে।

তালিবানি জমানায় বহু বছর আগে উদ্ধার হয় প্রাক্তন প্রেসিডেন্টের ক্ষতবিক্ষত দেহ
ঘটনা নয়ের দশকের। যখন আফগানিস্তানের বুকে বারবার গৃহযুদ্ধ দেখা দেয়। সেই সময় রাশিরার নিয়ন্ত্রণে কূটনীতি চলে যায় আফগানিস্তানের। সেই আমলে মদহম্মদ নজিবুল্লাহকে আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্টের চেয়ারে বসায় রাশিয়া। এরপরবর্তকালে সেখানে মুজাহিদিনের সঙঅগে নাজিবুল্লাহ মতভেদ হয়। শেষে পরিস্থিতি ফের একবার অভ্যুত্থানের দিকে যেতেই নাজিবুল্লাহ দেশ ছাড়তে চান। শোনা যায়, আফগান প্রেসিডেন্টকে আশ্রয় দিতে রাজিও ছিল ভারত। তবে শেষ মুহূর্তে আফগান প্রেসিডেন্টের সবচেয়ের কাছের মানুষই তাঁর সঙ্গে বিশ্বাস ঘাতকতা করে বেরিয়ে যান। শেষে ৪ বছর আফগানিস্তানের রাষ্ট্রসংঘের ভবনে থাকেন নাজিবুল্লাহ। তবে পরে তালিবান সেদেশে জাগ্রত হতেই ভবনে ঢুকে নারকীয়ভাবে তালিবানরা হত্যা চালায়। শেষে ভবনের সামনে মৃত প্রেসিডেন্টের ক্ষতবিক্ষত দেহ বিদ্যুতের খুঁটিতে ঝুলিয়ে দেয় তালিবানরা। সেই থেকে শুরু নির্মমতার।

রাশিয়া ও গনি
এদিকে, রবিবার কাবুল পতনের পর আফগানিস্তানের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট গনি পদত্যাগ করতেই , তিনি পরের দিনই দেশ ছাড়েন। তিনি এক পোস্টে জানিয়ে দেন যে , দেশে রক্তপাত আর চান না বলেই তিনি পদত্যাগ করেন। এরপর রাশিয়া জানায় ,যেভাবে গনি সরকারের পতন হয়েছে, আর আশরফ গনি দেশ ছেড়েছেন তা লজ্জাজনক।












Click it and Unblock the Notifications