ওয়াশিংটনে বিমানবন্দরে সামরিক হেলিকপ্টারের সঙ্গে যাত্রীবাহী বিমানের মুখোমুখি সংঘর্ষ, বহু মৃত্যুর আশঙ্কা!
মাঝ আকাশে মুখোমুখি সংঘর্ষ! যাত্রীবাহী বিমানের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ সামরিক হেলিকপ্টারের। ভয়ঙ্কর ঘটনাটি ঘটল যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনের কাছে রোনাল্ড রিগান ন্যাশনাল এয়ারপোর্টে। অবতরণের সময় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে বলে জানা গিয়েছে। এই দুর্ঘটনার ফলে বিমানবন্দরে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।
ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) নিশ্চিত করেছে যে, স্থানীয় সময় রাত ৯টার দিকে (ইএসটি) উইচিটা, কানসাস থেকে আসা একটি আঞ্চলিক জেট বিমান, একটি সামরিক ব্ল্যাকহক হেলিকপ্টারের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। সেই সময় যাত্রীবাহী বিমানটি অবতরণ করছিল বলেই জানা গিয়েছে।

এখনও পর্যন্ত এই ঘটনায় হতাহতের কোনও খবর সামনে আসেনি। তবে আশঙ্কা করা হচ্ছে বেশ কয়েকজন যাত্রীই প্রাণ হারিয়ে থাকতে পারেন। যা জানা যাচ্ছে, পোটোম্যাক নদীতে ভেঙে পড়ে বিমানটি। ইতিমধ্যেই জরুরী তৎপরতায় শুরু হয়েছে উদ্ধারকাজ।
দুর্ঘটনার পরপরই জরুরি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। এখন পর্যন্ত হতাহতের বিষয়ে কোনো সরকারি তথ্য পাওয়া যায়নি, তবে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বিমানবন্দরের সমস্ত ফ্লাইট চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল টাওয়ার থেকে পাওয়া রেডিও যোগাযোগের রেকর্ডে দেখা গেছে, সংঘর্ষের আগে নিয়ন্ত্রকরা হেলিকপ্টারকে সতর্ক করেছিলেন।
এই ঘটনার পর মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এক বিবৃতিতে বলেন, "আজ সন্ধ্যায় রিগান বিমানবন্দরের কাছে মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সেই ঘটনায় জড়িত সবার জন্য প্রার্থনা করুন। আমরা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি এবং সবার নিরাপত্তার জন্য প্রার্থনা করছি"।
এদিকে, এফএএ এবং ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (এনটিএসবি) যৌথভাবে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। কীভাবে এই সংঘর্ষ ঘটল এবং কোনো প্রযুক্তিগত ত্রুটি ছিল কিনা, তা খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
যা জানা যাচ্ছে, হোয়াইট হাউস এবং ক্যাপিটল থেকে মাত্র ৪.৮ কিলোমিটার দূরে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। অবতরণের কয়েক মিনিট আগে, এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলাররা আগত যাত্রীবাহী বিমানকে জিজ্ঞাসা করেছিল যে এটি রিগান জাতীয় বিমানবন্দরের ছোট রানওয়ে ৩৩-এ অবতরণ করতে পারা যায় কিনা? আর তাতে পাইলটরা ইতিবাচক উত্তর দিয়েছিলেন।
কন্ট্রোলাররা তারপর রানওয়ে ৩৩-এ অবতরণের জন্য বিমানটিকে গ্রীন সিগন্যাল দেন। কিন্তু ফ্লাইট ট্র্যাকিং সাইটগুলি দেখায় যে যখন ল্যান্ডিং প্রসেস শুরু হয় তখন দেখা যায় বিমানটি নতুন রানওয়েতে নামতে শুরু করেছে। আর সেখানেই তখন দাঁড়িয়েছিল সামরিক হেলিকপ্টার। আর তাতেই ঘটে যায় এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা। হঠাৎ কেন বিমানটি রানওয়ে বদলালো তা নিয়েই তদন্ত শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ।












Click it and Unblock the Notifications