ভারতের কড়া সিদ্ধান্তের পরই করাচি উপকূলে মিসাইল পরীক্ষার সিদ্ধান্ত পাকিস্তানের, প্রকাশ্যে চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট
জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগাঁও-এ ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা দ্রুত বেড়ে চলেছে। ঘটনায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর একদিকে ভারতের কঠোর প্রতিক্রিয়া - অপরদিকে পাকিস্তানের ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার ঘোষণা - উপমহাদেশে নতুন করে অশান্তির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
পাকিস্তান সরকার একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়েছে, তারা করাচি উপকূলে নিজেদের এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোনের (EEZ) মধ্যে থেকে একটি ভূমি থেকে ভূমিতে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করতে চলেছে। এই তথ্য প্রতিরক্ষা সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদ সংস্থা ANI জানিয়েছে। ভারতীয় গোয়েন্দা ও প্রতিরক্ষা বিভাগ ঘটনার উপর নজরদারি বাড়িয়েছে।

বুধবার ভারতের সিকিউরিটি ক্যাবিনেট কমিটি (CCS) জরুরি বৈঠক ডেকেছে। বৈঠকে পহেলগাঁও-এর জঙ্গি হামলায় ইসলামাবাদের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয় এবং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত হল - ১৯৬০ সালের সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।
বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রি সাংবাদিকদের জানান, "২২ এপ্রিল পহেলগাঁও-এর হামলায় ২৫ জন ভারতীয় এবং ১ জন নেপালি নাগরিক নিহত হয়েছেন। বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। CCS এই হামলার তীব্র নিন্দা করেছে এবং নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে"।
ভারতের কঠোর সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে পাকিস্তান বৃহস্পতিবার একটি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন নিরাপত্তা বৈঠকে বসছে। রেডিও পাকিস্তান জানিয়েছে, এই বৈঠকে তিন বাহিনীর প্রধান, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীরা উপস্থিত থাকবেন। বৈঠকে ভারতের সিন্ধু চুক্তি স্থগিত ও কূটনৈতিক সম্পর্ক হ্রাসের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়ার রূপরেখা তৈরি করা হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জম্মু-কাশ্মীরের এই হামলা এবং তার প্রতিক্রিয়ায় ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক ফের এক সংকটজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। যদিও দুই দেশের মধ্যে পুরনো বিরোধ নতুন নয়, তবে সিন্ধু চুক্তির স্থগিতকরণ একটি জলসম্পদ ও আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বড় ধাক্কা বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা।
পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, এখন তাকিয়ে গোটা বিশ্বই। কেননা ভারতের এই ঘটনায় সমবেদনা প্রকাশ করেছে বিশ্বের তাবড় তাবড় দেশ। এমনকি ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজে জানিয়েছেন, ভারত যা সিদ্ধান্ত নেবে, তাতে তারা পূর্ণ সহযোগিতা করবে। স্বাভাবিক ভাবেই, সন্ত্রাস ও সীমান্ত রাজনীতির ছায়ায় ফের একবার অনিশ্চয়তায় উপমহাদেশ।












Click it and Unblock the Notifications