ইরানি যুদ্ধজাহাজ ঘিরে নতুন জল্পনা, শ্রীলঙ্কা উপকূল থেকে ৯ নটিক্যাল মাইল দূরে রণতরী
ভারত মহাসাগরে ইরানের যুদ্ধজাহাজ ঘিরে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। শ্রীলঙ্কা সরকার জানিয়েছে, তাদের জলসীমার মধ্যেই একটি ইরানি যুদ্ধজাহাজ থাকলেও সেটি দেশের উপকূল থেকে প্রায় ৯ নটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থান করছে।
দাবি করা হয়েছিল, ইরানের নৌসেনার যুদ্ধজাহাজ 'আইআরআইএস বুশেহ্র' শ্রীলঙ্কার একটি বন্দরে আশ্রয় নিয়েছে। তবে মঙ্গলবার কলম্বো সেই দাবিকে আংশিক খণ্ডন করে জানায়, জাহাজটি তাদের জলসীমায় থাকলেও সরাসরি কোনও বন্দরে নেই। শ্রীলঙ্কার মন্ত্রিসভার মুখপাত্র সরাসরি যুদ্ধজাহাজটির নাম না করেই জানান, পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার পর সেটিকে শেষ পর্যন্ত সরিয়ে নেওয়া হবে।

এর আগে গত ৭ মার্চ শ্রীলঙ্কা সরকার জানিয়েছিল, ইরানি যুদ্ধজাহাজটির ১৫ জন ক্রু সদস্য, আধিকারিক ও নাবিক এখন শ্রীলঙ্কার একটি নৌঘাঁটিতে রয়েছেন। জাহাজটিতে যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়ায় তা মেরামতের জন্য ইরানের নৌ ইঞ্জিনিয়ারদের পাশাপাশি শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনীও সহায়তা করছে। যদিও এই মেরামতির কাজ শ্রীলঙ্কার জলসীমার ভেতরে হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু জানায়নি কলম্বো।
এই ঘটনার মধ্যেই সামনে আসে আর একটি বড় ঘটনা। গত ৪ মার্চ ভোরে ভারত মহাসাগরে ইরানের যুদ্ধজাহাজ 'আইআরআইএস ডেনার' উপর হামলা চালায় আমেরিকা। শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ উপকূল থেকে প্রায় ৪০ নটিক্যাল মাইল দূরে একটি মার্কিন ডুবোজাহাজ টর্পেডো হামলা চালিয়ে জাহাজটিকে ধ্বংস করে দেয়। জানা গেছে, ভারতীয় নৌবাহিনীর আমন্ত্রণে বিশাখাপত্তনমে একটি মহড়ায় অংশ নিতে নিরস্ত্র অবস্থায় যাচ্ছিল ওই রণতরী।
এই হামলায় এখনও পর্যন্ত ৮৭ জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে ও ৩২ জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা গেছে। তবে প্রায় ৬০ জন ক্রু সদস্যের এখনও কোনও খোঁজ মেলেনি। আশঙ্কা করা হচ্ছে, তাঁদের অনেকেই প্রাণ হারিয়েছেন। উদ্ধার হওয়া ৩২ জন নাবিককে শ্রীলঙ্কার দক্ষিণের বন্দর শহর গলের একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, ভারত মহাসাগরে থাকা তৃতীয় ইরানি যুদ্ধজাহাজ 'আইআরআইএস লাভান' এর অবস্থান নিয়েও জল্পনা বাড়ছে। কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের দাবি, জাহাজটি বর্তমানে কেরলের কোচি বন্দরে রয়েছে। যদিও এবিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক ভাবে কিছু জানায়নি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকার।
বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জানিয়েছিলেন, ইরানের উপর আমেরিকা ও ইজ়রায়েলের হামলার সময় ১৮৩ জন ক্রু সদস্য নিয়ে 'আইআরআইএস লাভান' ৪ মার্চ কোচিতে নোঙর করে। মানবিক কারণে তাদের ভারতীয় নৌঘাঁটিতে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। তবে বর্তমানে ওই যুদ্ধজাহাজটির সঠিক অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু জানা যায়নি।
উল্লেখ্য, ১ মার্চ তেহরান সরকার এবিষয়ে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানিয়েছিল নয়াদিল্লিকে। আর তার ঠিক পরের দিন থেকেই ইরানের বিরুদ্ধে যৌথবাহিনীর হামলা শুরু হয়, যার জের এখনও স্পষ্ট ভারত মহাসাগরের পরিস্থিতিতে।












Click it and Unblock the Notifications