বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট একইদিনে হবে, জানালেন মহম্মদ ইউনূস
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনূস ঘোষণা করেছেন যে, আগামী বছরের সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই সনদ নিয়ে গণভোট একইসঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে। এদিন জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে তিনি এই তথ্য জানিয়েছেন।
এর আগে, বাংলাদেশ জামাতে ইসলামীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল যে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগেই গণভোটের আয়োজন করা হোক। অন্যদিকে, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দল বিএনপি এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করে বলেছিল, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সংস্কার প্রস্তাব সংক্রান্ত কোনও গণভোট করানো যাবে না।

এই ভিন্ন মতামতের পরিপ্রেক্ষিতে মহম্মদ ইউনূস জানান যে, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনার পর জাতীয় ঐকমত্য কমিশন অন্তর্বর্তী সরকারকে গণভোটের সময়সূচি নির্ধারণের দায়িত্ব দিয়েছিল। তারপরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গত ২৮ অক্টোবর, অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে দুটি বিকল্প সুপারিশ জমা দেয়। প্রথম সুপারিশে বলা হয়েছে, সনদের সংবিধান সম্পর্কিত সংস্কার প্রস্তাবগুলি বাস্তবায়নে বিশেষ আদেশ জারি করে তার ভিত্তিতে গণভোট হবে। যদি গণভোটে প্রস্তাব পাশ হয়, তাহলে আগামী জাতীয় সংসদ একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ হিসেবে ২৭০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংস্কার করবে। এই সময়ের মধ্যে সংসদ ব্যর্থ হলে সংস্কার প্রস্তাবগুলি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংবিধানে যুক্ত হয়ে যাবে। দ্বিতীয় সুপারিশটিও প্রায় একই রকম, তবে সেখানে ২৭০ দিনের মধ্যে সংস্কার কাজ শেষ করার কথা বলা হয়েছে। এক্ষেত্রে সংস্কার কাজ শেষ না হলে কী হবে, সে বিষয়ে কোনও স্পষ্ট উল্লেখ নেই।
২০২৫ বছরের ৫ অগাস্ট ক্ষমতার পালাবদলের বর্ষপূর্তিতে '৩৬ জুলাই উদযাপন’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করা হয়েছিল। ২৮ দফার এই ঘোষণাপত্রটি ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের একটি দলিল, যা এই অভ্যুত্থানকে রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে।
এই সনদে মুজিবুর রহমান এবং শেখ হাসিনার শাসনকালে 'আওয়ামী লীগের স্বৈরাচারের’ পাশাপাশি দুই সেনাশাসক জিয়াউর রহমান (বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা) এবং হুসেন মুহম্মদ এরশাদের (জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা) আমলেরও সমালোচনা করা হয়েছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের 'জাতীয় বীর’ হিসেবে ঘোষণার কথাও বলা হয়েছে এই সনদে। যদিও এর বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে এখনও মতবিরোধ রয়েছে। জামাত নেতৃত্ব সনদে সই করলেও, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের একাংশের দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এখনও এটিতে সই করেনি।












Click it and Unblock the Notifications