জঈশ-ই-মহম্মদ প্রধান মাসুদ আজহার একজন জঙ্গি, মেনে নিলেন মুশারফ
ভারতের পাঠানকোট হামলার মূল চক্রী মৌলানা মাসুদ আজহার যে এক একজন সন্ত্রাসবাদী তা কার্যত স্বীকার করে নিলেন পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জেনারেল পারভেজ মুসারফ।
ইসালামাবাদ, ২৮ অক্টোবর : ভারতের পাঠানকোট হামলার মূল চক্রী মৌলানা মাসুদ আজহার যে এক একজন সন্ত্রাসবাদী তা কার্যত স্বীকার করে নিলেন পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জেনারেল পারভেজ মুসারফ। জঙ্গি গোষ্ঠী জঈশ-ই-মহম্মদের প্রধান মাসুদ আজহার পাকিস্তানে একাধিক আত্মঘাতী বিস্ফোরণের সঙ্গেও জড়িত। এমন বিস্ফোরক বিবৃতি দিয়েছএন পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জেনারেল। [আমেরিকা সুর চড়াতেই মাসুদ আজহার-সহ ৫,১০০ জঙ্গি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করল পাকিস্তান]
উল্লেখ্য জাতি সংঘের মঞ্চে জঈশ-ই-মহম্মদের প্রধান মাসুদ আজহার একজন আন্তর্জাতিক সন্ত্রাবাদী তা ঘোষনা করার জন্য অনেক আগেই ভারত দাবি জানিয়েছিল। কিন্তু চিন বাধা দেওয়ার ফলে সেই ঘোষনা সম্ভব হয়নি। চিন কেন এই পদক্ষেপ নিয়েছিল সেই প্রশ্ন যখন মুশারফের সামনে রাখা হয়, তিনি সম্পূর্ণ এই প্রসঙ্গ এড়িয়ে যান। [১৯৯৪ সালে সাংবাদিক সেজে ভারতে আসা যুবকই আজকের মাসুদ আজহার]

একটি বেসরকারি সংবাদ মাধ্যেমের মুখোমুখি হয়ে পাকিস্তান এবং সন্ত্রাসবাদ প্রসঙ্গে একাধিক প্রশ্নের উত্তর দেন পারভেজ মুশারফ। যার মধ্যে সবথেকে বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি ছিল মাসুদ আজহার কে জঙ্গি বলে মেনে নেওয়া। [মাসুদ আজহার, হাফিজ সঈদের বিরুদ্ধে কেন কোনও পদক্ষেপ নিচ্ছে না পাকিস্তান সরকার? প্রশ্ন পাক মিডিয়ার!]
সংবাদ মাধ্যমটির পক্ষ থেকে ভারতের বিরুদ্ধে চরবৃত্তির দায়ে ধৃত পাক দূতাবাসের কর্মীর গ্রেফতারির প্রসঙ্গেও পারভেজ মুশারফের প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হয়। বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত নন বলে সুকৌশলে এই প্রশ্নটি এড়িয়ে যান। যদিও পাক প্রশাসন এই গ্রেফতারিকে মিথ্য বলে আগেই অস্বীকার করেছে।
ভারতের মাটিতে একাধিক বার জঙ্গি হামলা চলিয়ে সন্ত্রাস সৃষ্টি করেত চেয়েছে পাক মদতপুষ্ঠ জঙ্গি গোষ্ঠী। মুম্বই হামলা, পাঠানকোট হামলা, উরি হামলা সহ একাধিক জঙ্গি হামলায় পাকিস্তানের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মদতের প্রমান আগেও পাওয়া গিয়েছে। পাক প্রশাসনকে সব কিছু তথ্য প্রমান দেওয়ার পরেও নীরব থেকেছে তারা।
উল্লেখ্য উরি হামলার পরে সারা বিশ্ব পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদী রাষ্ট্র হিসাবে ঘোষনা করার দাবি জানায়। মার্কিন প্রশাসনের তরফেও পাকিস্তানের আশ্রিত জঙ্গিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করার হুঁশিয়ারি দেওয়া সত্ত্বেও খুব একটা লাভ হয়নি। তবে কিছুদিন আগেই আমেরিকা সুর চড়াতেই মাসুদ আজহার সহ সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের ৫,১০০ টি অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করেছে পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ। এই দিকে পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জেনারেল মুশারফের স্বীকোরোক্তির পরে আরও একবার পাকিস্তান এবং সন্ত্রাসবাদ সম্পর্কে তাদের অবস্থানের বাস্তব ছবিটাই প্রকাশ্যে এসে পড়ল।












Click it and Unblock the Notifications