Iran-Israel: পরস্পরকে ফের আক্রমণ ইরান-ইজরায়েলের, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বাড়ল উত্তেজনা
মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি প্রতিদিনই যেন নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া সতর্কবার্তা এবং ইরানের পরমাণু কেন্দ্রে মার্কিন হামলার পরই ইজরায়েলের ওপর নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। এই হামলায় জেরুজালেমসহ ইজরায়েলের বিভিন্ন স্থানে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে এবং দক্ষিণ ইজরায়েলের বেশ কিছু এলাকায় ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাট হয়েছে। এর পাল্টা ইজরায়েলও ইরানের সামরিক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পাল্টা আঘাত হেনেছে। যার ফলে তেহরানের বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে।
এদিন সোমবার ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) ইজরায়েলে হামলার দায় স্বীকার করেছে। ইজরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF) জানিয়েছে, তাঁরা ইরানের ভূখণ্ড থেকে ছোড়া একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে এবং তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে। জানা গিয়েছে, ইজরায়েলের বিভিন্ন স্থানে আটটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে।

জানা গিয়েছে, ইরানের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ 'খাইবার' ক্ষেপণাস্ত্র, যা একাধিক ওয়ারহেড বহন করতে সক্ষম, এই হামলায় ব্যবহৃত হয়েছে। এর ফলে ইজরায়েলের দক্ষিণে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোয় আঘাত হেনেছে এবং বহু এলাকায় বিদ্যুৎ পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে। ইজরায়েল ইলেকট্রিক কর্পোরেশন জানিয়েছে, তাঁরা বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সহায়তায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিকাঠামো মেরামতের কাজ চলছে।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এই হামলা এমন এক সময়ে ঘটল যখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইজরায়েলের মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে। এর আগে, শনিবার রাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম 'ট্রুথ সোশ্যাল'-এ জানিয়েছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বিমান সফলভাবে ইরানের তিনটি পরমাণু কেন্দ্রে হামলা চালিয়েছে। যার মধ্যে ফোরদো পারমাণবিক কেন্দ্র সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। তিনি ইরানকে সতর্ক করে বলেছিলেন যে, যদি তেহরান শান্তি প্রতিষ্ঠা না করে, তাহলে আরও হামলা চালানো হবে।
মার্কিন হামলার পর ইরানের বিদেশমন্ত্রী সইদ আব্বাস এই হামলাকে নিন্দা করেছিলেন এবং হুঁশিয়ারি দেন যে, এই হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে 'কঠোর জবাব' দেওয়া হবে। এদিনের ইরানি হামলা সেই হুঁশিয়ারিরই প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে হামলার পর ইজরায়েলও চুপ করে বসে নেই। ইজরায়েলের বিমান বাহিনী ইরানের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি, ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র, রাডার সিস্টেম এবং এমনকী তেহরানের একটি গুরুত্বপূর্ণ কারাগার, যেখানে রাজনৈতিক বন্দিদের রাখা হয়, সেখানেও হামলা চালিয়েছে। এই হামলার ফলে তেহরানের কিছু অংশেও ব্যাপক বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। ইজরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশংসা করেছেন এবং জানিয়েছেন যে, ইরানের পরমাণু কর্মসূচির বিরুদ্ধে ইজরায়েল নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।
এই পরস্পর হামলা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাতের তীব্রতা বাড়িয়ে তুলছে। এখন দেখার বিষয়, এই সংঘাত আগামী দিনে কোনপথে মোড় নেয় এবং আন্তর্জাতিক গোষ্ঠী এই উত্তেজনায় জড়িয়ে পড়ে নাকি তা প্রশমনে উদ্য়োগী হয়।












Click it and Unblock the Notifications