ইরানের মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা! কুয়েত ও বাহরিনের সামরিক ঘাঁটিতে আছড়ে পড়ল ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হামলার প্রতিশোধ হিসেবে কুয়েত ও বাহরিনের মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলিতে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। এদিন বুধবার ভোরে এই হামলাগুলি সংগঠিত হয়েছে। এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধি করেছে।
ইরানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে যে, একটি ইরানি টেলিযোগাযোগ অ্যান্টেনা এবং একটি তেল ট্যাঙ্কারে মার্কিন হামলার প্রতিক্রিয়ায় তারা উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন পঞ্চম নৌবহর এবং একটি মার্কিন বিমান ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। ইরানের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, "একটি টেলিযোগাযোগ অ্যান্টেনা এবং একটি ইরানি তেল ট্যাঙ্কার লক্ষ্য করে মার্কিন হামলার প্রতিক্রিয়ায় আমরা মার্কিন পঞ্চম নৌবহর ও ওই অঞ্চলের একটি মার্কিন বিমান ঘাঁটিতে হামলা করেছি।"

সামরিক বাহিনীর বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, আগে থেকেই সতর্ক করা হয়েছিল যে যেকোনো আগ্রাসনের জবাব "ভিন্ন ও আরও কঠোর" হবে। ইরান জোর দিয়ে জানায়: "আমরা আগেই সতর্ক করেছিলাম যে আগ্রাসন হলে তার প্রতিক্রিয়া ভিন্ন ও কঠোর হবে, এবং আজ রাতে আমরা আমাদের কথা রেখেছি।"
কুয়েতের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, বুধবার ভোরে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সফলভাবে প্রতিহত করেছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বাসিন্দারা মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনার খবর দিয়েছেন। কুয়েতের সেনাবাহিনীর জেনারেল স্টাফ এক প্রাথমিক বিবৃতিতে জানায়, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা "শত্রুপক্ষের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিরোধে নিয়োজিত" ছিল এবং বিস্ফোরণের শব্দ প্রতিরক্ষারই ফল।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসার পর সামরিক বাহিনী এক্স-এ একটি দ্বিতীয় জনসতর্কতা জারি করে। এতে নাগরিকদের কোনও ধ্বংসাবশেষ, শার্পনেল বা অপরিচিত বস্তু থেকে দূরে থাকতে বলা হয়। কর্মকর্তাদের সতর্কবাণী ছিল, এই ধরনের অবশেষ জননিরাপত্তার জন্য গুরুতর ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের মুখপাত্র কর্নেল সাউদ আব্দুলআজিজ আল-ওতাইবি জনসাধারণকে যেকোনও সন্দেহজনক ধ্বংসাবশেষ ১১২ হটলাইনে জানাতে আহ্বান জানান। সামরিক বাহিনী মানুষকে অনুমোদিত সরকারি সূত্র ব্যবহার ও নিরাপত্তা নির্দেশাবলী কঠোরভাবে অনুসরণের পরামর্শ দেয়। এক বিবৃতিতে তারা বলেন, "সকলের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী জেনারেল স্টাফ প্রত্যেককে সহযোগিতা করার এবং জারি করা নির্দেশিকা মেনে চলার আহ্বান জানাচ্ছে।"
এদিকে, বাহরিনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়েছে যে বুধবার একটি সতর্কতা সাইরেন সক্রিয় করা হয়েছিল। মন্ত্রক নাগরিক ও বাসিন্দাদের শান্ত থাকতে এবং সরকারি নিরাপত্তা নির্দেশাবলী মেনে নিকটতম নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে উৎসাহিত করে। একই সময়ে, ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি (IRIB) এক্স-এ একটি ভিডিও ফুটেজ শেয়ার করেছে, যেখানে দাবি করা হয়েছে যে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো বাহরিনের আকাশসীমা পেরিয়ে যাচ্ছে।
এই হামলার একদিন আগে, অর্থাৎ ২ জুন, ২০২৬ তারিখে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কেসিম দ্বীপে একটি হামলা চালায়। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, তারা ইরানের একটি সামরিক গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশনকে লক্ষ্যবস্তু করেছে, যা ড্রোন অপারেশন পরিচালনায় ব্যবহৃত হয়।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) জানায়, কেসিম হামলার আগে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের একাধিক ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছিল। তবে, সেন্টকম দ্রুত একটি ফ্যাক্ট-চেক জারি করে অঞ্চলে তাদের ঘাঁটিতে হামলার বিষয়ে ইরানের দাবি অস্বীকার করে। অন্যদিকে, আইআরআইবি পারস্য উপসাগর, হরমুজ প্রণালী এবং কেসিম দ্বীপে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের "শত্রুতাপূর্ণ কার্যকলাপের" অভিযোগ আনে।












Click it and Unblock the Notifications