রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে প্রস্তাব UN-এর! ভোটদানে বিরত থাকল ভারত এবং চিন
বছর কাটলেও এখনও চলছে রাশিয়া এবং ইউক্রেন যুদ্ধ! আর এই যুদ্ধের এক বছরের মাথায় রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভায় একটি প্রস্তাব আনা হয়। মূলত দীর্ঘস্থায়ী শান্তি'র খোঁজেই এই প্রস্তাব আনা হয়। একাধিক দেশ রাশিয়ার বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছে। যাতে অবিলম্বে এই যুদ্ধ বন্ধ হয় এবং রাশিয়া তাঁর সেনাকে দেশে ফিরিয়ে নেয়।

UNGA-তে মোট ১৯৩টি সদস্য দেশ রয়েছে। যার মধ্যে ১৪১ টি দেশ প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে। তবে ভারত-চিন সহ ৩২ টি দেশ যদিও এই ভোটাভুটিতে অংশ নেয়নি। যদিও আগেও ভারত এই প্রস্তাবে ভোট না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তবে ভারত সবসময়েই শান্তিপূর্ণভাবে কূটনৈতিক মাধ্যমে রাশিয়া এবং ইউক্রেন যুদ্ধের শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে। আর এই বিষয়ে বারবার মুখ খুলেছেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই অবস্থায় ভারতের এই সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এই প্রস্তাবে উপর ভোটাভুটিতে একাধিক দেশ ইউক্রেনের উপর রাশিয়ার আঘাতের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। এমনকি ইউক্রেন থেকে অবিলম্বে সেনাবাহিনীকে রাশিয়া যাতে সেনাকে ফিরিয়ে নেয় সেই দাবিও এদিন উঠেছে UNGA-এর সাধারণ সভায়। একই সঙ্গে অবিলম্বে শান্তি ফেরানোর দাবিও জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে রাষ্ট্রপুঞ্জের ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধি রুচিরা কাম্বোজ বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন নিয়ে ভারতের অবস্থান খুবই স্পষ্ট। আর তা আলোচনা ও কূটনীতির মাধ্যমেই এ সমস্যার সমাধান সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন রুচিরা। শুধু তাঁর মতে, ভারত রাষ্ট্রপুঞ্জের সনদের নীতিগুলি বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে সবসময় ভারত আলোচনা এবং কূটনীতিকে সমর্থন করে বলে দাবি স্থায়ী প্রতিনিধির। তাঁর মতে, এটাই একমাত্র রাস্তা। তবে যেহেতু এর উদ্দেশ্য সীমিত এবং দীর্ঘমেয়াদে প্রত্যাশিত ফলাফল অর্জন করা যাবে না, তাই এই প্রস্তাবে ভোট না দেওয়ার কথা বলেন রুচিরা কাম্বোজ।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কথা তুলে ধরে ভারতীয় এই কূটনীতিক বলেন, মানুষকে জীবনকে বাজি রেখে কোনও সমাধানই হতে পারে না। এমনকি আমাদের প্রধানমন্ত্রী বারবার বলেছেন যে এটা যুদ্ধের সময় নয়। এই ধরণের কার্যকলাপ কখনও মানুষের ভালোর জন্যে হতে পারে না বলেও মন্তব্য করেছেন।
ইউক্রেন ইস্যুতে রুচিরা কাম্বোজ বলেন, ভারত সবসময় মানবিক ভাবে দেখে বিষয়টি। ভারত সবসময়ে ইউক্রেনের পাশে আছে। নানা ভাবে সাহায্য করছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
তবে এই প্রস্তাবে ভারতের দিকে বিশেষ নজর ছিল ইউক্রেনের। এই প্রস্তাবে সমর্থন করতে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালকে ফোন করে ছিলেন জ়েলেনস্কির সচিবালয়ের প্রধান আধিকারিক আন্দ্রেই ইয়ারমাক। কিন্তু এরপরেই ভোটদানে বিরত থাকল ভারত।












Click it and Unblock the Notifications